ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বরেন্দ্র প্রেস ক্লাব সভাপতিকে হত্যাচেষ্টার আসামি কারাগারে

বরেন্দ্র প্রেস ক্লাব সভাপতিকে হত্যাচেষ্টার আসামি কারাগারে

বরেন্দ্র প্রেস ক্লাব সভাপতিকে হত্যাচেষ্টার আসামি কারাগারে 

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:- ​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে বেআইনি প্রবেশ, চাঁদা দাবি এবং প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে (৩৭)  প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২ নম্বর আসামী সুরুজ আলীকে (৩০) জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

​আজ ২৭ জুলাই (সোমবার) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ (এমএম-৫) আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে, বিজ্ঞ বিচারক মোঃ আশিকুর রহমান আসামী সুরুজ আলীর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামীদের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

​উল্লেখ্য, বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সন্ত্রাসী হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা (মামলা নং-০৬, তারিখ: ০৮/০৩/২০২৬) দায়েরের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।​পিস্তল ঠেকিয়ে চাঁদা দাবি ও নৃশংস হামলা হয় সেদিন। 

​মামলার এজাহার  সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন শিরোইল কাঁচাবাজারস্থ বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১ নম্বর আসামী নূরে ইসলাম মিলন (৪৫) তার মাথায় পিস্তল ঠেকায়।

​একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির সময় ২ নম্বর আসামী সুরুজ আলী ধারালো চাকু দিয়ে সভাপতি রেজাউল করিমের পেটে আঘাতের চেষ্টা চালান। আঘাত প্রতিহত করতে গেলে রেজাউল করিমের কোমরের নিচে উপর্যুপরি কোপ দিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়।

 পরবর্তীতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার শরীরে ১৩টি সেলাই পড়ে। উক্ত ঘটনায় বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারান্তরীণ আসামী সুরুজ আলী নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি মূলতঃ একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক কোনো শিক্ষা সনদ না থাকা সত্ত্বেও রাতারাতি নিজেকে 'সাংবাদিক' হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি।

 অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তিনি যুবলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি রাজশাহী প্রেসক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক পদে রয়েছেন। 

​দীর্ঘ তদন্ত ও চার্জশিট দাখিলের পর আজ বিচারক মোঃ আশিকুর রহমানের আদালতে আসামিরা হাজির হলে প্রধান হামলাকারী সুরুজ আলীর জামিন নামঞ্জুর করে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


বরেন্দ্র প্রেস ক্লাব সভাপতিকে হত্যাচেষ্টার আসামি কারাগারে

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

বরেন্দ্র প্রেস ক্লাব সভাপতিকে হত্যাচেষ্টার আসামি কারাগারে 

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:- ​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে বেআইনি প্রবেশ, চাঁদা দাবি এবং প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে (৩৭)  প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২ নম্বর আসামী সুরুজ আলীকে (৩০) জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।

​আজ ২৭ জুলাই (সোমবার) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ (এমএম-৫) আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে, বিজ্ঞ বিচারক মোঃ আশিকুর রহমান আসামী সুরুজ আলীর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামীদের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

​উল্লেখ্য, বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সন্ত্রাসী হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা (মামলা নং-০৬, তারিখ: ০৮/০৩/২০২৬) দায়েরের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।​পিস্তল ঠেকিয়ে চাঁদা দাবি ও নৃশংস হামলা হয় সেদিন। 

​মামলার এজাহার  সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন শিরোইল কাঁচাবাজারস্থ বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১ নম্বর আসামী নূরে ইসলাম মিলন (৪৫) তার মাথায় পিস্তল ঠেকায়।

​একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির সময় ২ নম্বর আসামী সুরুজ আলী ধারালো চাকু দিয়ে সভাপতি রেজাউল করিমের পেটে আঘাতের চেষ্টা চালান। আঘাত প্রতিহত করতে গেলে রেজাউল করিমের কোমরের নিচে উপর্যুপরি কোপ দিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়।

 পরবর্তীতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার শরীরে ১৩টি সেলাই পড়ে। উক্ত ঘটনায় বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারান্তরীণ আসামী সুরুজ আলী নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি মূলতঃ একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক কোনো শিক্ষা সনদ না থাকা সত্ত্বেও রাতারাতি নিজেকে 'সাংবাদিক' হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি।

 অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তিনি যুবলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি রাজশাহী প্রেসক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক পদে রয়েছেন। 

​দীর্ঘ তদন্ত ও চার্জশিট দাখিলের পর আজ বিচারক মোঃ আশিকুর রহমানের আদালতে আসামিরা হাজির হলে প্রধান হামলাকারী সুরুজ আলীর জামিন নামঞ্জুর করে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ