সিলেটের ঐতিহ্যবাহি এম সি কলেজ এবং রাজা জি সি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা মুরারী চানঁ সেন ও রাজা গীরিশ চন্দ্র সেন এ বাড়ীটি ধং¯ে^র পথে| বালাগঞ্জ উপজেলা বালাগঞ্জ ইউনিয়নের বোয়ালজুড় বাজারের নিকটবর্তী চরভিতা গ্রামে এই বাড়ীটির অবস্থান| এই গ্রামের কৃতি সন্তান মুরারী চানঁ সেন| তিনি জমিদার ছিলেন| তারঁ কোন সন্তন ছিলো না| পালক পুত্র রাজা গীরিশ চন্দ্র রায়| রাজা গীরিশ চন্দ্র রায় সিলেট এম. সি. কলেজ ও রাজা জি, সি হাই স্কুলের ভুমি দাতা| রাজা গীরিশ চন্দ্র রায় ১৮৪৫ সালের মার্চ মাসে জন্ম গ্রহন করেন চরভিতা গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে| পিতা দ্বীপচন্দ্র নন্দী| ৫ বছর বয়সে তিনি “মুরারী চাঁদ এস্টেট” এর মালিক মুরারী চাঁেদর মেয়ে ব্রজ সুন্দরী কর্তৃক দওক পুত্র হিসাবে গৃহিত হন| যৌবনে রাজা গীরিশ চন্দ্র রায় কুসংসর্গে বিপথে চালিত হন| ১৮৭৪ সালে লর্ড নর্থ ব্রুক সিলেটে আসলে গীরিশ চন্দ্র রায় কে দরবারে আমন্ত্রন করা হয়নি| এতে তিনি মনে আঘাত পান| এ ঘটনায় তিনি তার মত পরিবর্তন করেন| ১৮৮৬ সালে তিনি “মুরারী চাঁদ স্কুল” স্থাপন করেন| ১৮৯২ সালে এই স্কুলটি কলেজে উন্নীত হয়| এটি সিলেট তথা আসামের প্রথম কলেজ| ১৮৯৭ সালে ভুমিকম্পে কলেজটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে, তিনি নিজ ঘরবাড়ী মেরামত না করে সর্বশক্তি অর্থ ব্যায় করে কলেজটি মেরামত করেন| তিনি বাঙালীদের মধ্যে প্রখম চা বাগান স্থাপন করেন| তিনি ন্যায়পরায়ন, ধার্মিক, সমাজসবেক, পরউপকারী ছিলেন| তিনি সরকার কর্তৃক রায় বাহাদুর ও ১৮৯২ সালে রাজা খেতাব লাভ করেন| তিনি ১৯০৮ সালে মৃত্যু বরন করেন| তৎকালিন সময়ে জমিদার বাড়ীতে সাধারন লোকজন যেতে সাহস করতো না| ছাতা মাথায় দিয়ে কিংবা পায়ে জুতা নিয়ে যেতে সাহস করতো না| সাধারন লোক জনের মধ্যে একটা ভয় সব সময় কাজ করতো| লোকমুখে জানা যায়, একবার নাকি এক লোক জমিদার বাড়ীতে এসে “তামাক” খেতে চাইলে জমিদার বাড়ীর লোকজন রাগান্নিত হয়ে ঐ লোককে জীবিত পুতেঁ রাখা হয়| আরও একটি ঘটনা হচ্ছে বাড়ীর নিকটে একটি কুয়া ছিলো| ঐ কুয়ায় প্রচুর পরিমানে শিং মাছ ছিলো| এলাকার কোন লোক অন্যায় করলে শাস্তি হিসাবে তাকে ঐ কুয়ায় ফেলে দেয়া হতো| মুরারি চাদঁ থেকে ব্রজ সুন্দরী, তারপর রাজা গীরিশ চন্দ্র রায়| তারপর তার ভাগ্নে সীতা বাবু| তিনি সুলেমান খারঁ সঙ্গে বাড়ী বিনিময় করে ভারতে চলে যান| সুলেমান খাঁন বাড়ীটি বিক্রি করেন আজাদ মিয়া ও আব্দুল হক (মাষ্টার) গং নিকট| তৎকালিন সময়ের কোন চিহ্ন নেই| ধং¯ে^ পথে| বর্তমানে বাড়ীটি তফাদার বাড়ী হিসাবে পরিচিত|
লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, শাহাব উদ্দিন শাহিন দাবী জানিয়ে বলেন বাড়ীটি নানা কারনে ঐতিহাসিক| রক্ষনা বেক্ষন করা প্রয়োজন| ফুল বাগান, পার্ক, লাইব্রেরী, বিশ্রামাগার, শৌচাগার, সহ মুরারি চাদঁ ও ব্রজ সুন্দরী, এবং রাজা গীরিশ চন্দ্র এর ভার্স্কজ স্থাপন সময়ের দাবী|

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
সিলেটের ঐতিহ্যবাহি এম সি কলেজ এবং রাজা জি সি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা মুরারী চানঁ সেন ও রাজা গীরিশ চন্দ্র সেন এ বাড়ীটি ধং¯ে^র পথে| বালাগঞ্জ উপজেলা বালাগঞ্জ ইউনিয়নের বোয়ালজুড় বাজারের নিকটবর্তী চরভিতা গ্রামে এই বাড়ীটির অবস্থান| এই গ্রামের কৃতি সন্তান মুরারী চানঁ সেন| তিনি জমিদার ছিলেন| তারঁ কোন সন্তন ছিলো না| পালক পুত্র রাজা গীরিশ চন্দ্র রায়| রাজা গীরিশ চন্দ্র রায় সিলেট এম. সি. কলেজ ও রাজা জি, সি হাই স্কুলের ভুমি দাতা| রাজা গীরিশ চন্দ্র রায় ১৮৪৫ সালের মার্চ মাসে জন্ম গ্রহন করেন চরভিতা গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে| পিতা দ্বীপচন্দ্র নন্দী| ৫ বছর বয়সে তিনি “মুরারী চাঁদ এস্টেট” এর মালিক মুরারী চাঁেদর মেয়ে ব্রজ সুন্দরী কর্তৃক দওক পুত্র হিসাবে গৃহিত হন| যৌবনে রাজা গীরিশ চন্দ্র রায় কুসংসর্গে বিপথে চালিত হন| ১৮৭৪ সালে লর্ড নর্থ ব্রুক সিলেটে আসলে গীরিশ চন্দ্র রায় কে দরবারে আমন্ত্রন করা হয়নি| এতে তিনি মনে আঘাত পান| এ ঘটনায় তিনি তার মত পরিবর্তন করেন| ১৮৮৬ সালে তিনি “মুরারী চাঁদ স্কুল” স্থাপন করেন| ১৮৯২ সালে এই স্কুলটি কলেজে উন্নীত হয়| এটি সিলেট তথা আসামের প্রথম কলেজ| ১৮৯৭ সালে ভুমিকম্পে কলেজটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে, তিনি নিজ ঘরবাড়ী মেরামত না করে সর্বশক্তি অর্থ ব্যায় করে কলেজটি মেরামত করেন| তিনি বাঙালীদের মধ্যে প্রখম চা বাগান স্থাপন করেন| তিনি ন্যায়পরায়ন, ধার্মিক, সমাজসবেক, পরউপকারী ছিলেন| তিনি সরকার কর্তৃক রায় বাহাদুর ও ১৮৯২ সালে রাজা খেতাব লাভ করেন| তিনি ১৯০৮ সালে মৃত্যু বরন করেন| তৎকালিন সময়ে জমিদার বাড়ীতে সাধারন লোকজন যেতে সাহস করতো না| ছাতা মাথায় দিয়ে কিংবা পায়ে জুতা নিয়ে যেতে সাহস করতো না| সাধারন লোক জনের মধ্যে একটা ভয় সব সময় কাজ করতো| লোকমুখে জানা যায়, একবার নাকি এক লোক জমিদার বাড়ীতে এসে “তামাক” খেতে চাইলে জমিদার বাড়ীর লোকজন রাগান্নিত হয়ে ঐ লোককে জীবিত পুতেঁ রাখা হয়| আরও একটি ঘটনা হচ্ছে বাড়ীর নিকটে একটি কুয়া ছিলো| ঐ কুয়ায় প্রচুর পরিমানে শিং মাছ ছিলো| এলাকার কোন লোক অন্যায় করলে শাস্তি হিসাবে তাকে ঐ কুয়ায় ফেলে দেয়া হতো| মুরারি চাদঁ থেকে ব্রজ সুন্দরী, তারপর রাজা গীরিশ চন্দ্র রায়| তারপর তার ভাগ্নে সীতা বাবু| তিনি সুলেমান খারঁ সঙ্গে বাড়ী বিনিময় করে ভারতে চলে যান| সুলেমান খাঁন বাড়ীটি বিক্রি করেন আজাদ মিয়া ও আব্দুল হক (মাষ্টার) গং নিকট| তৎকালিন সময়ের কোন চিহ্ন নেই| ধং¯ে^ পথে| বর্তমানে বাড়ীটি তফাদার বাড়ী হিসাবে পরিচিত|
লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, শাহাব উদ্দিন শাহিন দাবী জানিয়ে বলেন বাড়ীটি নানা কারনে ঐতিহাসিক| রক্ষনা বেক্ষন করা প্রয়োজন| ফুল বাগান, পার্ক, লাইব্রেরী, বিশ্রামাগার, শৌচাগার, সহ মুরারি চাদঁ ও ব্রজ সুন্দরী, এবং রাজা গীরিশ চন্দ্র এর ভার্স্কজ স্থাপন সময়ের দাবী|

আপনার মতামত লিখুন