মহারাজা দিঘীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার: রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি, আপন বোন গ্রেফতার
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ:- পঞ্চগড়, ১৬ জুলাই ২০২৬: পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকার মহারাজা দিঘীতে ভেসে ওঠা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন বড় বোন মোছা. সমলা আক্তার (২৪)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই দুপুরে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ভিতরগড় গ্রামের মহারাজা দিঘীতে স্থানীয়রা এক যুবকের মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে সদর থানা পুলিশ, ডিবি, সিআইডির ফরেনসিক টিম ও পিবিআই ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি সদর উপজেলার মালাদাম এলাকার বাসিন্দা মো. মানিক হোসেন (১৯), রইস উদ্দীনের ছেলে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ডিবি পুলিশের তদন্তে নিহতের কোমরে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট উদ্ধার হয়। সেই চিরকুটের লেখার সূত্র ধরে সমলা আক্তারের কক্ষ তল্লাশি করে একই ধরনের লেখা সম্বলিত একটি ক্যালেন্ডার জব্দ করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সমলা আক্তার জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে তার ছোট ভাই মানিক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে। পরে সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরে স্বামীকে জানান।
পুলিশের দাবি, গত ১৩ জুলাই সমলা আক্তার কৌশলে মানিককে মহারাজা দিঘী এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর পর রাতে দিঘীর পশ্চিম পাড়ে নিয়ে যান। এরপর তার মোবাইল ফোন পানিতে ফেলে দেন এবং আগে থেকে লেখা একটি চিরকুট কোমরে গুঁজে রেখে স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে অন্য একজন ব্যক্তি মানিককে হত্যা করে মরদেহ দিঘীর পানিতে ফেলে দেয় বলে সমলা আক্তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে তদন্তে নিহতের ব্যবহৃত একটি দ্বিতীয় বাটন ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
মহারাজা দিঘীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার: রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি, আপন বোন গ্রেফতার
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ:- পঞ্চগড়, ১৬ জুলাই ২০২৬: পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকার মহারাজা দিঘীতে ভেসে ওঠা এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন বড় বোন মোছা. সমলা আক্তার (২৪)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই দুপুরে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ভিতরগড় গ্রামের মহারাজা দিঘীতে স্থানীয়রা এক যুবকের মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে সদর থানা পুলিশ, ডিবি, সিআইডির ফরেনসিক টিম ও পিবিআই ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি সদর উপজেলার মালাদাম এলাকার বাসিন্দা মো. মানিক হোসেন (১৯), রইস উদ্দীনের ছেলে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ডিবি পুলিশের তদন্তে নিহতের কোমরে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট উদ্ধার হয়। সেই চিরকুটের লেখার সূত্র ধরে সমলা আক্তারের কক্ষ তল্লাশি করে একই ধরনের লেখা সম্বলিত একটি ক্যালেন্ডার জব্দ করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সমলা আক্তার জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে তার ছোট ভাই মানিক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে। পরে সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরে স্বামীকে জানান।
পুলিশের দাবি, গত ১৩ জুলাই সমলা আক্তার কৌশলে মানিককে মহারাজা দিঘী এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর পর রাতে দিঘীর পশ্চিম পাড়ে নিয়ে যান। এরপর তার মোবাইল ফোন পানিতে ফেলে দেন এবং আগে থেকে লেখা একটি চিরকুট কোমরে গুঁজে রেখে স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে অন্য একজন ব্যক্তি মানিককে হত্যা করে মরদেহ দিঘীর পানিতে ফেলে দেয় বলে সমলা আক্তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে তদন্তে নিহতের ব্যবহৃত একটি দ্বিতীয় বাটন ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন