ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | বুধবার | বিকেল ৩ ঘটিকা | দারিয়াপুর, গাইবান্ধা

দারিয়াপুরে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন: টানা দুই দিন উৎসবের আবহে মুখর জনপদ

দারিয়াপুরে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন: টানা দুই দিন উৎসবের আবহে মুখর জনপদ

দারিয়াপুরে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন: টানা দুই দিন উৎসবের আবহে মুখর জনপদ

২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | বুধবার | বিকেল ৩ ঘটিকা | দারিয়াপুর, গাইবান্ধা

মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার দারিয়াপুরে বাংলা নববর্ষের আনন্দধারা অব্যাহত রেখে টানা দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের অংশ হিসেবে ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বুধবার বিকেল ৩ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

১ বৈশাখের জাঁকজমকপূর্ণ সূচনার পর দ্বিতীয় দিনের এই আয়োজন দারিয়াপুরকে পরিণত করে এক প্রাণবন্ত উৎসবের মিলনমেলায়, যেখানে সংস্কৃতি ও আনন্দের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো জনপদ। সকালের সূচনা থেকেই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বিকেলের মূল পর্বে বাউলগান, গণসংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে থাকেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। 

প্রতিটি পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতির গভীর আবেগ এবং সমাজমনস্ক চেতনার বহিঃপ্রকাশ।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দারিয়াপুর ও গাইবান্ধা শাখার পরিবেশনা। তাদের পরিবেশিত গান ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায় লোকসংস্কৃতি ও গণমানুষের চেতনা নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। 

পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সুরের আবেশ, যা উপস্থিত দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আলোচনা পর্বে লেখক ও গবেষক অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সাংস্কৃতিক চর্চা একটি জাতির আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। এটি মানুষকে মানবিক করে তোলে, সমাজকে আলোকিত করে এবং নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।”

 তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সবার মধ্যে নতুন অনুপ্রেরণা জোগায়। অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পুরস্কার বিতরণ পর্ব, যা সৌজন্যে সহযোগিতা করে সুপ্যালেস, গাইবান্ধা। এতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সাংগীতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীবৃন্দ। উল্লেখযোগ্য শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন সুভাষ মল্লিক, হিল্লোল সরকার, রিজু আহম্মেদ, আফছার আলী, দুলাল সরকার দোলন, দীবা অবনী প্রকৃতি ও প্রত্যয়ী পূর্ণতা। 

বিশেষ অতিথি শিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা গায়েন প্রতিযোগিতার রানারআপ আব্দুল্যাহ আল মুতী লিতু, যার সুরেলা পরিবেশনা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

বাদ্যযন্ত্রে সুরের মূর্ছনায় অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন চন্ডীচরণ বর্মণ, তোজাম্মেল হক সরকার, জীতেন্দ্র নাথ সরকার, শৈলজানন্দ টুটন, কৃষ্ণ প্রামাণিক খুশবু, স্বাধীন, মানিক বর্মন, আশিক ও মিঠু প্রমুখ দক্ষ শিল্পীরা।

নৃত্য পরিবেশনায়ও ছিল বৈচিত্র্য ও নান্দনিকতা। স্থানীয় ও অতিথি নৃত্যশিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। ম্যাগাজিন পর্বে গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় ছিলেন এম ডি রুবেল।

 এছাড়া পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও সাবলীলভাবে উপস্থাপনা করেন আব্দুল ওয়াদুদ, মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, শিউলী সিদ্দিকা শিল্পী, মেহেরুন মুন্নী, রাশেদ মোস্তফা সোহেল ও নভেরা নেহা।

অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে বসে নানা ধরনের দোকানপাট ও মেলা। হস্তশিল্প, মাটির তৈরি নান্দনিক পণ্য, খেলনা ও বিভিন্ন রকম পসরা নিয়ে অংশ নেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

 দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা এসব দোকান ঘুরে দেখেন এবং কেনাকাটায় অংশ নিয়ে মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায় নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক উপস্থিতি, যা পুরো আয়োজনকে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত ও প্রাণবন্ত করে তোলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের অংশগ্রহণ উৎসবের আবহকে করে তোলে আরও আন্তরিক ও উষ্ণ।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি দারিয়াপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। টানা দুই দিনের এই অনুষ্ঠান ও মেলা এলাকাবাসীর মধ্যে যে আনন্দঘন ও মিলনমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, তা দীর্ঘদিন সবার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


দারিয়াপুরে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন: টানা দুই দিন উৎসবের আবহে মুখর জনপদ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দারিয়াপুরে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন: টানা দুই দিন উৎসবের আবহে মুখর জনপদ

২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | বুধবার | বিকেল ৩ ঘটিকা | দারিয়াপুর, গাইবান্ধা

মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার দারিয়াপুরে বাংলা নববর্ষের আনন্দধারা অব্যাহত রেখে টানা দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের অংশ হিসেবে ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বুধবার বিকেল ৩ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

১ বৈশাখের জাঁকজমকপূর্ণ সূচনার পর দ্বিতীয় দিনের এই আয়োজন দারিয়াপুরকে পরিণত করে এক প্রাণবন্ত উৎসবের মিলনমেলায়, যেখানে সংস্কৃতি ও আনন্দের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো জনপদ। সকালের সূচনা থেকেই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বিকেলের মূল পর্বে বাউলগান, গণসংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে থাকেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। 

প্রতিটি পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতির গভীর আবেগ এবং সমাজমনস্ক চেতনার বহিঃপ্রকাশ।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দারিয়াপুর ও গাইবান্ধা শাখার পরিবেশনা। তাদের পরিবেশিত গান ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায় লোকসংস্কৃতি ও গণমানুষের চেতনা নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। 

পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সুরের আবেশ, যা উপস্থিত দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আলোচনা পর্বে লেখক ও গবেষক অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সাংস্কৃতিক চর্চা একটি জাতির আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। এটি মানুষকে মানবিক করে তোলে, সমাজকে আলোকিত করে এবং নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।”

 তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সবার মধ্যে নতুন অনুপ্রেরণা জোগায়। অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পুরস্কার বিতরণ পর্ব, যা সৌজন্যে সহযোগিতা করে সুপ্যালেস, গাইবান্ধা। এতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সাংগীতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীবৃন্দ। উল্লেখযোগ্য শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন সুভাষ মল্লিক, হিল্লোল সরকার, রিজু আহম্মেদ, আফছার আলী, দুলাল সরকার দোলন, দীবা অবনী প্রকৃতি ও প্রত্যয়ী পূর্ণতা। 

বিশেষ অতিথি শিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা গায়েন প্রতিযোগিতার রানারআপ আব্দুল্যাহ আল মুতী লিতু, যার সুরেলা পরিবেশনা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

বাদ্যযন্ত্রে সুরের মূর্ছনায় অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন চন্ডীচরণ বর্মণ, তোজাম্মেল হক সরকার, জীতেন্দ্র নাথ সরকার, শৈলজানন্দ টুটন, কৃষ্ণ প্রামাণিক খুশবু, স্বাধীন, মানিক বর্মন, আশিক ও মিঠু প্রমুখ দক্ষ শিল্পীরা।

নৃত্য পরিবেশনায়ও ছিল বৈচিত্র্য ও নান্দনিকতা। স্থানীয় ও অতিথি নৃত্যশিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। ম্যাগাজিন পর্বে গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় ছিলেন এম ডি রুবেল।

 এছাড়া পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও সাবলীলভাবে উপস্থাপনা করেন আব্দুল ওয়াদুদ, মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, শিউলী সিদ্দিকা শিল্পী, মেহেরুন মুন্নী, রাশেদ মোস্তফা সোহেল ও নভেরা নেহা।

অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে বসে নানা ধরনের দোকানপাট ও মেলা। হস্তশিল্প, মাটির তৈরি নান্দনিক পণ্য, খেলনা ও বিভিন্ন রকম পসরা নিয়ে অংশ নেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

 দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা এসব দোকান ঘুরে দেখেন এবং কেনাকাটায় অংশ নিয়ে মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায় নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক উপস্থিতি, যা পুরো আয়োজনকে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত ও প্রাণবন্ত করে তোলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের অংশগ্রহণ উৎসবের আবহকে করে তোলে আরও আন্তরিক ও উষ্ণ।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি দারিয়াপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। টানা দুই দিনের এই অনুষ্ঠান ও মেলা এলাকাবাসীর মধ্যে যে আনন্দঘন ও মিলনমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, তা দীর্ঘদিন সবার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ