ঋণের বোঝা মাথায়, দেড় মাসেও উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া পিকআপ
মোল্লাহাটে মহাসড়কের পাশে ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে গাড়ি চুরি, রিমান্ডে আসামি মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আল হাফিজ (বাগেরহাট) মোল্লারহাট প্রতিনিধি:- ঋণের টাকা দিয়ে কেনা ব্যবসায়িক পিকআপ চুরি হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো গাড়িটির সন্ধান মেলেনি। বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রহিমা ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণ পাশ থেকে পিকআপটি চুরির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে চুরি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী মো. মারুফ মীরের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তাঁর মালিকানাধীন মাহেন্দ্রা কোম্পানির বোলেরো পিকআপটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-২০৪৯। গাড়িটির ইঞ্জিন নম্বর CHKI A10107 এবং চ্যাসিস নম্বর MAI ZU2GHKKI A12012। এজাহারে গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ১৭ জুলাই ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রহিমা ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণ পাশে পিকআপটি রেখে যান চালক মুরসালিন। পরে রাতে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন ভোরে গাড়িটি নিতে এসে নির্ধারিত স্থানে পিকআপটি দেখতে পাননি।
এরপর আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও গাড়িটির সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি মালিককে জানান চালক। পরে ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি পিকআপ নিয়ে মহাসড়ক ধরে ঢাকার দিকে চলে যায়। ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার পর মোল্লাহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় চুরি মামলা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এদিকে চুরি যাওয়া গাড়ি উদ্ধারে তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, “আন্তরিকভাবে দুঃখিত যে আমার থানা থেকে একটি পিকআপ চুরি হয়েছে। গত ১৭ জুলাই গাড়িটি চুরি হয়েছে। এখনো আমরা গাড়িটি উদ্ধার করতে পারিনি। তবে এ চুরির সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তার নাম আমিন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এবং তার সঙ্গে জড়িত আরও দুজনের নাম বলেছে। আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হব।”
ঋণের বোঝা মাথায় দুশ্চিন্তায় মালিক চুরি যাওয়া পিকআপটি কিস্তিতে ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মারুফ মীর। গাড়িটি তাঁর ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হতো। পিকআপটি চুরি যাওয়ার পর একদিকে যেমন ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে গাড়ির ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
মারুফ মীর বলেন, গাড়িটি দ্রুত উদ্ধার না হলে তাঁর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। তিনি দ্রুত গাড়িটি উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মহাসড়কের পাশে চুরি, প্রশ্ন স্থানীয়দের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে একটি ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে কীভাবে একটি পিকআপ চুরি হয়ে গেল—এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করে চুরি যাওয়া গাড়িটি দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে চুরি যাওয়া পিকআপটি উদ্ধার করা হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
ঋণের বোঝা মাথায়, দেড় মাসেও উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া পিকআপ
মোল্লাহাটে মহাসড়কের পাশে ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে গাড়ি চুরি, রিমান্ডে আসামি মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আল হাফিজ (বাগেরহাট) মোল্লারহাট প্রতিনিধি:- ঋণের টাকা দিয়ে কেনা ব্যবসায়িক পিকআপ চুরি হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো গাড়িটির সন্ধান মেলেনি। বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রহিমা ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণ পাশ থেকে পিকআপটি চুরির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে চুরি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী মো. মারুফ মীরের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তাঁর মালিকানাধীন মাহেন্দ্রা কোম্পানির বোলেরো পিকআপটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-২০৪৯। গাড়িটির ইঞ্জিন নম্বর CHKI A10107 এবং চ্যাসিস নম্বর MAI ZU2GHKKI A12012। এজাহারে গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ১৭ জুলাই ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রহিমা ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণ পাশে পিকআপটি রেখে যান চালক মুরসালিন। পরে রাতে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন ভোরে গাড়িটি নিতে এসে নির্ধারিত স্থানে পিকআপটি দেখতে পাননি।
এরপর আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও গাড়িটির সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি মালিককে জানান চালক। পরে ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি পিকআপ নিয়ে মহাসড়ক ধরে ঢাকার দিকে চলে যায়। ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার পর মোল্লাহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় চুরি মামলা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এদিকে চুরি যাওয়া গাড়ি উদ্ধারে তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, “আন্তরিকভাবে দুঃখিত যে আমার থানা থেকে একটি পিকআপ চুরি হয়েছে। গত ১৭ জুলাই গাড়িটি চুরি হয়েছে। এখনো আমরা গাড়িটি উদ্ধার করতে পারিনি। তবে এ চুরির সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তার নাম আমিন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এবং তার সঙ্গে জড়িত আরও দুজনের নাম বলেছে। আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা গাড়িটি উদ্ধার করতে সক্ষম হব।”
ঋণের বোঝা মাথায় দুশ্চিন্তায় মালিক চুরি যাওয়া পিকআপটি কিস্তিতে ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মারুফ মীর। গাড়িটি তাঁর ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হতো। পিকআপটি চুরি যাওয়ার পর একদিকে যেমন ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে গাড়ির ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
মারুফ মীর বলেন, গাড়িটি দ্রুত উদ্ধার না হলে তাঁর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। তিনি দ্রুত গাড়িটি উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মহাসড়কের পাশে চুরি, প্রশ্ন স্থানীয়দের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে একটি ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে কীভাবে একটি পিকআপ চুরি হয়ে গেল—এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করে চুরি যাওয়া গাড়িটি দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে চুরি যাওয়া পিকআপটি উদ্ধার করা হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন