গাইবান্ধায় কর্মসংস্থান মেলা : বদলে যাওয়ার স্বপ্নে উজ্জীবিত তরুণ সমাজ
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত হলো “কর্মসংস্থান মেলা-২০২৬”। শনিবার (৯ মে) শহরের স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলা তরুণ-তরুণীদের মাঝে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
এসকেএস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহায়তায় বাস্তবায়িত Recovery and Advancement of Informal Sector Employment (RAISE) প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
দিনব্যাপী এ কর্মসংস্থান মেলায় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ১৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ, নিবন্ধন ও সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। যাচাই-বাছাই শেষে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মেলা থেকেই চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করলে উপস্থিত তরুণদের মাঝে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে।
মেলার উদ্বোধন করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক যোসেফ হালদার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের ফিল্ড অপারেশন সমন্বয়কারী বাহারাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, প্রয়োজন বাস্তবমুখী দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস। তরুণদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা কেবল চাকরিপ্রার্থী নয়, ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার বলেন, হতাশা কিংবা নেতিবাচক মানসিকতা নয়— সফলতার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, অধ্যবসায় ও দক্ষতা অর্জনের মানসিকতা। নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারলেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।
আলোচনায় কর্মপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বক্তব্য রাখেন এসিআই প্লাস্টিকের মানবসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধি মো. মতিউর রহমান। তিনি বলেন, দেশের শিল্পখাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
তবে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি যোগাযোগ ক্ষমতা, আচরণগত দক্ষতা ও দায়িত্ববোধও একজন কর্মীকে এগিয়ে রাখে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা, প্রশিক্ষক ও জয়িতা বিজয়ী হোসেনে আরা বেগমসহ প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের সংগ্রাম ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন।
তাদের বক্তব্যে উঠে আসে আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও সুযোগের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা।
সমাপনী বক্তব্যে যোসেফ হালদার বলেন, দেশে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই চাহিদা পূরণে এসকেএস ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তরুণদের এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, RAISE প্রকল্পের আওতায় ১২টি ট্রেডে ৮৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ জন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন এবং ২১৯ জন স্ব-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন।
অবশিষ্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়। কর্মসংস্থান মেলাটি শুধু চাকরি পাওয়ার একটি প্ল্যাটফর্মই নয়, বরং তরুণদের আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার এক বাস্তব প্রয়াস হিসেবে উপস্থিত সবার কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
গাইবান্ধায় কর্মসংস্থান মেলা : বদলে যাওয়ার স্বপ্নে উজ্জীবিত তরুণ সমাজ
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত হলো “কর্মসংস্থান মেলা-২০২৬”। শনিবার (৯ মে) শহরের স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলা তরুণ-তরুণীদের মাঝে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
এসকেএস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহায়তায় বাস্তবায়িত Recovery and Advancement of Informal Sector Employment (RAISE) প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
দিনব্যাপী এ কর্মসংস্থান মেলায় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ১৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ, নিবন্ধন ও সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। যাচাই-বাছাই শেষে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মেলা থেকেই চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করলে উপস্থিত তরুণদের মাঝে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে।
মেলার উদ্বোধন করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক যোসেফ হালদার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের ফিল্ড অপারেশন সমন্বয়কারী বাহারাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, প্রয়োজন বাস্তবমুখী দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস। তরুণদের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা কেবল চাকরিপ্রার্থী নয়, ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার বলেন, হতাশা কিংবা নেতিবাচক মানসিকতা নয়— সফলতার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, অধ্যবসায় ও দক্ষতা অর্জনের মানসিকতা। নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারলেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।
আলোচনায় কর্মপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বক্তব্য রাখেন এসিআই প্লাস্টিকের মানবসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধি মো. মতিউর রহমান। তিনি বলেন, দেশের শিল্পখাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
তবে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি যোগাযোগ ক্ষমতা, আচরণগত দক্ষতা ও দায়িত্ববোধও একজন কর্মীকে এগিয়ে রাখে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা, প্রশিক্ষক ও জয়িতা বিজয়ী হোসেনে আরা বেগমসহ প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের সংগ্রাম ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন।
তাদের বক্তব্যে উঠে আসে আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও সুযোগের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা।
সমাপনী বক্তব্যে যোসেফ হালদার বলেন, দেশে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই চাহিদা পূরণে এসকেএস ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তরুণদের এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, RAISE প্রকল্পের আওতায় ১২টি ট্রেডে ৮৬৫ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ জন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন এবং ২১৯ জন স্ব-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন।
অবশিষ্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়। কর্মসংস্থান মেলাটি শুধু চাকরি পাওয়ার একটি প্ল্যাটফর্মই নয়, বরং তরুণদের আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার এক বাস্তব প্রয়াস হিসেবে উপস্থিত সবার কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন