ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

ডেঙ্গু মশা নিধনে ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেঙ্গু মশা নিধনে ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাউজান চিকদাইরে শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী মহোৎসব সম্পন্ন

রাউজান চিকদাইরে শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী মহোৎসব সম্পন্ন

ওসমানীনগর প্রেসক্লাবের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ওসমানীনগর প্রেসক্লাবের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

উখিয়ায় দন্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে যাচ্ছে এলিট ডেন্টাল কেয়ার

উখিয়ায় দন্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে যাচ্ছে এলিট ডেন্টাল কেয়ার

৫জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পুইছড়ি নিউ জেনারেশন সোসাইটি'র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিতরণ- অনুষ্ঠিত হয়।  ‎

৫জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পুইছড়ি নিউ জেনারেশন সোসাইটি'র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিতরণ- অনুষ্ঠিত হয়। ‎

সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বোয়ালখালী পূর্ব শাকপুরায় শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬ তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী মহোৎসব অনুষ্ঠিত

বোয়ালখালী পূর্ব শাকপুরায় শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬ তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী মহোৎসব অনুষ্ঠিত

চিকিৎসকের নথিতে কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিউর উল্লেখ, উজ্জ্বল মিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান; মিথ্যা মামলার আশঙ্কার দাবি

চিকিৎসকের নথিতে কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিউর উল্লেখ, উজ্জ্বল মিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান; মিথ্যা মামলার আশঙ্কার দাবি

গোপালগঞ্জে ব্যাংকে জমা পড়ছে না গ্রাহকের বিল, অভিযোগ উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ।

গোপালগঞ্জে ব্যাংকে জমা পড়ছে না গ্রাহকের বিল, অভিযোগ উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ।

গোপালগঞ্জে ব্যাংকে জমা পড়ছে না গ্রাহকের বিল, অভিযোগ উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ।

 গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা বিপুল পরিমাণ বিল সরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে সরাসরি নগদে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে গত ১৪ মাসে প্রায় ২৪ লাখ টাকার গরমিল দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্ল্যান্টটি নির্মাণ করে। ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণ শেষ হলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পানি সরবরাহ শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহকদের বিল জমা হবে ইউনিয়ন পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ ব্যাংক হিসাবে।

তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বর্তমানে প্রায় ৯০০ গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ জন ব্যাংকে বিল জমা দিচ্ছেন। বাকি প্রায় ৮০০ গ্রাহকের কাছ থেকে নগদে টাকা নেওয়া হচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা জমা হওয়ার কথা থাকলেও ব্যাংকে জমা হয়েছে মাত্র ৬ লাখ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

পাটগাতী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ রঞ্জু খান বলেন,“প্রকল্পের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম চলছে। কতজন গ্রাহক সংযোগ পেয়েছে তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে না গিয়ে সরাসরি হাতে নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পানিতে সঠিকভাবে পরিশোধন করা হচ্ছে না এবং অনেক সময় ঘোলাটে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়মিত বিল দেওয়া সত্ত্বেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।গ্রাহক মুরছালিন শেখ বলেন,“আগে প্রতিদিন পানি পেতাম, এখন একদিন পর পর দেয়। এতে দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে গেছে।”

আরেক গ্রাহক আলেয়া বেগম বলেন,“পানি ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় নেই। একদিন পর পর পানি দিলে আমরা খুব বিপদে পড়ি।”

এদিকে, গ্রাহকদের অভিযোগ—পানি সরবরাহ একদিন পর পর দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিল কম আসছে এবং সেই সাশ্রয় হওয়া অর্থও ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে।

পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস বলেন,“চুক্তি অনুযায়ী দুই বছর প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের। এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার বলেন,

“সব গ্রাহক বিল পরিশোধ করছেন না, তাই ব্যাংকে টাকা কম। পানি একদিন পর পর দেওয়া হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের নির্দেশে।”

তবে ২৪ লাখ টাকার গরমিলের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলছেন, প্ল্যান্ট উদ্বোধনের পর থেকেই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


গোপালগঞ্জে ব্যাংকে জমা পড়ছে না গ্রাহকের বিল, অভিযোগ উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ।

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জে ব্যাংকে জমা পড়ছে না গ্রাহকের বিল, অভিযোগ উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ।

 গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা বিপুল পরিমাণ বিল সরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে সরাসরি নগদে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে গত ১৪ মাসে প্রায় ২৪ লাখ টাকার গরমিল দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্ল্যান্টটি নির্মাণ করে। ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণ শেষ হলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পানি সরবরাহ শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহকদের বিল জমা হবে ইউনিয়ন পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ ব্যাংক হিসাবে।

তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বর্তমানে প্রায় ৯০০ গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ জন ব্যাংকে বিল জমা দিচ্ছেন। বাকি প্রায় ৮০০ গ্রাহকের কাছ থেকে নগদে টাকা নেওয়া হচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা জমা হওয়ার কথা থাকলেও ব্যাংকে জমা হয়েছে মাত্র ৬ লাখ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

পাটগাতী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ রঞ্জু খান বলেন,“প্রকল্পের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম চলছে। কতজন গ্রাহক সংযোগ পেয়েছে তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে না গিয়ে সরাসরি হাতে নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পানিতে সঠিকভাবে পরিশোধন করা হচ্ছে না এবং অনেক সময় ঘোলাটে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়মিত বিল দেওয়া সত্ত্বেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।গ্রাহক মুরছালিন শেখ বলেন,“আগে প্রতিদিন পানি পেতাম, এখন একদিন পর পর দেয়। এতে দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে গেছে।”

আরেক গ্রাহক আলেয়া বেগম বলেন,“পানি ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় নেই। একদিন পর পর পানি দিলে আমরা খুব বিপদে পড়ি।”

এদিকে, গ্রাহকদের অভিযোগ—পানি সরবরাহ একদিন পর পর দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিল কম আসছে এবং সেই সাশ্রয় হওয়া অর্থও ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে।

পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস বলেন,“চুক্তি অনুযায়ী দুই বছর প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের। এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার বলেন,

“সব গ্রাহক বিল পরিশোধ করছেন না, তাই ব্যাংকে টাকা কম। পানি একদিন পর পর দেওয়া হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের নির্দেশে।”

তবে ২৪ লাখ টাকার গরমিলের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলছেন, প্ল্যান্ট উদ্বোধনের পর থেকেই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ