বারহাট্টায় শিকলে বন্দি মাদকাসক্ত যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
ওমর ফারুক আহম্মদ, (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:- নেত্রকোণার বারহাট্টায় মো. শুভ্র মিয়া (২২) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামের নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল মোমেনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শুভ্র প্রায় তিন বছর ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকাসক্তি থেকে তাকে ফেরাতে তিন মাস একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) রাখা হয়েছিল। তবে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পর তিনি আবারও মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েন। এরপর তার আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয় বলে পরিবারের দাবি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘরের একটি কক্ষে শুভ্রর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকান। এ সময় তারা তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
স্বজনদের দাবি, মাদক সেবনের পর শুভ্র অনেক সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। মাদক না পেলে পরিবারের সদস্যসহ অন্যদের মারধর করতেন। এমনকি বিভিন্ন সময় নিজের শরীরেও আঘাত করে রক্তাক্ত করতেন। তার এমন আচরণে পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। এ কারণে প্রায় দুই মাস ধরে তাকে বাড়ির একটি কক্ষে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, কয়েক দিন আগেও শুভ্র তার মা ঝর্ণা আক্তারকে মারধর করেন। পরে তাকে ওই কক্ষে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়।
শুভ্রর মা ঝর্ণা আক্তার বলেন, ‘আগে শুভ্র ভালোই ছিল। প্রায় তিন বছর ধরে মাদকে জড়িয়ে পড়ার পর তার আচরণে পরিবর্তন আসে। মাদক না পেলে মানুষকে মারধর করত। তাকে তিন মাস রিহ্যাবেও রাখা হয়েছিল। কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রায় দুই মাস ধরে তাকে ঘরের কেবিনে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখতে হতো। আজ ঘরের ভেতরে থাকা কাপড় দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়েছে।’
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশ উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
বারহাট্টায় শিকলে বন্দি মাদকাসক্ত যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
ওমর ফারুক আহম্মদ, (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:- নেত্রকোণার বারহাট্টায় মো. শুভ্র মিয়া (২২) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামের নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল মোমেনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শুভ্র প্রায় তিন বছর ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকাসক্তি থেকে তাকে ফেরাতে তিন মাস একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) রাখা হয়েছিল। তবে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পর তিনি আবারও মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েন। এরপর তার আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয় বলে পরিবারের দাবি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘরের একটি কক্ষে শুভ্রর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকান। এ সময় তারা তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
স্বজনদের দাবি, মাদক সেবনের পর শুভ্র অনেক সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। মাদক না পেলে পরিবারের সদস্যসহ অন্যদের মারধর করতেন। এমনকি বিভিন্ন সময় নিজের শরীরেও আঘাত করে রক্তাক্ত করতেন। তার এমন আচরণে পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। এ কারণে প্রায় দুই মাস ধরে তাকে বাড়ির একটি কক্ষে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, কয়েক দিন আগেও শুভ্র তার মা ঝর্ণা আক্তারকে মারধর করেন। পরে তাকে ওই কক্ষে শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়।
শুভ্রর মা ঝর্ণা আক্তার বলেন, ‘আগে শুভ্র ভালোই ছিল। প্রায় তিন বছর ধরে মাদকে জড়িয়ে পড়ার পর তার আচরণে পরিবর্তন আসে। মাদক না পেলে মানুষকে মারধর করত। তাকে তিন মাস রিহ্যাবেও রাখা হয়েছিল। কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রায় দুই মাস ধরে তাকে ঘরের কেবিনে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখতে হতো। আজ ঘরের ভেতরে থাকা কাপড় দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়েছে।’
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশ উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন