টঙ্গী পুর্ব থানার নতুন ওসির যোগদানে স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের ক্ষোভ
বিশেষ প্রতিনিধিঃ ফ্যাসিবাদী হাসিনার ১৭ বছরের দুঃশাসনের সময় বাংলাদেশ পুলিশের কিছু সুবিধাভোগী সদস্য ছিল, যারা সাংবিধানিক ধারার প্রচলন বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের আদেশ কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। টঙ্গী পুর্ব থানায় সদ্য যোগদানকৃত ওসি মাকছুদুল আলম তাদের মধ্যে অন্যতম। এমন একজন ওসি টঙ্গী পুর্ব থানার যোগদান করার স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের ভাষ্যমতে, বিগত ফ্যাসিবাদী হাসিনার দুঃশাসনের পরিক্ষিত সৈনিক মাকছুদুল আলম কি করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ভাইটাল থানায় দায়িত্ব পালন করে। তার মধ্যে তো এখনও ফ্যাসিবাদী সরকারের স্বজন প্রীতি বিরাজমান।
এছাড়াও এই নিয়ে খোদ প্রশাসনের ভিতরে শুরু হয়েছে মুখরোচক আলোচনা।
এমনও শোনা যাচ্ছে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যাত্রা শুরু থেকে এপর্যন্ত ওসি মাকছুদুল আলম বদলী এই প্রথম প্রশ্নের মুখোমুখি জিএমপি প্রশাসন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সাথে আলাপ কালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, পুলিশ সাধারণ মানুষের পিসিপিআর যাচাই করেন, সেইভাবে কর্মকর্তাদের বদলীর আগে তাদের সার্ভিস রেকর্ড যাচাই করা হলে ওসি মাকছুদুল আলমকে স্বেচ্ছায় অবসরের আদেশ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।
তিনি আরো বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমরা যারা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আছি, সব সময় প্রশাসনকে সহযোগিতা করে থাকি। কিন্তু প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি বিতর্কিত ব্যক্তি দিয়ে থানা পরিচালনা করাতে চায়, তার দায়ভার ওনাদের নিতে হবে।
বর্তমান গাজীপুর মেট্রোপলিটনের টঙ্গী পুর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাকসুদুুল আলম ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ২৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, টাঙ্গাইল -৩ (ঘাটাইল) আসনের বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ (এমপি)।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইসলাম, ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ওসি মাকছুদুল আলমকে দ্রুত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
টাঙ্গাইলের স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, এসআই হিসেবে কালিহাতী থানায় যোগদানের পর সেখানে থেকেই পদোন্নতি হয়। এবং ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ।
উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হচ্ছে এস আই থেকে হওয়ার পর তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করার সিদ্ধহস্ত হয়ে যায়। যখন যাকে খুশি বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা ছিল তার নিত্যদিনের কর্মের অংশ।
ঘাটাইল থানার আগে শখিপুর থানায় ৬ আগস্ট থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন কালেও তার বিরুদ্ধে বিএনপির নেতা কর্মীদের নির্যাতন, হয়রানি ও সাজানো মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো অসংখ্য অভিযোগ উঠে। তখন পুলিশ সুপার ঘাটাইল থানার বদলী করেন।
ভৈরব থানাধীন স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওসি মোঃ মাকছুদুল আলম তৎকালীন ফ্যাসিস্ট হাসিনার দলীয় লোক ব্যাতীত অন্য কোন মানুষকে তেমন মূল্যায়ন করতে দেখা যায়নি। এক কথায় বলতে গেলে, সরকারি কর্মকর্তা ওসি মাকছুদুল আলমের মতো এমন একচেটিয়া দলীয় তাঁবেদারি নজীর বিহীন।
শুধু তাই নয়, ৫ আগস্টের আগের দিন পর্যন্ত তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের পেটোয়া বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা সেই বিতর্কিত এসপি হারুনের স্নেহধন্য হয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে তিনি ১ বছর সময়ে কোটি বনে যান।
এই ওসি মাকছুদুল আলমের হাতে নির্যাতনের শিকার ও সাজানো মামলায় আসামি হয়ে জেল খেটেছেন যত গুলো বিএনপি নেতা কর্মী অন্য কোন ওসি তার অর্ধেকও করেনি।
গাজীপুরের সচেতন মহলের প্রশ্ন হচ্ছে - আমি ওসি মোঃ মাকছুদুল আলম সরাসরি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছে জুলাই অভোত্থান ছাত্র জনতার উপর চালানো নির্যাতন হয়রানি প্রকাশ্যে আস্ফালন দেখিয়ে বর্তমান সরকারের আমলে এই যোগাযোগ তার জন্য পুরস্কার বলে মনে হচ্ছে।
গাজীপুরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ থানায় (যা আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি রাসেলের নিজ থানা) বদলী হয়ে এসেছেন।
অনেকের মতে, টাকার কাজে সব হেরে যায়। গুজব ছড়িয়ে পড়েছে ওসি মোঃ মাকছুদুল আলম গাজীপুর মেট্রোপলিটনে বদলীর জন্য অর্ধকোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
পাশাপাশি এমন কথাও শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ এই অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। নিজস্ব লোক না থাকলে তাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে বলে।
এব্যাপারে টঙ্গী পুর্ব থানার অফিসার মোঃ মাকছুদুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারি চাকরির মূল বিষয় হচ্ছে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং প্রতিটি কাজের একটি সিস্টেম থাকে সেটা যথাযথ ভাবে পালন করে। আমি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ নির্দেশ মেনে কর্তব্য পালন করেছি।
আওয়ামী লীগ বা বিএনপি যে দল সরকার গঠন করে সরকারে থেকে দেশ পরিচালনা করবে প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারী সেই সরকারের আদেশ নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে এটাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
টঙ্গী পুর্ব থানার নতুন ওসির যোগদানে স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের ক্ষোভ
বিশেষ প্রতিনিধিঃ ফ্যাসিবাদী হাসিনার ১৭ বছরের দুঃশাসনের সময় বাংলাদেশ পুলিশের কিছু সুবিধাভোগী সদস্য ছিল, যারা সাংবিধানিক ধারার প্রচলন বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের আদেশ কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। টঙ্গী পুর্ব থানায় সদ্য যোগদানকৃত ওসি মাকছুদুল আলম তাদের মধ্যে অন্যতম। এমন একজন ওসি টঙ্গী পুর্ব থানার যোগদান করার স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের ভাষ্যমতে, বিগত ফ্যাসিবাদী হাসিনার দুঃশাসনের পরিক্ষিত সৈনিক মাকছুদুল আলম কি করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ভাইটাল থানায় দায়িত্ব পালন করে। তার মধ্যে তো এখনও ফ্যাসিবাদী সরকারের স্বজন প্রীতি বিরাজমান।
এছাড়াও এই নিয়ে খোদ প্রশাসনের ভিতরে শুরু হয়েছে মুখরোচক আলোচনা।
এমনও শোনা যাচ্ছে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যাত্রা শুরু থেকে এপর্যন্ত ওসি মাকছুদুল আলম বদলী এই প্রথম প্রশ্নের মুখোমুখি জিএমপি প্রশাসন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সাথে আলাপ কালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, পুলিশ সাধারণ মানুষের পিসিপিআর যাচাই করেন, সেইভাবে কর্মকর্তাদের বদলীর আগে তাদের সার্ভিস রেকর্ড যাচাই করা হলে ওসি মাকছুদুল আলমকে স্বেচ্ছায় অবসরের আদেশ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।
তিনি আরো বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমরা যারা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আছি, সব সময় প্রশাসনকে সহযোগিতা করে থাকি। কিন্তু প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি বিতর্কিত ব্যক্তি দিয়ে থানা পরিচালনা করাতে চায়, তার দায়ভার ওনাদের নিতে হবে।
বর্তমান গাজীপুর মেট্রোপলিটনের টঙ্গী পুর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাকসুদুুল আলম ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ২৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, টাঙ্গাইল -৩ (ঘাটাইল) আসনের বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ (এমপি)।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইসলাম, ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ওসি মাকছুদুল আলমকে দ্রুত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
টাঙ্গাইলের স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, এসআই হিসেবে কালিহাতী থানায় যোগদানের পর সেখানে থেকেই পদোন্নতি হয়। এবং ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ।
উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হচ্ছে এস আই থেকে হওয়ার পর তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করার সিদ্ধহস্ত হয়ে যায়। যখন যাকে খুশি বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা ছিল তার নিত্যদিনের কর্মের অংশ।
ঘাটাইল থানার আগে শখিপুর থানায় ৬ আগস্ট থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন কালেও তার বিরুদ্ধে বিএনপির নেতা কর্মীদের নির্যাতন, হয়রানি ও সাজানো মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো অসংখ্য অভিযোগ উঠে। তখন পুলিশ সুপার ঘাটাইল থানার বদলী করেন।
ভৈরব থানাধীন স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওসি মোঃ মাকছুদুল আলম তৎকালীন ফ্যাসিস্ট হাসিনার দলীয় লোক ব্যাতীত অন্য কোন মানুষকে তেমন মূল্যায়ন করতে দেখা যায়নি। এক কথায় বলতে গেলে, সরকারি কর্মকর্তা ওসি মাকছুদুল আলমের মতো এমন একচেটিয়া দলীয় তাঁবেদারি নজীর বিহীন।
শুধু তাই নয়, ৫ আগস্টের আগের দিন পর্যন্ত তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের পেটোয়া বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা সেই বিতর্কিত এসপি হারুনের স্নেহধন্য হয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে তিনি ১ বছর সময়ে কোটি বনে যান।
এই ওসি মাকছুদুল আলমের হাতে নির্যাতনের শিকার ও সাজানো মামলায় আসামি হয়ে জেল খেটেছেন যত গুলো বিএনপি নেতা কর্মী অন্য কোন ওসি তার অর্ধেকও করেনি।
গাজীপুরের সচেতন মহলের প্রশ্ন হচ্ছে - আমি ওসি মোঃ মাকছুদুল আলম সরাসরি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছে জুলাই অভোত্থান ছাত্র জনতার উপর চালানো নির্যাতন হয়রানি প্রকাশ্যে আস্ফালন দেখিয়ে বর্তমান সরকারের আমলে এই যোগাযোগ তার জন্য পুরস্কার বলে মনে হচ্ছে।
গাজীপুরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ থানায় (যা আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি রাসেলের নিজ থানা) বদলী হয়ে এসেছেন।
অনেকের মতে, টাকার কাজে সব হেরে যায়। গুজব ছড়িয়ে পড়েছে ওসি মোঃ মাকছুদুল আলম গাজীপুর মেট্রোপলিটনে বদলীর জন্য অর্ধকোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
পাশাপাশি এমন কথাও শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ এই অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। নিজস্ব লোক না থাকলে তাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে বলে।
এব্যাপারে টঙ্গী পুর্ব থানার অফিসার মোঃ মাকছুদুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারি চাকরির মূল বিষয় হচ্ছে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং প্রতিটি কাজের একটি সিস্টেম থাকে সেটা যথাযথ ভাবে পালন করে। আমি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ নির্দেশ মেনে কর্তব্য পালন করেছি।
আওয়ামী লীগ বা বিএনপি যে দল সরকার গঠন করে সরকারে থেকে দেশ পরিচালনা করবে প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারী সেই সরকারের আদেশ নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে এটাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

আপনার মতামত লিখুন