ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

শালিখায় শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপূজা ও নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত; অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষের ঢল

শালিখায় শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপূজা ও নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত; অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষের ঢল

দ্বিতীয় জুনিয়র জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতা ২০২৬: ঢাকার পথে কুমিল্লা জেলা দল

দ্বিতীয় জুনিয়র জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতা ২০২৬: ঢাকার পথে কুমিল্লা জেলা দল

ঝিনাইদহে লং মার্চ সফল করতে মধুহাটীতে জামায়াতের জনশক্তি সমাবেশ

ঝিনাইদহে লং মার্চ সফল করতে মধুহাটীতে জামায়াতের জনশক্তি সমাবেশ

ইসলামপুর প্রেসক্লাবের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ১৪ নভেম্বর নির্বাচন

ইসলামপুর প্রেসক্লাবের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ১৪ নভেম্বর নির্বাচন

গ্যাস সংকটে অনির্দিষ্টকালের জন্য যমুনা সারকারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, উত্তরাঞ্চলে সার সংকটের আশঙ্কা

গ্যাস সংকটে অনির্দিষ্টকালের জন্য যমুনা সারকারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, উত্তরাঞ্চলে সার সংকটের আশঙ্কা

গাইবান্ধায় সংবাদ কর্মীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের

গাইবান্ধায় সংবাদ কর্মীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের

ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেবেন বুড়িচংয়ে ২৪ কৃষক পরিবার

ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেবেন বুড়িচংয়ে ২৪ কৃষক পরিবার

পীরগাছায় ওয়ারিশি জমি নিয়ে বিরোধ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পীরগাছায় ওয়ারিশি জমি নিয়ে বিরোধ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

হালিমা খাতুনের দুঃখের শেষ কোথায়?স্বামীহারা নন, স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত; দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় অসহায় এক মা

হালিমা খাতুনের দুঃখের শেষ কোথায়?স্বামীহারা নন, স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত; দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় অসহায় এক মা

হালিমা খাতুনের দুঃখের শেষ কোথায়?স্বামীহারা নন, স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত; দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় অসহায় এক মা

মোঃ বিল্লাল হোসেন,  শেরপুর থেকে:- শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামের হালিমা খাতুনের জীবন যেন দুঃখ-কষ্টের এক দীর্ঘ উপাখ্যান। জন্ম থেকেই অভাবের সঙ্গে লড়াই, বাবাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া, বিয়ের পর স্বামীর সংসারে নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ, আর শেষ পর্যন্ত সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে তাঁর জীবনে যেন সুখের দেখা নেই। একদিকে নিজের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, অন্যদিকে ছোট্ট মেয়ের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দুশ্চিন্তা। সবকিছু মিলিয়ে প্রতিদিনই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে।

হালিমা খাতুন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামের মরহুম হযরত আলীর মেয়ে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ছিল তাঁদের চার সদস্যের পরিবার। সহায়-সম্বল বলতে সরকারি ১০ শতাংশ জমির ওপর একটি ঘর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। প্রায় ১৫ বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারটির দুর্দশা আরও বেড়ে যায়। ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। তিনিও দিনমজুরের কাজ করে নিজের সংসার চালান।

জীবনের বাস্তবতায় হালিমা খাতুনের বিয়ে হলেও স্বামীর সংসারে সুখের দেখা মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর স্বামী নেশাগ্রস্ত, ভবঘুরে ও যৌতুকলোভী। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় দুই সন্তানের মা হওয়ার পরও তাঁকে স্বামীর সংসার ছাড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে ছোট্ট মেয়ে হাসিকে (৪) নিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েন তিনি।

এরই মধ্যে জীবনের আরেক কঠিন অধ্যায়ের মুখোমুখি হন হালিমা। প্রায় দুই বছর আগে দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হওয়ায় চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচের বোঝা সামলানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে দত্তক দিতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে। একজন মায়ের জন্য এর চেয়ে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি আর কী হতে পারে? দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা তাঁকে এমন এক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করেছে, যা হয়তো প্রতিনিয়তই তাঁকে কষ্ট দেয়।

বর্তমানে হালিমা খাতুনের নিজের কোনো স্থায়ী আশ্রয় নেই। তাঁর অসহায় মা রাশেদা বেগম অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়েই মেয়ে হালিমা ও নাতনি হাসির ভরণপোষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু সামান্য আয়ে তিনজনের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন। কখনো খাবার জোটে, কখনো জোটে না; কখনো অর্ধাহারে কাটে দিন। দারিদ্র্যের এই নির্মম বাস্তবতায় প্রতিটি দিনই তাঁদের কাছে নতুন এক সংগ্রাম।

যে বয়সে হালিমা খাতুনের স্বপ্ন দেখার কথা, সন্তানদের নিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সেই তাঁকে লড়তে হচ্ছে বেঁচে থাকার জন্য। নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা, নেই সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বস্তি। নিজের দুঃখ-কষ্ট আড়াল করে ছোট্ট মেয়ের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টাই এখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই।

হালিমা খাতুনের এই অসহায়ত্ব শুধু একটি পরিবারের দারিদ্র্যের গল্প নয়; এটি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় নারীদের বাস্তব জীবনেরও প্রতিচ্ছবি। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়ানো জরুরি। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা, নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সন্তানের লালন-পালনে সহযোগিতা পেলে হয়তো নতুন করে জীবন গড়ার সাহস ফিরে পাবেন তিনি।

এখন প্রশ্ন হালিমা খাতুনের দুঃখের শেষ কোথায়? কে বাড়িয়ে দেবে সহযোগিতার হাত? সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কি এগিয়ে আসবে এই অসহায় মা ও তাঁর সন্তানের পাশে? একটু সহায়তা, একটু সহমর্মিতা আর বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ কি বদলে দিতে পারে না তাঁদের জীবনের চিত্র?

মানবিক সমাজে হালিমা খাতুনের মতো অসহায় মানুষের কষ্ট এভাবে উপেক্ষিত থাকতে পারে না। প্রয়োজন শুধু সহানুভূতি নয়, প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ যাতে আর কোনো মাকে অভাবের কারণে সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয় এবং একটি শিশুও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে বেড়ে উঠতে বাধ্য না হয়,হালিমার ফোন নম্বর (০১৮৯৪৫৯৪৯৬১)

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


হালিমা খাতুনের দুঃখের শেষ কোথায়?স্বামীহারা নন, স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত; দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় অসহায় এক মা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হালিমা খাতুনের দুঃখের শেষ কোথায়?স্বামীহারা নন, স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত; দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় অসহায় এক মা

মোঃ বিল্লাল হোসেন,  শেরপুর থেকে:- শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামের হালিমা খাতুনের জীবন যেন দুঃখ-কষ্টের এক দীর্ঘ উপাখ্যান। জন্ম থেকেই অভাবের সঙ্গে লড়াই, বাবাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া, বিয়ের পর স্বামীর সংসারে নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ, আর শেষ পর্যন্ত সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে তাঁর জীবনে যেন সুখের দেখা নেই। একদিকে নিজের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, অন্যদিকে ছোট্ট মেয়ের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দুশ্চিন্তা। সবকিছু মিলিয়ে প্রতিদিনই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে।

হালিমা খাতুন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামের মরহুম হযরত আলীর মেয়ে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ছিল তাঁদের চার সদস্যের পরিবার। সহায়-সম্বল বলতে সরকারি ১০ শতাংশ জমির ওপর একটি ঘর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। প্রায় ১৫ বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারটির দুর্দশা আরও বেড়ে যায়। ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। তিনিও দিনমজুরের কাজ করে নিজের সংসার চালান।

জীবনের বাস্তবতায় হালিমা খাতুনের বিয়ে হলেও স্বামীর সংসারে সুখের দেখা মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর স্বামী নেশাগ্রস্ত, ভবঘুরে ও যৌতুকলোভী। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় দুই সন্তানের মা হওয়ার পরও তাঁকে স্বামীর সংসার ছাড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে ছোট্ট মেয়ে হাসিকে (৪) নিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েন তিনি।

এরই মধ্যে জীবনের আরেক কঠিন অধ্যায়ের মুখোমুখি হন হালিমা। প্রায় দুই বছর আগে দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হওয়ায় চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচের বোঝা সামলানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে দত্তক দিতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে। একজন মায়ের জন্য এর চেয়ে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি আর কী হতে পারে? দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা তাঁকে এমন এক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করেছে, যা হয়তো প্রতিনিয়তই তাঁকে কষ্ট দেয়।

বর্তমানে হালিমা খাতুনের নিজের কোনো স্থায়ী আশ্রয় নেই। তাঁর অসহায় মা রাশেদা বেগম অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়েই মেয়ে হালিমা ও নাতনি হাসির ভরণপোষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু সামান্য আয়ে তিনজনের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন। কখনো খাবার জোটে, কখনো জোটে না; কখনো অর্ধাহারে কাটে দিন। দারিদ্র্যের এই নির্মম বাস্তবতায় প্রতিটি দিনই তাঁদের কাছে নতুন এক সংগ্রাম।

যে বয়সে হালিমা খাতুনের স্বপ্ন দেখার কথা, সন্তানদের নিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সেই তাঁকে লড়তে হচ্ছে বেঁচে থাকার জন্য। নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা, নেই সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বস্তি। নিজের দুঃখ-কষ্ট আড়াল করে ছোট্ট মেয়ের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টাই এখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই।

হালিমা খাতুনের এই অসহায়ত্ব শুধু একটি পরিবারের দারিদ্র্যের গল্প নয়; এটি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় নারীদের বাস্তব জীবনেরও প্রতিচ্ছবি। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়ানো জরুরি। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা, নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সন্তানের লালন-পালনে সহযোগিতা পেলে হয়তো নতুন করে জীবন গড়ার সাহস ফিরে পাবেন তিনি।

এখন প্রশ্ন হালিমা খাতুনের দুঃখের শেষ কোথায়? কে বাড়িয়ে দেবে সহযোগিতার হাত? সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কি এগিয়ে আসবে এই অসহায় মা ও তাঁর সন্তানের পাশে? একটু সহায়তা, একটু সহমর্মিতা আর বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ কি বদলে দিতে পারে না তাঁদের জীবনের চিত্র?

মানবিক সমাজে হালিমা খাতুনের মতো অসহায় মানুষের কষ্ট এভাবে উপেক্ষিত থাকতে পারে না। প্রয়োজন শুধু সহানুভূতি নয়, প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ যাতে আর কোনো মাকে অভাবের কারণে সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয় এবং একটি শিশুও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে বেড়ে উঠতে বাধ্য না হয়,হালিমার ফোন নম্বর (০১৮৯৪৫৯৪৯৬১)


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ