রেকর্ড সংখ্যক পশুর সমাগমে মুখর গাইবান্ধার দাড়িয়াপুর গরুর হাট, ৪ কিলোমিটার যানজট
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন: গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা জেলার অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী দাড়িয়াপুর গরুর হাটে এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেকর্ড সংখ্যক কোরবানির পশুর সমাগম ঘটেছে।
শুক্রবার ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও রংপুর, কুড়িগ্রাম, বগুড়া ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান ও হেঁটে গরু নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেন।
সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাটজুড়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো এলাকা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে।স্থানীয় সূত্র ও হাট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গরু ও কোরবানির পশু উঠেছে দারিয়াপুর হাটে।
ঈদকে সামনে রেখে কৃষক ও খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে গরু লালন-পালন করে এই হাটে নিয়ে আসেন। ফলে হাটে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের দেশীয় জাতের গরুর পাশাপাশি উন্নত জাতের বিশাল আকৃতির ষাঁড়ও ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
অতিরিক্ত পশুর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হাট কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়েছে। হাটের নির্ধারিত স্থানে জায়গা সংকট দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দারিয়াপুর আমানুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠেও শত শত গরু রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
এতে বিদ্যালয় মাঠসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা অস্থায়ী পশুর হাটে পরিণত হয়েছে। চারদিকে গরুর ডাক, ক্রেতাদের দরদাম ও মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
হাটে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, এবার পশুর সরবরাহ অনেক বেশি হওয়ায় বেচাকেনার সম্ভাবনাও ভালো। তবে ঈদের আগের দুই থেকে তিন দিন হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
অন্যদিকে ক্রেতাদের দাবি, বাজারে পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় গরুর দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। হাটে ৮০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের গরুও উঠেছে।
বড় আকৃতির কয়েকটি ষাঁড়কে ঘিরে ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকে পরিবার নিয়ে হাটে এসে পছন্দের পশু কেনার জন্য বিভিন্ন খামার ও ব্যবসায়ীর গরু ঘুরে ঘুরে দেখছেন।
এদিকে হাটকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকেই দারিয়াপুর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত যানবাহন, পশুবাহী ট্রাক এবং ক্রেতাদের চাপের কারণে প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।
এতে সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে দেখা গেছে।
হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ, পশু পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।
রেকর্ড সংখ্যক পশুর সমাগম, জমজমাট বেচাকেনা এবং মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে দারিয়াপুর এলাকায় এখন ঈদ উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, এমন প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ গরুর হাট গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
রেকর্ড সংখ্যক পশুর সমাগমে মুখর গাইবান্ধার দাড়িয়াপুর গরুর হাট, ৪ কিলোমিটার যানজট
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন: গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা জেলার অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী দাড়িয়াপুর গরুর হাটে এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেকর্ড সংখ্যক কোরবানির পশুর সমাগম ঘটেছে।
শুক্রবার ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও রংপুর, কুড়িগ্রাম, বগুড়া ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান ও হেঁটে গরু নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেন।
সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাটজুড়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো এলাকা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে।স্থানীয় সূত্র ও হাট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গরু ও কোরবানির পশু উঠেছে দারিয়াপুর হাটে।
ঈদকে সামনে রেখে কৃষক ও খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে গরু লালন-পালন করে এই হাটে নিয়ে আসেন। ফলে হাটে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের দেশীয় জাতের গরুর পাশাপাশি উন্নত জাতের বিশাল আকৃতির ষাঁড়ও ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
অতিরিক্ত পশুর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হাট কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়েছে। হাটের নির্ধারিত স্থানে জায়গা সংকট দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দারিয়াপুর আমানুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠেও শত শত গরু রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
এতে বিদ্যালয় মাঠসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা অস্থায়ী পশুর হাটে পরিণত হয়েছে। চারদিকে গরুর ডাক, ক্রেতাদের দরদাম ও মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
হাটে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, এবার পশুর সরবরাহ অনেক বেশি হওয়ায় বেচাকেনার সম্ভাবনাও ভালো। তবে ঈদের আগের দুই থেকে তিন দিন হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
অন্যদিকে ক্রেতাদের দাবি, বাজারে পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় গরুর দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। হাটে ৮০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের গরুও উঠেছে।
বড় আকৃতির কয়েকটি ষাঁড়কে ঘিরে ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকে পরিবার নিয়ে হাটে এসে পছন্দের পশু কেনার জন্য বিভিন্ন খামার ও ব্যবসায়ীর গরু ঘুরে ঘুরে দেখছেন।
এদিকে হাটকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকেই দারিয়াপুর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত যানবাহন, পশুবাহী ট্রাক এবং ক্রেতাদের চাপের কারণে প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।
এতে সাধারণ যাত্রী, পথচারী ও দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে দেখা গেছে।
হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ, পশু পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।
রেকর্ড সংখ্যক পশুর সমাগম, জমজমাট বেচাকেনা এবং মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে দারিয়াপুর এলাকায় এখন ঈদ উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, এমন প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ গরুর হাট গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন