ঐতিহ্যবাহী গাইবান্ধা পুরাতন বাজার কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন
সভাপতি পদে সেকেন্দার আলী ও সাধারণ সম্পাদক পদে আরিফ মিয়া রিজুসহ বিভিন্ন পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন: গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো গাইবান্ধা পুরাতন বাজার কমিটির নির্বাচন-২০২৬। শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলে দিনব্যাপী। পরে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনকে ঘিরে বাজারজুড়ে ছিল ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ। ব্যবসায়ী, ভোটার এবং প্রার্থীদের সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে পুরো বাজার এলাকা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে।
ব্যবসায়ীদের অন্যতম বৃহৎ এ সংগঠনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই প্রার্থীরা ব্যাপক গণসংযোগ, মতবিনিময় ও প্রচার-প্রচারণা চালান। ভোটের দিন সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়।
নারী-পুরুষ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোটার ও ব্যবসায়ীরা।
নির্বাচনে সভাপতি পদে মই প্রতীক নিয়ে মোঃ সেকেন্দার আলী সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন গরুগাড়ী প্রতীকের এসএম হুনান হক্কানী, চেয়ার প্রতীকের দীপক কুমার পাল এবং ছাতা প্রতীকের মোঃ জহুরুল ইসলাম রনজু।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তারা ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করেন। সহ-সভাপতি পদে আনারস প্রতীক নিয়ে মোঃ রেজাউল করিম রেজা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোমবাতি প্রতীকের আলহাজ্ব মোঃ জেলাল মিয়া এবং বাইসাইকেল প্রতীকের মোঃ মাসুদ রানা মনজু। নির্বাচনের শুরু থেকেই এ পদে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করেছিল। সবচেয়ে আলোচিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদে হ্যারিকেন প্রতীক নিয়ে মোঃ আরিফ মিয়া রিজু বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাস প্রতীকের মোঃ ফরিদুল ইসলাম এবং খেজুরগাছ প্রতীকের মোঃ সোয়েব হক্কানী। ভোট গণনার সময় এ পদকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎকণ্ঠা বিরাজ করলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাপফুল প্রতীক নিয়ে মোঃ মাহফুজ আলম নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে গাভী প্রতীকের মোঃ ফরিদুল ইসলাম ফরিদ এবং পানির বোতল প্রতীকের মোঃ আপেল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে হরিণ প্রতীক নিয়ে মোঃ সাইফুল ইসলাম বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হাতি প্রতীকের মোঃ রোস্তম আলী।
অর্থ সম্পাদক পদে মাছ প্রতীক নিয়ে মোঃ এমদাদুল হক দিছু সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে আম প্রতীকের মোঃ এরশাদ মিয়া এবং মোরগ প্রতীকের মোঃ ইসমাইল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও ভোট শেষে সকলেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখেন, যা ব্যবসায়ী মহলে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ্যাড. কাজী আমিরুল ইসলাম ফকু। নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এ্যাড. মোঃ সায়েম মন্ডল ও এএসএম মাহাবুব উল হক ভান।
নির্বাচন কমিশন জানায়, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন শেষ হওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ বাজারের ব্যবসায়ীদের অধিকার সংরক্ষণ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, বাজার ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা আনা, নিরাপত্তা জোরদার এবং বাজারের সার্বিক উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে গাইবান্ধা পুরাতন বাজারের উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত হবে।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
ঐতিহ্যবাহী গাইবান্ধা পুরাতন বাজার কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন
সভাপতি পদে সেকেন্দার আলী ও সাধারণ সম্পাদক পদে আরিফ মিয়া রিজুসহ বিভিন্ন পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন: গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো গাইবান্ধা পুরাতন বাজার কমিটির নির্বাচন-২০২৬। শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলে দিনব্যাপী। পরে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনকে ঘিরে বাজারজুড়ে ছিল ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ। ব্যবসায়ী, ভোটার এবং প্রার্থীদের সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে পুরো বাজার এলাকা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে।
ব্যবসায়ীদের অন্যতম বৃহৎ এ সংগঠনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই প্রার্থীরা ব্যাপক গণসংযোগ, মতবিনিময় ও প্রচার-প্রচারণা চালান। ভোটের দিন সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়।
নারী-পুরুষ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোটার ও ব্যবসায়ীরা।
নির্বাচনে সভাপতি পদে মই প্রতীক নিয়ে মোঃ সেকেন্দার আলী সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন গরুগাড়ী প্রতীকের এসএম হুনান হক্কানী, চেয়ার প্রতীকের দীপক কুমার পাল এবং ছাতা প্রতীকের মোঃ জহুরুল ইসলাম রনজু।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তারা ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করেন। সহ-সভাপতি পদে আনারস প্রতীক নিয়ে মোঃ রেজাউল করিম রেজা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোমবাতি প্রতীকের আলহাজ্ব মোঃ জেলাল মিয়া এবং বাইসাইকেল প্রতীকের মোঃ মাসুদ রানা মনজু। নির্বাচনের শুরু থেকেই এ পদে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করেছিল। সবচেয়ে আলোচিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদে হ্যারিকেন প্রতীক নিয়ে মোঃ আরিফ মিয়া রিজু বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাস প্রতীকের মোঃ ফরিদুল ইসলাম এবং খেজুরগাছ প্রতীকের মোঃ সোয়েব হক্কানী। ভোট গণনার সময় এ পদকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎকণ্ঠা বিরাজ করলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাপফুল প্রতীক নিয়ে মোঃ মাহফুজ আলম নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে গাভী প্রতীকের মোঃ ফরিদুল ইসলাম ফরিদ এবং পানির বোতল প্রতীকের মোঃ আপেল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে হরিণ প্রতীক নিয়ে মোঃ সাইফুল ইসলাম বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হাতি প্রতীকের মোঃ রোস্তম আলী।
অর্থ সম্পাদক পদে মাছ প্রতীক নিয়ে মোঃ এমদাদুল হক দিছু সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে আম প্রতীকের মোঃ এরশাদ মিয়া এবং মোরগ প্রতীকের মোঃ ইসমাইল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও ভোট শেষে সকলেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখেন, যা ব্যবসায়ী মহলে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ্যাড. কাজী আমিরুল ইসলাম ফকু। নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এ্যাড. মোঃ সায়েম মন্ডল ও এএসএম মাহাবুব উল হক ভান।
নির্বাচন কমিশন জানায়, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন শেষ হওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ বাজারের ব্যবসায়ীদের অধিকার সংরক্ষণ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, বাজার ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা আনা, নিরাপত্তা জোরদার এবং বাজারের সার্বিক উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে গাইবান্ধা পুরাতন বাজারের উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন