ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

কটিয়াদীতে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা,এলাকায় চাঞ্চল্য

কটিয়াদীতে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা,এলাকায় চাঞ্চল্য

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের ২০২৬-২০২৮ কার্যনির্বাহী কমিটির আংশিক কমিটি ঘোষণা।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের ২০২৬-২০২৮ কার্যনির্বাহী কমিটির আংশিক কমিটি ঘোষণা।

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে সরকারকে ৩ মাসের আল্টিমেটাম

২২শে শ্রাবণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস, পালিত হচ্ছে কলকাতা সহ শান্তিনিকেতনে।

২২শে শ্রাবণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস, পালিত হচ্ছে কলকাতা সহ শান্তিনিকেতনে।

বিশ্বমানের বিদ্যাপীঠ গড়ার প্রত্যয়ে চবি সিনেটের ৩৬তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

বিশ্বমানের বিদ্যাপীঠ গড়ার প্রত্যয়ে চবি সিনেটের ৩৬তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

শিক্ষার্থীকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবেগড়ে তুলতে হবে -জবি ভিসি ড. রইছ উদদীন।

শিক্ষার্থীকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবেগড়ে তুলতে হবে -জবি ভিসি ড. রইছ উদদীন।

গণতন্ত্র ও অধিকার সুসংহত করতে ত্যাগের আহ্বান এমপি আবু আশফাকের

গণতন্ত্র ও অধিকার সুসংহত করতে ত্যাগের আহ্বান এমপি আবু আশফাকের

সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের  ৮১ সদস্য বিশিষ্ঠ পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন

সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ৮১ সদস্য বিশিষ্ঠ পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন

কালজানি নদীর ভাঙনে ধলডাঙ্গা গ্রাম বিপর্যস্ত, বিলীন শতাধিক বসতভিটা

কালজানি নদীর ভাঙনে ধলডাঙ্গা গ্রাম বিপর্যস্ত, বিলীন শতাধিক বসতভিটা

কালজানি নদীর ভাঙনে ধলডাঙ্গা গ্রাম বিপর্যস্ত, বিলীন শতাধিক বসতভিটা

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ধলডাঙ্গা এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে কয়েক দিনের ব্যবধানে শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে কিংবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে উত্তর ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গার বাসিন্দাদের।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিলখুরি ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গা এলাকায় কালজানি নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বর্তমানে উত্তর ধলডাঙ্গার প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গার প্রায় ১ হাজার ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

শিলখুরি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন বলেন, গত এক বছরে কালজানি নদীর ভাঙনে প্রায় এক হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন উত্তর ধলডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও স্থানীয় বউবাজার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

ভাঙনকবলিত উত্তর ধলডাঙ্গার বাসিন্দা সাহেজ উদ্দিন ও মনির হোসেন এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গার হাফিজুর রহমান ও সুরমান আলী বলেন, গত কয়েক দিনের ভাঙনে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। প্রতিদিন নদী আরও জমি গ্রাস করছে। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তাঁরা।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনসার আলী বলেন, প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তাঁর কাছে সহায়তার আবেদন নিয়ে আসছেন। কেউ খাদ্য সহায়তা চাইছেন, কেউ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, আবার কেউ ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখতে শনিবার বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এ সময় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় থাকা আনোয়ারা বেগম ও আকলিমা বেগম বলেন, ‘এক পাশে নদী, অন্য পাশে ভারতীয় সীমান্ত। আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাব।’

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দ্রুত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে দুই হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, প্রথম ধাপে দুই হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।

এদিকে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


কালজানি নদীর ভাঙনে ধলডাঙ্গা গ্রাম বিপর্যস্ত, বিলীন শতাধিক বসতভিটা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

কালজানি নদীর ভাঙনে ধলডাঙ্গা গ্রাম বিপর্যস্ত, বিলীন শতাধিক বসতভিটা

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ধলডাঙ্গা এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে কয়েক দিনের ব্যবধানে শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে কিংবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে উত্তর ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গার বাসিন্দাদের।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিলখুরি ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গা এলাকায় কালজানি নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বর্তমানে উত্তর ধলডাঙ্গার প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গার প্রায় ১ হাজার ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

শিলখুরি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন বলেন, গত এক বছরে কালজানি নদীর ভাঙনে প্রায় এক হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন উত্তর ধলডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও স্থানীয় বউবাজার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

ভাঙনকবলিত উত্তর ধলডাঙ্গার বাসিন্দা সাহেজ উদ্দিন ও মনির হোসেন এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গার হাফিজুর রহমান ও সুরমান আলী বলেন, গত কয়েক দিনের ভাঙনে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। প্রতিদিন নদী আরও জমি গ্রাস করছে। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তাঁরা।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনসার আলী বলেন, প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তাঁর কাছে সহায়তার আবেদন নিয়ে আসছেন। কেউ খাদ্য সহায়তা চাইছেন, কেউ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, আবার কেউ ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখতে শনিবার বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এ সময় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় থাকা আনোয়ারা বেগম ও আকলিমা বেগম বলেন, ‘এক পাশে নদী, অন্য পাশে ভারতীয় সীমান্ত। আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাব।’

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দ্রুত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে দুই হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, প্রথম ধাপে দুই হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।

এদিকে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।




ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ