কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিককে আদালতে তলব
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম : ১৪/৮/২৬ কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিককে তলব করেছেন আদালত। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতারে ‘অবহেলা ও গাফিলতি’ দেখিয়ে আদালতের কাজে অসহযোগিতার অভিযোগে ওসিকে তলব করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওসির প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা দায়রা জজ (প্রথম আদালত) মোহাম্মদ নাজমুল হক এ নির্দেশ দেন। জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, এনআই অ্যাক্টের (দ্যা ন্যাগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট-১৮৮২) মামলায় উলিপুরের বাসিন্দা জাহিদ হাসান নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত ওই পুলিশ কনস্টেবলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। আসামি পলাতক থাকায় আদালত আসামির স্থায়ী ঠিকানা (উলিপুর) এবং বর্তমান ঠিকানা (লালমনিরহাট) উল্লেখ করে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা তামিল করার জন্য উলিপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আসামি পুলিশের একজন চাকরিরত সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ওসি আসামিকে গ্রেফতার করেননি। এমনকি গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
ওসিকে তলব আদেশে আদলত উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘আদালত কর্তৃক জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তামিলকারী কর্তৃপক্ষ (ওসি উলিপুর) চরম অবহেলা ও গাফিলতি প্রদর্শন করেছেন। আদালতের কাজে অসহযোগিতার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উলিপুর থানা, কুড়িগ্রামের বিরুদ্ধে দ্যা পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ১৮৭ ধারার বিধান অনুসারে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, কিংবা আদালত অবমাননার জন্য কেন মাননীয় সুপ্রিম কোর্টকে অবগত করা হবে না এবং অসদাচরণ ও অদক্ষতার জন্য তার (ওসি) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট কেন সুপারিশ করা হবে না , সে বিষয়ে আগামী ৩০ আগস্ট সকাল ৯টায় সংশ্লিষ্ট আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। ব্যর্থতায় তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আদেশের অনুলিপি উলিপুর থানার ওসির পাশাপাশি রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি এবং কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আদালতের আদেশের কপি এখনও পাইনি। পেলে জবাব দেওয়া হবে।’
পরোয়ানা তামিল না হওয়া প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘এমনটা আমার নলেজে নেই। কয়েকদিন আগে ডিএমপি থেকে এক কনস্টেবলকে ধরে এনে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছি। আর লালমনিরহাটে কর্মরত তারে ধরতে পারবো না। তাহলে ওয়ারেন্ট অফিসার হয়তো ঠিক মতো ইয়ে করে নাই।’
আদালতে ঢুকে সেই ওসির ৩ স্যালুট, বিচারক বললেন ‘আপনি এখানে কেন’ এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার ভাটারায় প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মেজর মো. সাদিকুল হককে (৩০) গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে অসংগতি থাকায় ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করে কারণ দর্শাতে বলেছেন আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ তলবের আদেশ দেন।
এদিকে ফেনীর দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমানকে গত রবিবার (৯ আগস্ট) অযোগ্য ঘোষণা করে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান। তবে এবার ট্রাইব্যুনালের সেই বিচারকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ‘প্রত্যাখ্যাত’ হয়েছেন একই ওসি। বুধবার (১২ আগস্ট) ওই আদালতের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। আদালতের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিককে আদালতে তলব
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম : ১৪/৮/২৬ কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিককে তলব করেছেন আদালত। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতারে ‘অবহেলা ও গাফিলতি’ দেখিয়ে আদালতের কাজে অসহযোগিতার অভিযোগে ওসিকে তলব করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওসির প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা দায়রা জজ (প্রথম আদালত) মোহাম্মদ নাজমুল হক এ নির্দেশ দেন। জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, এনআই অ্যাক্টের (দ্যা ন্যাগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট-১৮৮২) মামলায় উলিপুরের বাসিন্দা জাহিদ হাসান নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত ওই পুলিশ কনস্টেবলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। আসামি পলাতক থাকায় আদালত আসামির স্থায়ী ঠিকানা (উলিপুর) এবং বর্তমান ঠিকানা (লালমনিরহাট) উল্লেখ করে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানা তামিল করার জন্য উলিপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আসামি পুলিশের একজন চাকরিরত সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ওসি আসামিকে গ্রেফতার করেননি। এমনকি গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
ওসিকে তলব আদেশে আদলত উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘আদালত কর্তৃক জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তামিলকারী কর্তৃপক্ষ (ওসি উলিপুর) চরম অবহেলা ও গাফিলতি প্রদর্শন করেছেন। আদালতের কাজে অসহযোগিতার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উলিপুর থানা, কুড়িগ্রামের বিরুদ্ধে দ্যা পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ১৮৭ ধারার বিধান অনুসারে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, কিংবা আদালত অবমাননার জন্য কেন মাননীয় সুপ্রিম কোর্টকে অবগত করা হবে না এবং অসদাচরণ ও অদক্ষতার জন্য তার (ওসি) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট কেন সুপারিশ করা হবে না , সে বিষয়ে আগামী ৩০ আগস্ট সকাল ৯টায় সংশ্লিষ্ট আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। ব্যর্থতায় তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আদেশের অনুলিপি উলিপুর থানার ওসির পাশাপাশি রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি এবং কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আদালতের আদেশের কপি এখনও পাইনি। পেলে জবাব দেওয়া হবে।’
পরোয়ানা তামিল না হওয়া প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘এমনটা আমার নলেজে নেই। কয়েকদিন আগে ডিএমপি থেকে এক কনস্টেবলকে ধরে এনে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছি। আর লালমনিরহাটে কর্মরত তারে ধরতে পারবো না। তাহলে ওয়ারেন্ট অফিসার হয়তো ঠিক মতো ইয়ে করে নাই।’
আদালতে ঢুকে সেই ওসির ৩ স্যালুট, বিচারক বললেন ‘আপনি এখানে কেন’ এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার ভাটারায় প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মেজর মো. সাদিকুল হককে (৩০) গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে অসংগতি থাকায় ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করে কারণ দর্শাতে বলেছেন আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ তলবের আদেশ দেন।
এদিকে ফেনীর দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমানকে গত রবিবার (৯ আগস্ট) অযোগ্য ঘোষণা করে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান। তবে এবার ট্রাইব্যুনালের সেই বিচারকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ‘প্রত্যাখ্যাত’ হয়েছেন একই ওসি। বুধবার (১২ আগস্ট) ওই আদালতের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। আদালতের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন