ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

গ্যাস সংকটে অনির্দিষ্টকালের জন্য যমুনা সারকারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, উত্তরাঞ্চলে সার সংকটের আশঙ্কা

গ্যাস সংকটে অনির্দিষ্টকালের জন্য যমুনা সারকারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, উত্তরাঞ্চলে সার সংকটের আশঙ্কা

গ্যাস সংকটে অনির্দিষ্টকালের জন্য যমুনা সারকারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, উত্তরাঞ্চলে সার সংকটের আশঙ্কা

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- গ্যাস সংকটের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। 

 রোববার(২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম ফের বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো: ফজলুল হক ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড তারাকান্দির সিনিয়র কারিগরি কর্মী মো: দুলাল মিয়া।

সারকারখানা সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘ ৭ মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের গত ২১ সেপ্টেম্বর কারখানাটিতে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ চালু হয়। এরপর উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। গ্যাসের চাপ সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। পরে বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রেখে মেরামত কাজ করা হয়। মেরামত শেষে গত ২৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে আবারও উৎপাদন শুরু হয়।

কিন্তু উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায় রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে প্ল্যান্টে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় আবারও উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। ফলে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রমে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

যমুনা সার কারখানা দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ কারখানায় উৎপাদিত সার জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ,টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ১৯টি জেলায় সরবরাহ করা হয়। কৃষি খাতে ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।

জেএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ চালু হওয়ার পর থেকে ২৫ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত কারখানাটিতে প্রায় ৩ হাজার ১শ ৯৬ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদিত সারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। একই সময়ে গ্যাস ব্যবহারের ব্যয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। কারখানাটি  উৎপাদন বন্ধ ও পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ায় কারখানাটির পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, যমুনা সার কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে প্রতিদিন ৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হয়। তবে দৈনিক ৪৩ থেকে ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাপ পাওয়া গেলেও উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ জরুরি।

কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং অ্যামোনিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন। জেছফসিএল এর সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলেও পরিস্থিতি ও গ্যাসের চাপ অনুযায়ী দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করা সম্ভব।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানায় ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত কারখানাটির পরিকল্পিত আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ২৫ বছর। সে হিসাবে ২০১৫ সালে কারখানাটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হয়। তবে আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ পেলে কারখানাটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরিয়া সার উৎপাদন করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

কারখানায় রগ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের উত্তরাঞ্চলে ইউরিয়া সারের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকদের সার সংগ্রহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যমুনা সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


গ্যাস সংকটে অনির্দিষ্টকালের জন্য যমুনা সারকারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, উত্তরাঞ্চলে সার সংকটের আশঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গ্যাস সংকটে অনির্দিষ্টকালের জন্য যমুনা সারকারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, উত্তরাঞ্চলে সার সংকটের আশঙ্কা

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- গ্যাস সংকটের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। 

 রোববার(২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম ফের বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো: ফজলুল হক ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড তারাকান্দির সিনিয়র কারিগরি কর্মী মো: দুলাল মিয়া।

সারকারখানা সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘ ৭ মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের গত ২১ সেপ্টেম্বর কারখানাটিতে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ চালু হয়। এরপর উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। গ্যাসের চাপ সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। পরে বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রেখে মেরামত কাজ করা হয়। মেরামত শেষে গত ২৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে আবারও উৎপাদন শুরু হয়।

কিন্তু উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায় রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে প্ল্যান্টে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় আবারও উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। ফলে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রমে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

যমুনা সার কারখানা দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ কারখানায় উৎপাদিত সার জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ,টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ১৯টি জেলায় সরবরাহ করা হয়। কৃষি খাতে ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।

জেএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ চালু হওয়ার পর থেকে ২৫ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত কারখানাটিতে প্রায় ৩ হাজার ১শ ৯৬ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদিত সারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। একই সময়ে গ্যাস ব্যবহারের ব্যয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। কারখানাটি  উৎপাদন বন্ধ ও পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ায় কারখানাটির পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, যমুনা সার কারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে প্রতিদিন ৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হয়। তবে দৈনিক ৪৩ থেকে ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাপ পাওয়া গেলেও উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ জরুরি।

কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং অ্যামোনিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন। জেছফসিএল এর সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলেও পরিস্থিতি ও গ্যাসের চাপ অনুযায়ী দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করা সম্ভব।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানায় ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত কারখানাটির পরিকল্পিত আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ২৫ বছর। সে হিসাবে ২০১৫ সালে কারখানাটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হয়। তবে আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ পেলে কারখানাটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরিয়া সার উৎপাদন করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন।

কারখানায় রগ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের উত্তরাঞ্চলে ইউরিয়া সারের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকদের সার সংগ্রহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যমুনা সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তাঁরা।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ