নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নাকি চাপ: সাধারণ মানুষের চোখে নতুন বাজেট
গৌতম কুমার :- ২০২৬ জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বাজেট পেশ করার পর দেশজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় বাজেটে সাধারণ মানুষের কী লাভ হলো? সরকারের পক্ষ থেকে এই বাজেটকে উন্নয়নমুখী এবং সংকট উত্তরণের হাতিয়ার বলা হলেও, মাঠপর্যায়ের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষেরা বলছেন, বড় বড় অঙ্কের এই বাজেটের ভিড়ে তাদের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে উঠছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই প্রধান চ্যালেঞ্জ: বিগত কয়েক মাস ধরেই দেশের বাজারে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও পেঁয়াজসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাজারে তার প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না। উল্টো বাজেট ঘোষণার পর পরই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কিছু কিছু পণ্যের দাম নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে।
ক্ষুব্ধ মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয় গোষ্ঠী বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ,বছরের পর বছর ধরে আমাদের বেতন এক জায়গায় আটকে আছে, কিন্তু প্রতিবার বাজেটের পর খরচের খাতা বড় হতে থাকে। চাল-ডালের দাম যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকা অসম্ভব। আমরা মেগা প্রজেক্টের চেয়ে মেগা বাজারের স্বস্তি বেশি চাই।
একই চিত্র দেখা গেছে গৃহিণী ফাতেমা বেগমের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, আগে এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে আসলে পুরো সপ্তাহের তরকারি ও মাছ কেনা যেত। এখন দুই দিনের বাজার করতেই পকেট খালি হয়ে যায়। নতুন বাজেট আমাদের রান্নাবান্নার খরচ আরও বাড়িয়ে দেবে কি না, তা নিয়ে আতঙ্কে আছি।
মোবাইল ও ইন্টারনেটে খরচ বাড়ার শঙ্কা নতুন বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের কিছু সেবার ওপর কর পুনর্বিন্যাস করায় মোবাইল কলরেট এবং ইন্টারনেট ডেটার দাম বাড়তে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম এবং ফ্রিল্যান্সাররা এই সিদ্ধান্তে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফসান আহমেদ জানান, পড়াশোনা ও অ্যাসাইনমেন্টের জন্য প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। ইন্টারনেটের দাম বাড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ অনেক বেড়ে যাবে।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের ভাবনা ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের সংকট এবং কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে এমনিতেই আমদানি খরচ বেশি। তার ওপর বাজেটের নতুন কর নীতি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম এই বাজেট প্রসঙ্গে বলেন ,এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা প্রশংসনীয়। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা না যাবে এবং কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানো না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে না।"
বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি ,সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে সচেতন মহল সবারই এখন একটাই মূল দাবি, কাগজে-কলমে বাজেটের আকার বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি যাই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর যেন চাপ না বাড়ে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে বাজেটের দোহাই দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সরকারের বাজার তদারকি সংস্থাগুলোকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নাকি চাপ: সাধারণ মানুষের চোখে নতুন বাজেট
গৌতম কুমার :- ২০২৬ জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বাজেট পেশ করার পর দেশজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় বাজেটে সাধারণ মানুষের কী লাভ হলো? সরকারের পক্ষ থেকে এই বাজেটকে উন্নয়নমুখী এবং সংকট উত্তরণের হাতিয়ার বলা হলেও, মাঠপর্যায়ের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষেরা বলছেন, বড় বড় অঙ্কের এই বাজেটের ভিড়ে তাদের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে উঠছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই প্রধান চ্যালেঞ্জ: বিগত কয়েক মাস ধরেই দেশের বাজারে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও পেঁয়াজসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাজারে তার প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না। উল্টো বাজেট ঘোষণার পর পরই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কিছু কিছু পণ্যের দাম নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে।
ক্ষুব্ধ মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয় গোষ্ঠী বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ,বছরের পর বছর ধরে আমাদের বেতন এক জায়গায় আটকে আছে, কিন্তু প্রতিবার বাজেটের পর খরচের খাতা বড় হতে থাকে। চাল-ডালের দাম যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকা অসম্ভব। আমরা মেগা প্রজেক্টের চেয়ে মেগা বাজারের স্বস্তি বেশি চাই।
একই চিত্র দেখা গেছে গৃহিণী ফাতেমা বেগমের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, আগে এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে আসলে পুরো সপ্তাহের তরকারি ও মাছ কেনা যেত। এখন দুই দিনের বাজার করতেই পকেট খালি হয়ে যায়। নতুন বাজেট আমাদের রান্নাবান্নার খরচ আরও বাড়িয়ে দেবে কি না, তা নিয়ে আতঙ্কে আছি।
মোবাইল ও ইন্টারনেটে খরচ বাড়ার শঙ্কা নতুন বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের কিছু সেবার ওপর কর পুনর্বিন্যাস করায় মোবাইল কলরেট এবং ইন্টারনেট ডেটার দাম বাড়তে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম এবং ফ্রিল্যান্সাররা এই সিদ্ধান্তে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফসান আহমেদ জানান, পড়াশোনা ও অ্যাসাইনমেন্টের জন্য প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। ইন্টারনেটের দাম বাড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ অনেক বেড়ে যাবে।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের ভাবনা ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের সংকট এবং কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে এমনিতেই আমদানি খরচ বেশি। তার ওপর বাজেটের নতুন কর নীতি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম এই বাজেট প্রসঙ্গে বলেন ,এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা প্রশংসনীয়। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা না যাবে এবং কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানো না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে না।"
বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি ,সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে সচেতন মহল সবারই এখন একটাই মূল দাবি, কাগজে-কলমে বাজেটের আকার বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি যাই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর যেন চাপ না বাড়ে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে বাজেটের দোহাই দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সরকারের বাজার তদারকি সংস্থাগুলোকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন