মদনে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক, সেচ নিয়ে বিপাকে কৃষক
মোঃ রাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:-নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ইরি-বোরো মৌসুম শুরুর আগেই গভীর নলকূপের জন্য স্থাপিত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরির হিড়িক পড়েছে। এতে সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এ ঘটনায় সেচপাম্প-সংশ্লিষ্ট কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে সংঘবদ্ধ চোরচক্র অন্তত ৩ থেকে ৪টি গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে গেছে। ফলে এসব গভীর নলকূপ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে নলকূপের মালিক ও ম্যানেজাররাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পশ্চিম ফতেপুর এলাকার কালাম ও রৌদ্রশ্রী-উছমান এবং নায়েকপুর ইউনিয়নের মাখনা গ্রামের হিরণের গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ছাড়া গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি করার সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেলে চোরেরা কিছু মালামাল ফেলে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পশ্চিম ফতেপুরের বাসিন্দা চান মিয়া বলেন, “আমার মেয়ের জামাই রাত ১টার দিকে হাওর থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুজন লোককে দেখতে পায়। পরে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে একজনকে ধলা গ্রামের সানোয়ারের ছেলে বলে পরিচয় পাওয়া যায়। অপরজন শিয়ালধর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা যায়। তবে তার নাম আমার মনে নেই। পরে আমার মেয়ের জামাই টর্চলাইট দিয়ে দেখতে পায়, ট্রান্সফরমার খুলে রেখে চোরেরা পালিয়ে গেছে।”
ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় এখন পুরো উপজেলা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুম সামনে থাকায় সেচ ব্যবস্থা নিয়ে হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মদন উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আব্দুল্লাহ ইবনে আজিজ বলেন, “সংঘবদ্ধ চোরচক্র গভীর নলকূপের জন্য স্থাপিত ট্রান্সফরমারের লোড তার চুরি করে নিয়ে যায়। কারণ গভীর রাতে এসব এলাকায় সাধারণত মানুষজন থাকে না। লোড তারের ভেতরের অংশ তামার হওয়ায় এগুলোর মূল্য বেশি। চোরচক্র তারের ওপরের কভার পুড়িয়ে তামা বের করে বিক্রি করে। এ ঘটনায় আমরা মদন থানায় জিডি করেছি।”
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মদনে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক, সেচ নিয়ে বিপাকে কৃষক
মোঃ রাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:-নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ইরি-বোরো মৌসুম শুরুর আগেই গভীর নলকূপের জন্য স্থাপিত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরির হিড়িক পড়েছে। এতে সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এ ঘটনায় সেচপাম্প-সংশ্লিষ্ট কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে সংঘবদ্ধ চোরচক্র অন্তত ৩ থেকে ৪টি গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে গেছে। ফলে এসব গভীর নলকূপ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে নলকূপের মালিক ও ম্যানেজাররাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পশ্চিম ফতেপুর এলাকার কালাম ও রৌদ্রশ্রী-উছমান এবং নায়েকপুর ইউনিয়নের মাখনা গ্রামের হিরণের গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ছাড়া গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি করার সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেলে চোরেরা কিছু মালামাল ফেলে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পশ্চিম ফতেপুরের বাসিন্দা চান মিয়া বলেন, “আমার মেয়ের জামাই রাত ১টার দিকে হাওর থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুজন লোককে দেখতে পায়। পরে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে একজনকে ধলা গ্রামের সানোয়ারের ছেলে বলে পরিচয় পাওয়া যায়। অপরজন শিয়ালধর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা যায়। তবে তার নাম আমার মনে নেই। পরে আমার মেয়ের জামাই টর্চলাইট দিয়ে দেখতে পায়, ট্রান্সফরমার খুলে রেখে চোরেরা পালিয়ে গেছে।”
ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় এখন পুরো উপজেলা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুম সামনে থাকায় সেচ ব্যবস্থা নিয়ে হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মদন উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আব্দুল্লাহ ইবনে আজিজ বলেন, “সংঘবদ্ধ চোরচক্র গভীর নলকূপের জন্য স্থাপিত ট্রান্সফরমারের লোড তার চুরি করে নিয়ে যায়। কারণ গভীর রাতে এসব এলাকায় সাধারণত মানুষজন থাকে না। লোড তারের ভেতরের অংশ তামার হওয়ায় এগুলোর মূল্য বেশি। চোরচক্র তারের ওপরের কভার পুড়িয়ে তামা বের করে বিক্রি করে। এ ঘটনায় আমরা মদন থানায় জিডি করেছি।”
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন