ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : রোববার, ১৭ মে ২০২৬

মেহেরপুর আমঝুপীর কৃতি-সন্তান শেখ মোহাম্মদ তোয়াশ ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে প্রথম স্থান অর্জন

মেহেরপুর আমঝুপীর কৃতি-সন্তান শেখ মোহাম্মদ তোয়াশ ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে প্রথম স্থান অর্জন

জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতির ওপর হামলা, ক্ষুব্ধ নেত্রকোণার সাংবাদিক সমাজ

জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতির ওপর হামলা, ক্ষুব্ধ নেত্রকোণার সাংবাদিক সমাজ

বৃক্ষরোপণ ও পদযাত্রা মধ্য দিয়ে পালিত হল- বিশ্ব পরিবেশ দিবস।

বৃক্ষরোপণ ও পদযাত্রা মধ্য দিয়ে পালিত হল- বিশ্ব পরিবেশ দিবস।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে নড়াইলে আনন্দ মিছিল

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে নড়াইলে আনন্দ মিছিল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কে রক্তাক্ত সকাল, প্রাণ হারালেন মা-ছেলেসহ ৪ জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কে রক্তাক্ত সকাল, প্রাণ হারালেন মা-ছেলেসহ ৪ জন

পটুয়াখালীতে পারিবারিক কলহে হত্যাকাণ্ড:মূল হোতা রতনসহ গ্রেফতার ৬, এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন

পটুয়াখালীতে পারিবারিক কলহে হত্যাকাণ্ড:মূল হোতা রতনসহ গ্রেফতার ৬, এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন

কচুয়া থানা পুলিশ কর্তৃক ০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ মাদক কারবারি গ্রেফতার

কচুয়া থানা পুলিশ কর্তৃক ০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ মাদক কারবারি গ্রেফতার"

খেলাধূলা শুধু বিনোদন নয়,তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত সুশৃঙ্খল জীবনে ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।  পটিয়ায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী- আমিনুল

খেলাধূলা শুধু বিনোদন নয়,তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত সুশৃঙ্খল জীবনে ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পটিয়ায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী- আমিনুল

৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে ফিরে পেলেন পৈত্রিক জমি

৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে ফিরে পেলেন পৈত্রিক জমি

৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে ফিরে পেলেন পৈত্রিক জমি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: পঞ্চাশের দশকের কথা। ফুফাতো ভাইয়ের কাছে ১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি বন্ধক রেখেছিলেন আলেপ উদ্দিন। বন্ধকী টাকা শোধ করলেও জমি ফেরত দেননি ফুফাতো ভাই বছির উদ্দিন। উভয় পক্ষের দ্বন্দ্বে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জমির জিম্মা চলে যায় টাউন চেয়ারম্যানের (বর্তমান পৌর মেয়র) কাছে। চেয়ারম্যান সেই জমি স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় দেন।

জমির আইনি দখল বুঝে পেতে ১৯৬১ সালে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী আলেপ উদ্দিন। কিন্তু সুরাহা হওয়ার আগেই ১৯৭২ সালে তার মৃত্যু হয়। সেই মামলার সূত্র ধরে পরবর্তীতে বাদীর ছেলে আব্দুস সাত্তার গং আইনি লড়াই শুরু করেন। নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত, আরজি-আপিল চলতে থাকে। অবশেষে দীর্ঘ ৬৫ বছর আইনি লড়াই শেষে বুধবার নিজেদের জমি ফেরত পেয়েছেন বাদী পক্ষ। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উত্তরাধিকার। গতকাল বুধবার (১৩ মে) বিকালে কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার চরুয়া পাড়ায় বাদী পক্ষকে নালিশি জমির দখল বুঝে দেন সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম।

সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম জানালেন আদালতের নির্দেশক্রমে আমরা মামলার বাদিকে তাদের জমি বুঝিয়ে দেই। মোট জমির কিছু অংশ বাদিপক্ষ ছেড়ে দেয়। কারণ সেখানে চলাচলের রাস্তা ছিলো। 

মামলার বাদী পক্ষ আব্দুস সাত্তারের বাড়ি কলেজ পাড়ায়। আর বিবাদী বছির উদ্দিনের বাড়ি পুরাতন শহরের গুয়াতি পাড়ায়। বছির উদ্দিন মারা গেছেন। ওয়ারিশ হিসেবে তার ছেলেরা মামলায় প্রতিপক্ষ ছিলেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী বুধবার বিকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার এবং পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নালিশি জমিটি আলেপ উদ্দিনের ওয়ারিশ আব্দুস সাত্তার গংদের মালিকানায় দখল স্বত্ব বুঝে দেন এসিল্যান্ড। এসময় মৃত বছির উদ্দিনের ওয়ারিশরা উপস্থিত ছিলেন না। তবে জমিটির জিম্মাদার হিসেবে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, লাল পতাকা উড়িয়ে সাত্তার গংকে জমির দখল স্বত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এলাকার উৎসুক লোকজন জড়ো হয়ে রাষ্ট্রীয় রীতি উপভোগ করে।

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পৈত্রিক জমির দখল স্বত্ব বুঝে পাওয়ায় বেজায় খুশি আব্দুস সাত্তারসহ চার ভাই। ৯ শতক জমির আইনি লড়াই হলেও সরেজমিন তাদেরকে ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছু জমি ছেড়ে দিতে হলেও সন্তান হয়ে পিতার জমি ফিরে পাওয়ায় ছেলেরা সন্তুষ্ট।

আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ আমার বাবার লড়াই আমরা চালিয়েছি। এটা খুব সহজ ছিল না। জমিটিতে এক সময় সরকার রিসিভার নিয়োগ করে। দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে নিতে অনেক ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে। আদালত শেষ পর্যন্ত আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাবা বেঁচে থাকলে তিনি বেশি খুশি হতেন। আজ এতো বছর পর সন্তান হয়ে আমরা বাবার জমি ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। এই জমি এখন আমাদের চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে বন্টন করে নেবো।’



আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে ফিরে পেলেন পৈত্রিক জমি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে ফিরে পেলেন পৈত্রিক জমি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: পঞ্চাশের দশকের কথা। ফুফাতো ভাইয়ের কাছে ১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি বন্ধক রেখেছিলেন আলেপ উদ্দিন। বন্ধকী টাকা শোধ করলেও জমি ফেরত দেননি ফুফাতো ভাই বছির উদ্দিন। উভয় পক্ষের দ্বন্দ্বে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জমির জিম্মা চলে যায় টাউন চেয়ারম্যানের (বর্তমান পৌর মেয়র) কাছে। চেয়ারম্যান সেই জমি স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় দেন।

জমির আইনি দখল বুঝে পেতে ১৯৬১ সালে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী আলেপ উদ্দিন। কিন্তু সুরাহা হওয়ার আগেই ১৯৭২ সালে তার মৃত্যু হয়। সেই মামলার সূত্র ধরে পরবর্তীতে বাদীর ছেলে আব্দুস সাত্তার গং আইনি লড়াই শুরু করেন। নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত, আরজি-আপিল চলতে থাকে। অবশেষে দীর্ঘ ৬৫ বছর আইনি লড়াই শেষে বুধবার নিজেদের জমি ফেরত পেয়েছেন বাদী পক্ষ। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উত্তরাধিকার। গতকাল বুধবার (১৩ মে) বিকালে কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার চরুয়া পাড়ায় বাদী পক্ষকে নালিশি জমির দখল বুঝে দেন সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম।

সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম জানালেন আদালতের নির্দেশক্রমে আমরা মামলার বাদিকে তাদের জমি বুঝিয়ে দেই। মোট জমির কিছু অংশ বাদিপক্ষ ছেড়ে দেয়। কারণ সেখানে চলাচলের রাস্তা ছিলো। 

মামলার বাদী পক্ষ আব্দুস সাত্তারের বাড়ি কলেজ পাড়ায়। আর বিবাদী বছির উদ্দিনের বাড়ি পুরাতন শহরের গুয়াতি পাড়ায়। বছির উদ্দিন মারা গেছেন। ওয়ারিশ হিসেবে তার ছেলেরা মামলায় প্রতিপক্ষ ছিলেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী বুধবার বিকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার এবং পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নালিশি জমিটি আলেপ উদ্দিনের ওয়ারিশ আব্দুস সাত্তার গংদের মালিকানায় দখল স্বত্ব বুঝে দেন এসিল্যান্ড। এসময় মৃত বছির উদ্দিনের ওয়ারিশরা উপস্থিত ছিলেন না। তবে জমিটির জিম্মাদার হিসেবে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, লাল পতাকা উড়িয়ে সাত্তার গংকে জমির দখল স্বত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এলাকার উৎসুক লোকজন জড়ো হয়ে রাষ্ট্রীয় রীতি উপভোগ করে।

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পৈত্রিক জমির দখল স্বত্ব বুঝে পাওয়ায় বেজায় খুশি আব্দুস সাত্তারসহ চার ভাই। ৯ শতক জমির আইনি লড়াই হলেও সরেজমিন তাদেরকে ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছু জমি ছেড়ে দিতে হলেও সন্তান হয়ে পিতার জমি ফিরে পাওয়ায় ছেলেরা সন্তুষ্ট।

আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ আমার বাবার লড়াই আমরা চালিয়েছি। এটা খুব সহজ ছিল না। জমিটিতে এক সময় সরকার রিসিভার নিয়োগ করে। দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে নিতে অনেক ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে। আদালত শেষ পর্যন্ত আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাবা বেঁচে থাকলে তিনি বেশি খুশি হতেন। আজ এতো বছর পর সন্তান হয়ে আমরা বাবার জমি ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। এই জমি এখন আমাদের চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে বন্টন করে নেবো।’





ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ