ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

শ্রীপুরে ইসলামী আন্দোলনের নবগঠিত কমিটির শপথ ও পরিচিতি সভা।

শ্রীপুরে ইসলামী আন্দোলনের নবগঠিত কমিটির শপথ ও পরিচিতি সভা।

নান্দাইল উপজেলা সার ও বীজ ডিলার মনিটরিং সভা অনুষ্ঠিত

নান্দাইল উপজেলা সার ও বীজ ডিলার মনিটরিং সভা অনুষ্ঠিত

টেন্ডার ছাড়াই সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের মালামাল বিক্রির অভিযোগ

টেন্ডার ছাড়াই সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের মালামাল বিক্রির অভিযোগ

সরিষাবাড়ীতে দুই মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ,বাড়িতে তালা এলাকায় চাপা ক্ষোভ

সরিষাবাড়ীতে দুই মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ,বাড়িতে তালা এলাকায় চাপা ক্ষোভ

নাসিরনগরে হিন্দু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় জিডি

নাসিরনগরে হিন্দু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় জিডি

পীরগাছায় জমি কেনার ১৭ বছরেও দখল বুঝে না দিয়ে হয়রানির অভিযোগ বিক্রেতার বিরুদ্ধে

পীরগাছায় জমি কেনার ১৭ বছরেও দখল বুঝে না দিয়ে হয়রানির অভিযোগ বিক্রেতার বিরুদ্ধে

‎নবীনগরে প্রতিবন্ধী দীপঙ্করের ঘরে দুর্ধর্ষ চুরি, মাটি খুঁড়ে প্রবেশ করে লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা

‎নবীনগরে প্রতিবন্ধী দীপঙ্করের ঘরে দুর্ধর্ষ চুরি, মাটি খুঁড়ে প্রবেশ করে লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা

বিশ্বম্ভরপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ভারতীয় ফুচকা,কাভার্ডভ্যানসহ ৬৫ লাখ টাকার মামলামাল জব্দ, আটক ২

বিশ্বম্ভরপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ভারতীয় ফুচকা,কাভার্ডভ্যানসহ ৬৫ লাখ টাকার মামলামাল জব্দ, আটক ২

৭৪ দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার চাপ

টেন্ডার ছাড়াই সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের মালামাল বিক্রির অভিযোগ

টেন্ডার ছাড়াই সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের মালামাল বিক্রির অভিযোগ

টেন্ডার ছাড়াই সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের মালামাল বিক্রির অভিযোগ

৭৪ দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার চাপ

ইমরান হোসেন, (যশোর) প্রতিনিধি:- যশোরের কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের পুরোনো জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, লোহার পাইপ ও তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল টেন্ডার বা প্রকাশ্য দরপত্র ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ৭৪টি বাণিজ্যিক দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার জন্য ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন দোকান মালিকরা।

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মেহেরুন্নেসা মেরিকে না জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত ও সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বুলু এসব মালামাল বিক্রি করেছেন—এমন অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট বিদ্যালয়ের ১১টি পুরোনো জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, লোহার পাইপসহ বিভিন্ন মালামাল এবং তামার তার বিক্রি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্তের দাবি, পুরোনো গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ও লোহার পাইপসহ মালামাল দুই লটে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এডহক কমিটির অনুমতি নিয়েই মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।

তবে বিক্রির অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি বলে জানা গেছে। ফলে মালামাল বিক্রি, বিক্রয়মূল্য এবং সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোনো মালামাল বিক্রি করতে হলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে প্রকাশ্যে টেন্ডার আহ্বানের পাশাপাশি এলাকায় মাইকিং করে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রায় ৭৪টি বাণিজ্যিক দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, পূর্বের চুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা বা যথাযথ নোটিশ ছাড়াই অতিরিক্ত জামানতের অর্থ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ডাক্তার সীমান্ত ও সহিদুল ইসলাম বলেন, চুক্তি অনুযায়ী তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের দোকানে ব্যবসা করে আসছেন। চুক্তির মেয়াদ ও শর্ত বহাল থাকা অবস্থায় জামানত দ্বিগুণ করার জন্য চাপ দেওয়া হলে তা তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত বলেন, ৭৪টি দোকানের মধ্যে প্রায় ৩০টি দোকান প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকরা নিজেরা ব্যবহার না করে অন্যের কাছে বেশি ভাড়ায় দিয়েছেন। এ কারণে এসব দোকানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দোকান সংস্কারের প্রয়োজন থাকায় জামানত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দোকান পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো মালামাল বিক্রি বা সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি কেশবপুরে যোগদান করেছেন। সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের পুরোনো মালামাল বিক্রিতে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রি ও দোকানের জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত—দুই বিষয়েই অভিযোগ ওঠায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


টেন্ডার ছাড়াই সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের মালামাল বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

টেন্ডার ছাড়াই সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের মালামাল বিক্রির অভিযোগ

৭৪ দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার চাপ

ইমরান হোসেন, (যশোর) প্রতিনিধি:- যশোরের কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের পুরোনো জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, লোহার পাইপ ও তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল টেন্ডার বা প্রকাশ্য দরপত্র ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ৭৪টি বাণিজ্যিক দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার জন্য ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন দোকান মালিকরা।

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মেহেরুন্নেসা মেরিকে না জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত ও সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বুলু এসব মালামাল বিক্রি করেছেন—এমন অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট বিদ্যালয়ের ১১টি পুরোনো জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, লোহার পাইপসহ বিভিন্ন মালামাল এবং তামার তার বিক্রি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।

তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্তের দাবি, পুরোনো গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ও লোহার পাইপসহ মালামাল দুই লটে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এডহক কমিটির অনুমতি নিয়েই মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।

তবে বিক্রির অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি বলে জানা গেছে। ফলে মালামাল বিক্রি, বিক্রয়মূল্য এবং সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোনো মালামাল বিক্রি করতে হলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে প্রকাশ্যে টেন্ডার আহ্বানের পাশাপাশি এলাকায় মাইকিং করে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রায় ৭৪টি বাণিজ্যিক দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, পূর্বের চুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা বা যথাযথ নোটিশ ছাড়াই অতিরিক্ত জামানতের অর্থ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ডাক্তার সীমান্ত ও সহিদুল ইসলাম বলেন, চুক্তি অনুযায়ী তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের দোকানে ব্যবসা করে আসছেন। চুক্তির মেয়াদ ও শর্ত বহাল থাকা অবস্থায় জামানত দ্বিগুণ করার জন্য চাপ দেওয়া হলে তা তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত বলেন, ৭৪টি দোকানের মধ্যে প্রায় ৩০টি দোকান প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকরা নিজেরা ব্যবহার না করে অন্যের কাছে বেশি ভাড়ায় দিয়েছেন। এ কারণে এসব দোকানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দোকান সংস্কারের প্রয়োজন থাকায় জামানত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দোকান পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো মালামাল বিক্রি বা সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি কেশবপুরে যোগদান করেছেন। সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের পুরোনো মালামাল বিক্রিতে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রি ও দোকানের জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত—দুই বিষয়েই অভিযোগ ওঠায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ