ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

ইয়াবাসহ ০১ নারী মাদক কারবারী গ্রেফতার।

ইয়াবাসহ ০১ নারী মাদক কারবারী গ্রেফতার।

রাজশাহীতে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজশাহীতে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনায় যুবদলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনায় যুবদলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ যুবক আটক, পঞ্চগড়ে বিজিবির অভিযান

ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ যুবক আটক, পঞ্চগড়ে বিজিবির অভিযান

তাহিরপুরের সমাজসেবক রায়হান উদ্দিন রিপনের  বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের নিন্দা

তাহিরপুরের সমাজসেবক রায়হান উদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের নিন্দা

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করলে হবেনা পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদ ইসলামের-

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ করলে হবেনা পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদ ইসলামের-

সেনাবাহিনীর স্টিকারযুক্ত ল্যান্ড ক্রুজারে ২৮ হাজার ইয়াবা, সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

সেনাবাহিনীর স্টিকারযুক্ত ল্যান্ড ক্রুজারে ২৮ হাজার ইয়াবা, সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

চার বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে ক্লাস, ঝুঁকিতে ২৬১ শিক্ষার্থীর জীবন

চার বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে ক্লাস, ঝুঁকিতে ২৬১ শিক্ষার্থীর জীবন

পীরগাছা কান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব, ভিজিএফ ও উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

পীরগাছা কান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব, ভিজিএফ ও উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

পীরগাছা কান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব, ভিজিএফ ও উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

 রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৯নং কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল আত্মসাৎ, প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার ও একাধিক উন্নয়ন বরাদ্দে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন।

দাখিলকৃত অনাস্থা পত্রে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাক্ষরকারী ইউপি সদস্যরা।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কার্ডধারীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেককে ৭ কেজি করে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কার্ডের বিপরীতে প্রায় ১২ হাজার ৯০০ কেজি (১২.৯ মেট্রিক টন) চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

ইউপি সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু ভিজিএফ নয়, ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। টিউবওয়েল স্থাপন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লাখ টাকা এবং রাস্তা সংস্কার ও সিসি ঢালাই প্রকল্পের ৬ লাখ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই আত্মসাত করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকল্পের পিআইসি (PIC) সভাপতি হিসেবে ইউপি সদস্যদের নাম থাকলেও চেয়ারম্যান ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করেছেন। অথচ নির্ধারিত প্রকল্প এলাকায় কোনো কাজই বাস্তবায়ন হয়নি।

স্বাক্ষরকারী সদস্যরা আরও দাবি করেন, ইউনিয়নের ১ শতাংশ উন্নয়ন বরাদ্দের প্রায় ২০ লাখ টাকার কোনো কাজ না করেই সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্যদের প্রাপ্য সম্মানী ভাতাও প্রদান করা হচ্ছে না।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের স্বাক্ষরে এই অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করা হয়। অনাস্থা পত্রে স্বাক্ষরকারী ইউপি সদস্যরা হলেন—৪নং ওয়ার্ডের মো: মাসুদ রানা টেক্কা, ৯নং ওয়ার্ডের মো: মাহবুবুর রহমান মিলন, ৭নং ওয়ার্ডের মো: আব্দুর রাজ্জাক বেগ, ৬নং ওয়ার্ডের মো: শামস উদ্দিন, ২নং ওয়ার্ডের মো: আব্দুল জব্বার তোকদার ও ১নং ওয়ার্ডের মো: মাহাবুবুর রহমান মিঠু।

তারা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে ভুয়া কাগজপত্র ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করছেন। এতে ইউনিয়নের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

এছাড়া তারা দাবি করেন, অভিযোগের স্বপক্ষে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা তদন্তকালে উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর অনাস্থা পত্র দাখিলের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।অন্যদিকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং সব অভিযোগই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।



আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


পীরগাছা কান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব, ভিজিএফ ও উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

পীরগাছা কান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব, ভিজিএফ ও উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

 রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৯নং কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ভিজিএফ চাল আত্মসাৎ, প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার ও একাধিক উন্নয়ন বরাদ্দে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন।

দাখিলকৃত অনাস্থা পত্রে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাক্ষরকারী ইউপি সদস্যরা।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কার্ডধারীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেককে ৭ কেজি করে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কার্ডের বিপরীতে প্রায় ১২ হাজার ৯০০ কেজি (১২.৯ মেট্রিক টন) চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

ইউপি সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু ভিজিএফ নয়, ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। টিউবওয়েল স্থাপন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লাখ টাকা এবং রাস্তা সংস্কার ও সিসি ঢালাই প্রকল্পের ৬ লাখ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই আত্মসাত করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকল্পের পিআইসি (PIC) সভাপতি হিসেবে ইউপি সদস্যদের নাম থাকলেও চেয়ারম্যান ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করেছেন। অথচ নির্ধারিত প্রকল্প এলাকায় কোনো কাজই বাস্তবায়ন হয়নি।

স্বাক্ষরকারী সদস্যরা আরও দাবি করেন, ইউনিয়নের ১ শতাংশ উন্নয়ন বরাদ্দের প্রায় ২০ লাখ টাকার কোনো কাজ না করেই সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্যদের প্রাপ্য সম্মানী ভাতাও প্রদান করা হচ্ছে না।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের স্বাক্ষরে এই অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করা হয়। অনাস্থা পত্রে স্বাক্ষরকারী ইউপি সদস্যরা হলেন—৪নং ওয়ার্ডের মো: মাসুদ রানা টেক্কা, ৯নং ওয়ার্ডের মো: মাহবুবুর রহমান মিলন, ৭নং ওয়ার্ডের মো: আব্দুর রাজ্জাক বেগ, ৬নং ওয়ার্ডের মো: শামস উদ্দিন, ২নং ওয়ার্ডের মো: আব্দুল জব্বার তোকদার ও ১নং ওয়ার্ডের মো: মাহাবুবুর রহমান মিঠু।

তারা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে ভুয়া কাগজপত্র ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করছেন। এতে ইউনিয়নের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

এছাড়া তারা দাবি করেন, অভিযোগের স্বপক্ষে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা তদন্তকালে উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর অনাস্থা পত্র দাখিলের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।অন্যদিকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং সব অভিযোগই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।




ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ