ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রৌমারীতে সার ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

রৌমারীতে সার ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

রৌমারীতে সার ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.:- কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিলারের দেখা না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা একটি সার ডিলার পয়েন্টের গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে উপজেলার মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্দবেড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকার কৃষকেরা সার নিতে গভীর রাত থেকেই ওই ডিলার পয়েন্টে এসে জড়ো হতে থাকেন। কেউ কেউ রাত দুইটার দিকে এসে গুদামের সামনে লাইনে দাঁড়ান। সকাল হলেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

পরে সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাঁরা গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সার নিয়ে যেতে শুরু করেন।

মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম  বলেন, তাঁদের গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল। সকালে প্রায় এক হাজার কৃষক সার নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কে আগে সার নেবেন, তা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁরা থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এ সময়ের মধ্যে কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ বস্তা সার নিয়ে যান।

সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় গুদামে থাকা বাকি সার এখন বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণ ও মজুতের হিসাব শেষ হলে কত বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সার ডিলার মতিয়ার রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যান তাঁরা। এর মধ্যেই ধৈর্যহারা কৃষকেরা গুদাম থেকে আনুমানিক শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। দিন শেষে হিসাব করে সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা ধৈর্য ধরে সার উত্তোলন করলে কোনো সমস্যা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীকাল থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এতে সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া গুজবও দূর হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, তিনি নিজে বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। আগাম ভুট্টা ও বেগুন চাষের জন্য কৃষকেরা বাড়তি সার মজুত করায় কোথাও কোথাও সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে সার বিতরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রৌমারীতে সার ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রৌমারীতে সার ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.:- কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিলারের দেখা না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা একটি সার ডিলার পয়েন্টের গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে উপজেলার মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্দবেড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকার কৃষকেরা সার নিতে গভীর রাত থেকেই ওই ডিলার পয়েন্টে এসে জড়ো হতে থাকেন। কেউ কেউ রাত দুইটার দিকে এসে গুদামের সামনে লাইনে দাঁড়ান। সকাল হলেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

পরে সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাঁরা গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সার নিয়ে যেতে শুরু করেন।

মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম  বলেন, তাঁদের গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল। সকালে প্রায় এক হাজার কৃষক সার নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কে আগে সার নেবেন, তা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁরা থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এ সময়ের মধ্যে কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ বস্তা সার নিয়ে যান।

সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় গুদামে থাকা বাকি সার এখন বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণ ও মজুতের হিসাব শেষ হলে কত বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সার ডিলার মতিয়ার রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যান তাঁরা। এর মধ্যেই ধৈর্যহারা কৃষকেরা গুদাম থেকে আনুমানিক শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। দিন শেষে হিসাব করে সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা ধৈর্য ধরে সার উত্তোলন করলে কোনো সমস্যা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামীকাল থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এতে সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া গুজবও দূর হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, তিনি নিজে বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। আগাম ভুট্টা ও বেগুন চাষের জন্য কৃষকেরা বাড়তি সার মজুত করায় কোথাও কোথাও সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে সার বিতরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ