ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বারহাট্টায় সাহতা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে মোস্তাফিজুর রহমান মাজু

বারহাট্টায় সাহতা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে মোস্তাফিজুর রহমান মাজু

আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা: শালিখার শতখালী বিশ্বাস পাড়া দুর্গামন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পূজা-অর্চনা

আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা: শালিখার শতখালী বিশ্বাস পাড়া দুর্গামন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পূজা-অর্চনা

সরিষাবাড়ীতে সবজি বিক্রেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন

সরিষাবাড়ীতে সবজি বিক্রেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন

বয়ড়া ইউনিয়নের সব দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শন, ব্যক্তিগত অর্থসহায়তায় চেয়ারম্যান ফরিদ।

বয়ড়া ইউনিয়নের সব দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শন, ব্যক্তিগত অর্থসহায়তায় চেয়ারম্যান ফরিদ।

অষ্টমীর দিন কচুয়ার কড়ইয়া মন্দির পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

অষ্টমীর দিন কচুয়ার কড়ইয়া মন্দির পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

নেত্রকোণার মদনে নবযোগদানকৃত ইউএনওর সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা

নেত্রকোণার মদনে নবযোগদানকৃত ইউএনওর সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা

সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে মদনে মানববন্ধন

সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে মদনে মানববন্ধন

ইসলামপুর প্রেসক্লাবে ‘ডেইলি বাংলাদেশ’ সম্পাদক শাহিদুর রহমান শাহিদকে সংবর্ধনা

ইসলামপুর প্রেসক্লাবে ‘ডেইলি বাংলাদেশ’ সম্পাদক শাহিদুর রহমান শাহিদকে সংবর্ধনা

আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা: শালিখার শতখালী বিশ্বাস পাড়া দুর্গামন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পূজা-অর্চনা

আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা: শালিখার শতখালী বিশ্বাস পাড়া দুর্গামন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পূজা-অর্চনা

আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা: শালিখার শতখালী বিশ্বাস পাড়া দুর্গামন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পূজা-অর্চনা

স্টাফ রিপোর্টার সুবীর ঘোষ:- শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন মহাঅষ্টমী আজ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই মাগুরার শালিখা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, শ্রদ্ধা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেবী দুর্গার পূজা-অর্চনা। 

মহাঅষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা। নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে এদিন কুমারী কন্যাকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কুমারী বালিকাকে দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতীক বা মাতৃরূপে পূজা করা হয়। এই আচারের মধ্য দিয়ে মূলত বহির্বিশ্বে নারীজাতি ও মাতৃশক্তির মহিমান্বিত রূপকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।শাস্ত্র অনুসারে, কুমারী মানেই অপার্থিব পবিত্রতা ও সম্ভাবনার রূপ। আজকের এই পবিত্র দিনে সকলের জীবনে শান্তি, আনন্দ ও কল্যাণ নেমে আসুক এই কামনা করি।

মহাঅষ্টমী উপলক্ষে মন্দিরে  মন্দিরে ভক্তদের সমাগম, মন্ত্রোচ্চারণ, চণ্ডীপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠেছে পূজাঙ্গন। দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার চরণে অঞ্জলি নিবেদন করে ভক্তরা প্রার্থনা করছেন বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ, সুখ-সমৃদ্ধি ও অশুভ শক্তির বিনাশের।

মহাঅষ্টমী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শুধু একটি ধর্মীয় তিথি নয়; এটি ভক্তি, আত্মশুদ্ধি, নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির জয়ের এক অনন্য প্রতীক। শারদীয় দুর্গোৎসবের এই বিশেষ দিনে দেবী দুর্গার মহাশক্তির আরাধনার পাশাপাশি কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার পালিত হয়। এসব আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবীকে শক্তি, সাহস, মমতা, পবিত্রতা ও কল্যাণের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করেন ভক্তরা।

শতখালী বিশ্বাস পাড়া দুর্গামন্দিরে মহাঅষ্টমীর পূজা ও কুমারী পূজাঃ মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী বিশ্বাস পাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরে সোমবার রাত ৩ টায়  শুরু হয় মহাঅষ্টমীর পূজা-অর্চনা। নির্ধারিত ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে দেবী দুর্গার আরাধনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় পবিত্র ও ভক্তিময় পরিবেশ। সকাল থেকেই মন্দিরে আসতে থাকেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। দেবীর চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান এবং ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে মহাঅষ্টমীর দিনটি উদ্‌যাপন করেন তাঁরা।

এদিন সকাল ৯টায়  শতখালী বিশ্বাস পাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় মহাঅষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় আচার কুমারী পূজা। এ সময় কুমারী কন্যার মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃরূপ ও মহাশক্তির প্রতীক কল্পনা করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

কুমারী পূজা উপলক্ষে ভক্তরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন, সমাজ থেকে অন্যায়, অশান্তি ও অকল্যাণ দূর হোক; প্রতিটি পরিবারে নেমে আসুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। একই সঙ্গে নারীসমাজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি এবং নারীশক্তির মহিমা উপলব্ধির বার্তাও বহন করে এই পূজা।

নারীশক্তির আরাধনায় কুমারী পূজার বিশেষ তাৎপর্যঃ সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্যে কুমারী পূজা একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার। এ পূজায় কুমারী কন্যার মধ্যে দেবী দুর্গা তথা জগৎজননীর শক্তি ও মাতৃসত্তার প্রতীকী প্রকাশ কল্পনা করা হয়। প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, বয়স ও অন্যান্য নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কুমারী নির্বাচন করে তাঁকে দেবীর প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। বিভিন্ন প্রথায় কুমারীর বয়স ও পূজার পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্যও দেখা যায়।

কুমারী পূজার মূল তাৎপর্য হলো নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নারীর মধ্যে নিহিত শক্তি, পবিত্রতা, মমতা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীকী বন্দনা। বিশ্বাস করা হয়, জগতের প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে যে মহাশক্তির প্রকাশ রয়েছে, তারই এক বিশেষ প্রতীকী রূপ কুমারী পূজা।

এই পূজার মাধ্যমে নারীকে কেবল শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার ধর্মীয় ভাবনাই প্রকাশ পায় না, বরং সমাজে নারীর যথাযথ সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বও নতুন করে সামনে আসে। নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, বৈষম্য দূর করা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়কে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে কুমারী পূজার তাৎপর্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মহাঅষ্টমীর এই পবিত্র দিনে কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার কাছে শক্তি, সাহস, বিবেক ও কল্যাণের প্রার্থনা করেন। তাঁদের বিশ্বাস, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শুভবোধের বিকাশ ঘটবে এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতা।

সভাপতি অরবীন্দু বিশ্বাসের  বক্তব্যঃ বিশ্বপাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরের সভাপতি অরবীন্দু বিশ্বাস বলেন, “সনাতন ধর্মের শাস্ত্র অনুযায়ী, কুমারী কন্যার মধ্যে জগৎমাতার রূপ কল্পনা করে ভক্তরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রতিটি নারীর মধ্যে মহামায়ার শক্তির প্রকাশ রয়েছে এই বিশ্বাস থেকেই কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। নারীকে সম্মান জানানো এবং নারীশক্তির আরাধনা এই পূজার অন্যতম প্রধান তাৎপর্য।”

তিনি আরও বলেন, কুমারী পূজা সনাতন ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। এই পূজার মধ্য দিয়ে মাতৃশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়। দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নারীর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার মানসিকতা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর মতে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হলে এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। নারীশক্তির বন্দনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির চেতনাকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েই ধর্মীয় উৎসবের তাৎপর্য আরও গভীর হয়ে ওঠে।

মহাঅষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলিতে দেবীর চরণে ভক্তদের প্রার্থনাঃ মহাঅষ্টমীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পুষ্পাঞ্জলি। এদিন ভক্তরা ফুল ও বেলপাতা হাতে নিয়ে পুরোহিতের নির্দেশনায় মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবী দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। দেবীর প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন তাঁরা।

পুষ্পাঞ্জলিতে অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ ভক্তদের মন্দিরে উপস্থিত হতে দেখা যায়। ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে তাঁরা দেবীর আশীর্বাদ কামনা করেন। অনেক ভক্তের কাছে মহাঅষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি দুর্গোৎসবের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। নতুন পোশাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মন্দিরে এসে দেবীর চরণে ফুল নিবেদন এবং পরিচিতজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন তাঁরা।

দুর্গোৎসবের এই বিশেষ দিনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় আবেগ ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি। দেবী দুর্গাকে শক্তি ও সাহসের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করে তাঁরা জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করার প্রেরণা খোঁজেন। একই সঙ্গে সমাজের সব ধরনের অশুভ শক্তি, অন্যায় ও অমানবিকতার অবসান কামনা করেন।

সন্ধিপূজা: মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণের বিশেষ আচারঃ মহাঅষ্টমীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার হলো সন্ধিপূজা। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট অর্থাৎ মোট ৪৮ মিনিটের বিশেষ সময়কে সন্ধিক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই নির্দিষ্ট সময়ে শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে তিথির সময় অনুযায়ী সন্ধিপূজার নির্দিষ্ট সময় প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়।

হিন্দু পুরাণ ও শাক্ত ঐতিহ্য অনুসারে, চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই অসুরকে বধ করার জন্য দেবী দুর্গার চামুণ্ডা রূপের প্রকাশের স্মরণে সন্ধিপূজা পালিত হয়। এ কারণে দুর্গোৎসবের অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণ বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে।

সন্ধিপূজায় দেবীর বিশেষ আরাধনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও শাস্ত্রীয় আচার পালন করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই পূজার মধ্য দিয়ে দেবীর শক্তি, সাহস ও অশুভ বিনাশের মহিমা স্মরণ করা হয়। মহাঅষ্টমীর পূজা শেষ হওয়ার পর নবমী তিথির সূচনাকে ঘিরেও ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ থাকে।

দুর্গোৎসবের প্রতিটি তিথিরই রয়েছে স্বতন্ত্র ধর্মীয় গুরুত্ব। তবে মহাঅষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি, কুমারী পূজা এবং সন্ধিপূজার সম্মিলিত তাৎপর্য এই দিনটিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মহাপ্রসাদ বিতরণ ও সম্প্রীতির বার্তাঃ শতখালী বিশ্বাস পাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনা শেষে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি প্রসাদ গ্রহণ, পরিচিতজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন ভক্তরা।সর্বজনীন দুর্গোৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সম্মিলিত অংশগ্রহণ। 

ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ ধরনের উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে। পূজামণ্ডপকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে মিলনমেলা সৃষ্টি হয়, তা গ্রামীণ সমাজের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করাই এ সময়ের অন্যতম প্রত্যাশা।

শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের প্রার্থনায় মহাঅষ্টমী মহাঅষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আনন্দ ও ধর্মীয় আবেগ। দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা পৃথিবী থেকে অশুভ শক্তির বিনাশ হোক, মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হোক এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা।

শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে শুভশক্তির জয়, অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে সাহস ও আত্মবিশ্বাসের জাগরণ। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা এই চেতনাকে ধারণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মহাঅষ্টমীর পবিত্র দিনে সকলের জীবনে সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি নেমে আসুক এমন প্রত্যাশা ভক্তদের। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহে শালিখার শতখালী বিশ্বাস পাড়া  সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে উদ্‌যাপিত হচ্ছে মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা।

দেবী দুর্গার আশীর্বাদে অশুভশক্তির বিনাশ, শুভশক্তির জয় এবং সবার জীবনে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হোক মহাঅষ্টমীতে এটাই ভক্তদের প্রার্থনা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা: শালিখার শতখালী বিশ্বাস পাড়া দুর্গামন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পূজা-অর্চনা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আজ মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা: শালিখার শতখালী বিশ্বাস পাড়া দুর্গামন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পূজা-অর্চনা

স্টাফ রিপোর্টার সুবীর ঘোষ:- শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন মহাঅষ্টমী আজ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই মাগুরার শালিখা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, শ্রদ্ধা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেবী দুর্গার পূজা-অর্চনা। 

মহাঅষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা। নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে এদিন কুমারী কন্যাকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কুমারী বালিকাকে দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতীক বা মাতৃরূপে পূজা করা হয়। এই আচারের মধ্য দিয়ে মূলত বহির্বিশ্বে নারীজাতি ও মাতৃশক্তির মহিমান্বিত রূপকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।শাস্ত্র অনুসারে, কুমারী মানেই অপার্থিব পবিত্রতা ও সম্ভাবনার রূপ। আজকের এই পবিত্র দিনে সকলের জীবনে শান্তি, আনন্দ ও কল্যাণ নেমে আসুক এই কামনা করি।

মহাঅষ্টমী উপলক্ষে মন্দিরে  মন্দিরে ভক্তদের সমাগম, মন্ত্রোচ্চারণ, চণ্ডীপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠেছে পূজাঙ্গন। দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার চরণে অঞ্জলি নিবেদন করে ভক্তরা প্রার্থনা করছেন বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ, সুখ-সমৃদ্ধি ও অশুভ শক্তির বিনাশের।

মহাঅষ্টমী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শুধু একটি ধর্মীয় তিথি নয়; এটি ভক্তি, আত্মশুদ্ধি, নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির জয়ের এক অনন্য প্রতীক। শারদীয় দুর্গোৎসবের এই বিশেষ দিনে দেবী দুর্গার মহাশক্তির আরাধনার পাশাপাশি কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার পালিত হয়। এসব আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবীকে শক্তি, সাহস, মমতা, পবিত্রতা ও কল্যাণের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করেন ভক্তরা।

শতখালী বিশ্বাস পাড়া দুর্গামন্দিরে মহাঅষ্টমীর পূজা ও কুমারী পূজাঃ মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী বিশ্বাস পাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরে সোমবার রাত ৩ টায়  শুরু হয় মহাঅষ্টমীর পূজা-অর্চনা। নির্ধারিত ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে দেবী দুর্গার আরাধনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় পবিত্র ও ভক্তিময় পরিবেশ। সকাল থেকেই মন্দিরে আসতে থাকেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। দেবীর চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান এবং ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে মহাঅষ্টমীর দিনটি উদ্‌যাপন করেন তাঁরা।

এদিন সকাল ৯টায়  শতখালী বিশ্বাস পাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় মহাঅষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণীয় ধর্মীয় আচার কুমারী পূজা। এ সময় কুমারী কন্যার মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃরূপ ও মহাশক্তির প্রতীক কল্পনা করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

কুমারী পূজা উপলক্ষে ভক্তরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন, সমাজ থেকে অন্যায়, অশান্তি ও অকল্যাণ দূর হোক; প্রতিটি পরিবারে নেমে আসুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। একই সঙ্গে নারীসমাজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি এবং নারীশক্তির মহিমা উপলব্ধির বার্তাও বহন করে এই পূজা।

নারীশক্তির আরাধনায় কুমারী পূজার বিশেষ তাৎপর্যঃ সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্যে কুমারী পূজা একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার। এ পূজায় কুমারী কন্যার মধ্যে দেবী দুর্গা তথা জগৎজননীর শক্তি ও মাতৃসত্তার প্রতীকী প্রকাশ কল্পনা করা হয়। প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, বয়স ও অন্যান্য নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কুমারী নির্বাচন করে তাঁকে দেবীর প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। বিভিন্ন প্রথায় কুমারীর বয়স ও পূজার পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্যও দেখা যায়।

কুমারী পূজার মূল তাৎপর্য হলো নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নারীর মধ্যে নিহিত শক্তি, পবিত্রতা, মমতা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীকী বন্দনা। বিশ্বাস করা হয়, জগতের প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে যে মহাশক্তির প্রকাশ রয়েছে, তারই এক বিশেষ প্রতীকী রূপ কুমারী পূজা।

এই পূজার মাধ্যমে নারীকে কেবল শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার ধর্মীয় ভাবনাই প্রকাশ পায় না, বরং সমাজে নারীর যথাযথ সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বও নতুন করে সামনে আসে। নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, বৈষম্য দূর করা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়কে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে কুমারী পূজার তাৎপর্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মহাঅষ্টমীর এই পবিত্র দিনে কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার কাছে শক্তি, সাহস, বিবেক ও কল্যাণের প্রার্থনা করেন। তাঁদের বিশ্বাস, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শুভবোধের বিকাশ ঘটবে এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতা।

সভাপতি অরবীন্দু বিশ্বাসের  বক্তব্যঃ বিশ্বপাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরের সভাপতি অরবীন্দু বিশ্বাস বলেন, “সনাতন ধর্মের শাস্ত্র অনুযায়ী, কুমারী কন্যার মধ্যে জগৎমাতার রূপ কল্পনা করে ভক্তরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রতিটি নারীর মধ্যে মহামায়ার শক্তির প্রকাশ রয়েছে এই বিশ্বাস থেকেই কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। নারীকে সম্মান জানানো এবং নারীশক্তির আরাধনা এই পূজার অন্যতম প্রধান তাৎপর্য।”

তিনি আরও বলেন, কুমারী পূজা সনাতন ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। এই পূজার মধ্য দিয়ে মাতৃশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়। দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নারীর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার মানসিকতা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর মতে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হলে এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। নারীশক্তির বন্দনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির চেতনাকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েই ধর্মীয় উৎসবের তাৎপর্য আরও গভীর হয়ে ওঠে।

মহাঅষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলিতে দেবীর চরণে ভক্তদের প্রার্থনাঃ মহাঅষ্টমীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পুষ্পাঞ্জলি। এদিন ভক্তরা ফুল ও বেলপাতা হাতে নিয়ে পুরোহিতের নির্দেশনায় মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবী দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। দেবীর প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন তাঁরা।

পুষ্পাঞ্জলিতে অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ ভক্তদের মন্দিরে উপস্থিত হতে দেখা যায়। ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে তাঁরা দেবীর আশীর্বাদ কামনা করেন। অনেক ভক্তের কাছে মহাঅষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি দুর্গোৎসবের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। নতুন পোশাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মন্দিরে এসে দেবীর চরণে ফুল নিবেদন এবং পরিচিতজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন তাঁরা।

দুর্গোৎসবের এই বিশেষ দিনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় আবেগ ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি। দেবী দুর্গাকে শক্তি ও সাহসের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করে তাঁরা জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করার প্রেরণা খোঁজেন। একই সঙ্গে সমাজের সব ধরনের অশুভ শক্তি, অন্যায় ও অমানবিকতার অবসান কামনা করেন।

সন্ধিপূজা: মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণের বিশেষ আচারঃ মহাঅষ্টমীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার হলো সন্ধিপূজা। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট অর্থাৎ মোট ৪৮ মিনিটের বিশেষ সময়কে সন্ধিক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই নির্দিষ্ট সময়ে শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে তিথির সময় অনুযায়ী সন্ধিপূজার নির্দিষ্ট সময় প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়।

হিন্দু পুরাণ ও শাক্ত ঐতিহ্য অনুসারে, চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই অসুরকে বধ করার জন্য দেবী দুর্গার চামুণ্ডা রূপের প্রকাশের স্মরণে সন্ধিপূজা পালিত হয়। এ কারণে দুর্গোৎসবের অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণ বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে।

সন্ধিপূজায় দেবীর বিশেষ আরাধনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও শাস্ত্রীয় আচার পালন করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই পূজার মধ্য দিয়ে দেবীর শক্তি, সাহস ও অশুভ বিনাশের মহিমা স্মরণ করা হয়। মহাঅষ্টমীর পূজা শেষ হওয়ার পর নবমী তিথির সূচনাকে ঘিরেও ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ থাকে।

দুর্গোৎসবের প্রতিটি তিথিরই রয়েছে স্বতন্ত্র ধর্মীয় গুরুত্ব। তবে মহাঅষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি, কুমারী পূজা এবং সন্ধিপূজার সম্মিলিত তাৎপর্য এই দিনটিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মহাপ্রসাদ বিতরণ ও সম্প্রীতির বার্তাঃ শতখালী বিশ্বাস পাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনা শেষে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি প্রসাদ গ্রহণ, পরিচিতজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন ভক্তরা।সর্বজনীন দুর্গোৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সম্মিলিত অংশগ্রহণ। 

ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ ধরনের উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে। পূজামণ্ডপকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে যে মিলনমেলা সৃষ্টি হয়, তা গ্রামীণ সমাজের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করাই এ সময়ের অন্যতম প্রত্যাশা।

শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের প্রার্থনায় মহাঅষ্টমী মহাঅষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আনন্দ ও ধর্মীয় আবেগ। দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা পৃথিবী থেকে অশুভ শক্তির বিনাশ হোক, মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হোক এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা।

শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে শুভশক্তির জয়, অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে সাহস ও আত্মবিশ্বাসের জাগরণ। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা এই চেতনাকে ধারণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মহাঅষ্টমীর পবিত্র দিনে সকলের জীবনে সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি নেমে আসুক এমন প্রত্যাশা ভক্তদের। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহে শালিখার শতখালী বিশ্বাস পাড়া  সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে উদ্‌যাপিত হচ্ছে মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা।

দেবী দুর্গার আশীর্বাদে অশুভশক্তির বিনাশ, শুভশক্তির জয় এবং সবার জীবনে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হোক মহাঅষ্টমীতে এটাই ভক্তদের প্রার্থনা।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ