উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে ইএলপিসি ইস্যু নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি।।
সিরাজুল কবির বুলবুল, উখিয়া প্রতিনিধি :- কক্সবাজারের উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক (পিআরএল-এ গমনকৃত) মোঃ আবুল হোছাইন সিরাজীর বিরুদ্ধে চাকরিকাল, ছুটি ভোগ এবং নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে মতামত চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করা হয়েছে।
জানা যায়, তিনি ১৪ জুলাই ১৯৯২ তারিখে সহকারী শিক্ষক হিসেবে উখিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে ২০০৫সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত উখিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে চিকিৎসা ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে জনাব আবুল হোসেন সিরাজী কক্সবাজার বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলের অধ্যক্ষ পদে প্রায় ১০ মাস যাবৎ স্ববেতনে কর্মরত ছিলেন। এবং অকাট্য প্রমাণ স্বরুপ অভিযোগকারীগন তাঁর বিয়াম স্কুলে যোগদানপত্র ও ঐ স্কুলে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে তাঁর বহিষ্কার আদেশের কপি ও উখিয়া উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিস ও মহাপরিচালক বরাবরে অভিযোগপত্রের সংগে সংযুক্ত করেছেন মর্মে জানা গেছে। তাই হিসাব রক্ষন অফিস কর্মকর্তার মন্তব্যে দেখা যায়,একজন শিক্ষক তার প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ছুটি কালীন সময়ে তথ্য গোপন করে অন্য আর একটা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে স্ববেতনে চাকরী করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও বিধিবহির্ভূত হওয়ায় উপজেলা অফিস কর্তৃপক্ষ তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট মতামত চেয়ে আবেদন করেছে।
অভিযোগকারীদের মতে, একই সময়ে অন্যত্র আর্থিকভাবে লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকা বিধিবহির্ভূত। এছাড়া, চিকিৎসা ছুটি শেষে পুনরায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান গ্রহণের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া পূর্বের পদে ফিরে আসা নিয়মসঙ্গত নয়।
অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ২০১১ সালে তাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগের আরেক অংশে বলা হয়, চিকিৎসা ছুটিকালীন অন্য প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ পদে যোগদান এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বরখাস্ত হওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে পূর্বের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোকে ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হওয়ার পর ২০১৮ সালে জাতীয় বেতন স্কেলে তাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বর্তমানে পিআরএল-এ গমন উপলক্ষে চাকরিকাল গণনা, ছুটি হিসাব এবং ইএলপিসি ইস্যু নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে ইএলপিসি ইস্যু নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি।।
সিরাজুল কবির বুলবুল, উখিয়া প্রতিনিধি :- কক্সবাজারের উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক (পিআরএল-এ গমনকৃত) মোঃ আবুল হোছাইন সিরাজীর বিরুদ্ধে চাকরিকাল, ছুটি ভোগ এবং নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে মতামত চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করা হয়েছে।
জানা যায়, তিনি ১৪ জুলাই ১৯৯২ তারিখে সহকারী শিক্ষক হিসেবে উখিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে ২০০৫সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত উখিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে চিকিৎসা ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে জনাব আবুল হোসেন সিরাজী কক্সবাজার বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলের অধ্যক্ষ পদে প্রায় ১০ মাস যাবৎ স্ববেতনে কর্মরত ছিলেন। এবং অকাট্য প্রমাণ স্বরুপ অভিযোগকারীগন তাঁর বিয়াম স্কুলে যোগদানপত্র ও ঐ স্কুলে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে তাঁর বহিষ্কার আদেশের কপি ও উখিয়া উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিস ও মহাপরিচালক বরাবরে অভিযোগপত্রের সংগে সংযুক্ত করেছেন মর্মে জানা গেছে। তাই হিসাব রক্ষন অফিস কর্মকর্তার মন্তব্যে দেখা যায়,একজন শিক্ষক তার প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ছুটি কালীন সময়ে তথ্য গোপন করে অন্য আর একটা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে স্ববেতনে চাকরী করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও বিধিবহির্ভূত হওয়ায় উপজেলা অফিস কর্তৃপক্ষ তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট মতামত চেয়ে আবেদন করেছে।
অভিযোগকারীদের মতে, একই সময়ে অন্যত্র আর্থিকভাবে লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকা বিধিবহির্ভূত। এছাড়া, চিকিৎসা ছুটি শেষে পুনরায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান গ্রহণের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া পূর্বের পদে ফিরে আসা নিয়মসঙ্গত নয়।
অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ২০১১ সালে তাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগের আরেক অংশে বলা হয়, চিকিৎসা ছুটিকালীন অন্য প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ পদে যোগদান এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বরখাস্ত হওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে পূর্বের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোকে ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হওয়ার পর ২০১৮ সালে জাতীয় বেতন স্কেলে তাকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বর্তমানে পিআরএল-এ গমন উপলক্ষে চাকরিকাল গণনা, ছুটি হিসাব এবং ইএলপিসি ইস্যু নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন