যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের হিদিয়া এএনএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ।
ইমাদুল ইসলাম যশোর জেলা প্রতিনিধি:- তিনি ইচ্ছেমতো স্কুলে যান-আসেন। যশোর শহরের নীলগঞ্জে বাড়ি হওয়ায় প্রায় তিনি স্কুলে যান না বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। গত একমাসে তিনি ছুটি ছাড়া তিনদিন অনুপস্থিত ছিল বলে হাজিরা খাতা থেকে তথ্য মিলেছে। কেবল তাই না, গত মঙ্গলবার স্কুলে না গিয়ে শাহনাজ পারভীন যশোর-৪ আসনের এমপি অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলায় অংশ নেন। ওইসময় তিনি এমপি ও তার অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে নোংরা কথাবার্তা বলেন, যা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। শাহনাজ পারভীন ওইদিন বলেন,‘এমপি গোলাম রসুল মেয়ে দিয়ে ব্যবসা করেন। তার মেয়ে নেশা করেন। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে না পারলে আমাদের হাতে তুলে দিক আমরাই বিচার করবো।’ এর দুই-একদিনের মধ্যে পাল্টিখেয়ে উল্টো কথা বলছেন শিক্ষকসমাজের কলঙ্ক এই নারী। তার আচরণের কারণে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
অভয়নগরের মানুষের বক্তব্য-শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন না করে অভয়নগরেরই এমপি বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরা বক্তব্য দেওয়ার ধৃষ্টতা কোন ক্ষমতায় দেখালেন শাহনাজ পারভীন? তার ক্ষমতার খুঁটি কোথায়? কার শক্তিতে তিনি দিনের পর দিন স্কুলে না গিয়ে গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেক্ষেত্রে অভয়নগর উপজেলা ও যশোর জেলা শিক্ষা অফিসারের কি কোনো দায়-দায়িত্ব নেই? নাকি সব আল্লাহরওয়াস্তে চলছে?
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না ভরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন তিনি যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবনের হামলাকারীদের সাথে অংশ নেন। যার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি যে নিয়মিত স্কুলে যান না তার প্রমাণ হাজিরা খাতা। সেই হাজিরা খাতার ছবিও সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশের অভিযোগ, একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা। কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকের পেশাগত নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকেন, তাহলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন শিক্ষকের সমাজের জন্য আদর্শ হওয়া উচিত। তার কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বলেন, “আমি ডিসি অফিসে কাজে গিয়েছিলাম। আমাদের কোনো পরিচালনা কমিটি নেই, তাই ছুটি নেওয়া হয়নি।”
তবে, তিনি এমপির বাড়ির সামনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিমালা রয়েছে। দায়িত্বকালীন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিয়ম অনুযায়ী ছুটি গ্রহণ করতে হয়। তা না করে অন্যত্র অবস্থান করলে সেটি তদন্তসাপেক্ষ বিষয় হতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা নিরুৎসাহিত হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাকে এ ধরনের কোনো বিষয় জানানো হয়নি। যদি লিখিত অভিযোগ পাই, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন বলেন,‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে কী করা যায় দেখবো।’
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দিন দীপু বলেন, “ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার জন্য কোনো লিখিত দরখাস্ত বা ছুটির আবেদন আমার জানা মতে জমা দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের হিদিয়া এএনএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ।
ইমাদুল ইসলাম যশোর জেলা প্রতিনিধি:- তিনি ইচ্ছেমতো স্কুলে যান-আসেন। যশোর শহরের নীলগঞ্জে বাড়ি হওয়ায় প্রায় তিনি স্কুলে যান না বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। গত একমাসে তিনি ছুটি ছাড়া তিনদিন অনুপস্থিত ছিল বলে হাজিরা খাতা থেকে তথ্য মিলেছে। কেবল তাই না, গত মঙ্গলবার স্কুলে না গিয়ে শাহনাজ পারভীন যশোর-৪ আসনের এমপি অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলায় অংশ নেন। ওইসময় তিনি এমপি ও তার অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে নোংরা কথাবার্তা বলেন, যা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। শাহনাজ পারভীন ওইদিন বলেন,‘এমপি গোলাম রসুল মেয়ে দিয়ে ব্যবসা করেন। তার মেয়ে নেশা করেন। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে না পারলে আমাদের হাতে তুলে দিক আমরাই বিচার করবো।’ এর দুই-একদিনের মধ্যে পাল্টিখেয়ে উল্টো কথা বলছেন শিক্ষকসমাজের কলঙ্ক এই নারী। তার আচরণের কারণে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
অভয়নগরের মানুষের বক্তব্য-শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন না করে অভয়নগরেরই এমপি বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরা বক্তব্য দেওয়ার ধৃষ্টতা কোন ক্ষমতায় দেখালেন শাহনাজ পারভীন? তার ক্ষমতার খুঁটি কোথায়? কার শক্তিতে তিনি দিনের পর দিন স্কুলে না গিয়ে গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেক্ষেত্রে অভয়নগর উপজেলা ও যশোর জেলা শিক্ষা অফিসারের কি কোনো দায়-দায়িত্ব নেই? নাকি সব আল্লাহরওয়াস্তে চলছে?
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না ভরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন তিনি যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবনের হামলাকারীদের সাথে অংশ নেন। যার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি যে নিয়মিত স্কুলে যান না তার প্রমাণ হাজিরা খাতা। সেই হাজিরা খাতার ছবিও সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশের অভিযোগ, একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা। কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকের পেশাগত নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকেন, তাহলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন শিক্ষকের সমাজের জন্য আদর্শ হওয়া উচিত। তার কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বলেন, “আমি ডিসি অফিসে কাজে গিয়েছিলাম। আমাদের কোনো পরিচালনা কমিটি নেই, তাই ছুটি নেওয়া হয়নি।”
তবে, তিনি এমপির বাড়ির সামনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিমালা রয়েছে। দায়িত্বকালীন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিয়ম অনুযায়ী ছুটি গ্রহণ করতে হয়। তা না করে অন্যত্র অবস্থান করলে সেটি তদন্তসাপেক্ষ বিষয় হতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা নিরুৎসাহিত হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাকে এ ধরনের কোনো বিষয় জানানো হয়নি। যদি লিখিত অভিযোগ পাই, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন বলেন,‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে কী করা যায় দেখবো।’
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দিন দীপু বলেন, “ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার জন্য কোনো লিখিত দরখাস্ত বা ছুটির আবেদন আমার জানা মতে জমা দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

আপনার মতামত লিখুন