ডেইলি বাংল সংবাদ
আপডেট : রোববার, ২৪ মে ২০২৬

রাহবার অ্যাডভাইজরির ইন্টারনাল শরিয়াহ মজলিশর চেয়ারম্যান নিযুক্ত হলেন মুফতী ইনজামামুল ইসলাম

রাহবার অ্যাডভাইজরির ইন্টারনাল শরিয়াহ মজলিশর চেয়ারম্যান নিযুক্ত হলেন মুফতী ইনজামামুল ইসলাম

ইসলামপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ, প্রথম ধাপে ৩ ইউনিয়ন

ইসলামপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ, প্রথম ধাপে ৩ ইউনিয়ন

ভেড়ামারা সরকারি কলেজের ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্যের নতুন দিগন্ত

ভেড়ামারা সরকারি কলেজের ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্যের নতুন দিগন্ত

নবীনগরে মেঘনায় মধ্যরাতে অস্ত্রের মুখে অবৈধ বালু উৎসব: হুমকিতে ফসলি জমি, নির্বিকার প্রশাসন!

নবীনগরে মেঘনায় মধ্যরাতে অস্ত্রের মুখে অবৈধ বালু উৎসব: হুমকিতে ফসলি জমি, নির্বিকার প্রশাসন!

পীরগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে অবহিতকরণ কর্মশালা

পীরগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে অবহিতকরণ কর্মশালা

কাউখালী উপজেলায়  ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

কাউখালী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

তারাপুর চা বাগানে হাম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

তারাপুর চা বাগানে হাম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

কেশবপুরে স্বামীকে হ্যানিট্রাপে ফাঁসিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ: স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

কেশবপুরে স্বামীকে হ্যানিট্রাপে ফাঁসিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ: স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নড়াইল খেয়াঘাট বরাদ্দ দিয়ে বিএনপি অফিস করার নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নড়াইল খেয়াঘাট বরাদ্দ দিয়ে বিএনপি অফিস করার নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নড়াইল খেয়াঘাট বরাদ্দ দিয়ে বিএনপি অফিস করার নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

মো তুহিন মোল্লা নড়াইল প্রতিনিধি: সরকারি রাজস্ব ফাকি দিয়ে নড়াইলের মুলিয়া ইউনিয়নের মুলিয়া খেয়াঘাট দীপক বিশ্বাস ও অংশ নামে স্থানীয় দুই মাঝিকে বরাদ্দ দিয়ে বিএনপি অফিস করার নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিকের বিরুদ্ধে।

সরজমিনে মুলিয়া খেয়াঘাট গিয়ে জানা যায়, মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা গ্রামের রতন বিশ্বাস নামে এক মাঝি সরকারি বিধি মেনে খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে যাত্রী পারাপার করতেন। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে সরকারি কোনো বিধি না মেনে পেশিশক্তির প্রভাব বিস্তার করে রতন বিশ্বাসকে উচ্ছেদ করে দেয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিহাবুর রহমান সিহাবসহ বিএনপির কিছু নেতারা। পরে ইউনিয়ন বিএনপির অফিস করার নাম করে পানতিতা গ্রামের দীপক বিশ্বাস ও অংশের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের খেয়াঘাটের দায়িত্ব দেয়। তবে বিএনপির অফিস করার নামে চাঁদা নেওয়া হলেও, হয়নি বিএনপি অফিস।

খেয়াঘাটের আগের মাঝি রতন বিশ্বাস বলেন, আমি গরিব মানুষ বাপু। সরকারি খাস জমিতে বসবাস করি। আমার কোনো জায়গা জমি নেই। এই ঘাটে নৌকায় যাত্রী পারাপার করে সংসার চালাতাম। আমার কাছে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায়ছিলো আমি দিতে না পারায় আমাকে এখান থেকে তাড়িয়ে দেছে। বৌ ছেলে মেয়ে নিয়ে এখন খুব কষ্টে আছি। আমি সরকারি জমিতে বসবাস করি।

এদিকে নতুন মাঝি অংশ বিশ্বাস বলেন, মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক, চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিহাবুর রহমান সিহাবসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা বসে আমাকে ও দীপক বিশ্বাস নামে আরেকজনকে এই ঘাট দিয়েছে। পরে ইউনিয়নে বিএনপির অফিস করবে বলে আমাদের কাছ থেকে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক ৫০ হাজার টাকা নিছে। তিনি আরও বলেন, পরর্বতীতে আমাকে বাদ দিয়ে শুধু দীপক বিশ্বাসকে ঘাটের দায়িত্ব দিছে।

মুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় আমি ঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দেই। তখন সরকারের রাজস্ব ফাকি দেওয়া হচ্ছে মর্মে দীপক বিশ্বাস নামে একজন জেলা প্রশাসক বরাবর একটি দরখাস্ত দেয়। পরে আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে ডাকে। তখন ইউনিয়ন পরিষদ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইজারা দিতে পারবে সেই সব কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করি। এরপরে স্থানীয়  এবং জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিহাবুর রহমান সিহাব, ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি পলাশ মল্লিকসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা বসে একটা সাদা কাগজে লিখিতর মাধ্যমে দীপক বিশ্বাসকে ঘাটের দায়িত্ব দেয়। এখানে উপস্থিত সবার স্বাক্ষর থাকলেও আমি ওই কাগজে স্বাক্ষর করিনি।

জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব বলেন, নদীপাড়ের মানুষ যাতে সহজে নির্বিঘ্নে নদী পারাপার হতে পারে তার জন্য আমরা কয়েকজন বসে ওদের ঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপির অফিস করার নামে চাঁদাবাজির ঘটনা আমার জানা নাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক বলেন, অফিস করার জন্য ৫০ হাজার টাকা নিছিলাম। সেই টাকা আমার কাছে রয়েছে। বিএনপি অফিস করার জন্য রাজস্ব ফাকি দিয়ে আপনি চাঁদা নিতে পারেন কি না জানতে চাইলে ঝামেলায় আছি বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।###

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নড়াইল খেয়াঘাট বরাদ্দ দিয়ে বিএনপি অফিস করার নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নড়াইল খেয়াঘাট বরাদ্দ দিয়ে বিএনপি অফিস করার নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

মো তুহিন মোল্লা নড়াইল প্রতিনিধি: সরকারি রাজস্ব ফাকি দিয়ে নড়াইলের মুলিয়া ইউনিয়নের মুলিয়া খেয়াঘাট দীপক বিশ্বাস ও অংশ নামে স্থানীয় দুই মাঝিকে বরাদ্দ দিয়ে বিএনপি অফিস করার নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিকের বিরুদ্ধে।

সরজমিনে মুলিয়া খেয়াঘাট গিয়ে জানা যায়, মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা গ্রামের রতন বিশ্বাস নামে এক মাঝি সরকারি বিধি মেনে খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে যাত্রী পারাপার করতেন। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে সরকারি কোনো বিধি না মেনে পেশিশক্তির প্রভাব বিস্তার করে রতন বিশ্বাসকে উচ্ছেদ করে দেয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিহাবুর রহমান সিহাবসহ বিএনপির কিছু নেতারা। পরে ইউনিয়ন বিএনপির অফিস করার নাম করে পানতিতা গ্রামের দীপক বিশ্বাস ও অংশের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের খেয়াঘাটের দায়িত্ব দেয়। তবে বিএনপির অফিস করার নামে চাঁদা নেওয়া হলেও, হয়নি বিএনপি অফিস।

খেয়াঘাটের আগের মাঝি রতন বিশ্বাস বলেন, আমি গরিব মানুষ বাপু। সরকারি খাস জমিতে বসবাস করি। আমার কোনো জায়গা জমি নেই। এই ঘাটে নৌকায় যাত্রী পারাপার করে সংসার চালাতাম। আমার কাছে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায়ছিলো আমি দিতে না পারায় আমাকে এখান থেকে তাড়িয়ে দেছে। বৌ ছেলে মেয়ে নিয়ে এখন খুব কষ্টে আছি। আমি সরকারি জমিতে বসবাস করি।

এদিকে নতুন মাঝি অংশ বিশ্বাস বলেন, মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক, চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিহাবুর রহমান সিহাবসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা বসে আমাকে ও দীপক বিশ্বাস নামে আরেকজনকে এই ঘাট দিয়েছে। পরে ইউনিয়নে বিএনপির অফিস করবে বলে আমাদের কাছ থেকে মুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক ৫০ হাজার টাকা নিছে। তিনি আরও বলেন, পরর্বতীতে আমাকে বাদ দিয়ে শুধু দীপক বিশ্বাসকে ঘাটের দায়িত্ব দিছে।

মুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় আমি ঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দেই। তখন সরকারের রাজস্ব ফাকি দেওয়া হচ্ছে মর্মে দীপক বিশ্বাস নামে একজন জেলা প্রশাসক বরাবর একটি দরখাস্ত দেয়। পরে আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে ডাকে। তখন ইউনিয়ন পরিষদ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইজারা দিতে পারবে সেই সব কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করি। এরপরে স্থানীয়  এবং জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিহাবুর রহমান সিহাব, ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি পলাশ মল্লিকসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা বসে একটা সাদা কাগজে লিখিতর মাধ্যমে দীপক বিশ্বাসকে ঘাটের দায়িত্ব দেয়। এখানে উপস্থিত সবার স্বাক্ষর থাকলেও আমি ওই কাগজে স্বাক্ষর করিনি।

জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব বলেন, নদীপাড়ের মানুষ যাতে সহজে নির্বিঘ্নে নদী পারাপার হতে পারে তার জন্য আমরা কয়েকজন বসে ওদের ঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপির অফিস করার নামে চাঁদাবাজির ঘটনা আমার জানা নাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পলাশ মল্লিক বলেন, অফিস করার জন্য ৫০ হাজার টাকা নিছিলাম। সেই টাকা আমার কাছে রয়েছে। বিএনপি অফিস করার জন্য রাজস্ব ফাকি দিয়ে আপনি চাঁদা নিতে পারেন কি না জানতে চাইলে ঝামেলায় আছি বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।###


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ