গাইবান্ধায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) একে এম হেদায়েতুল ইসলাম। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তামাক ও নিকোটিন আসক্তি বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করে এবং তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রকে ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, তামাকজাত পণ্য থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করতে হয় প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। ফলে তামাকের কারণে যে স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, তা রাজস্ব আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। আলোচনা সভার একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তিনি তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সচেতনতা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়। এ সময় জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা সভায় তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণ সমাজকে তামাক ও নিকোটিন আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বক্তারা সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সকলকে তামাক বর্জনের আহ্বান জানান।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তামাকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যকর ও তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
গাইবান্ধায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত
মোঃ রিয়ায এলাহী রাজন:গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) একে এম হেদায়েতুল ইসলাম। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তামাক ও নিকোটিন আসক্তি বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করে এবং তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রকে ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, তামাকজাত পণ্য থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করতে হয় প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। ফলে তামাকের কারণে যে স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, তা রাজস্ব আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। আলোচনা সভার একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তিনি তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সচেতনতা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়। এ সময় জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা সভায় তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণ সমাজকে তামাক ও নিকোটিন আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বক্তারা সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সকলকে তামাক বর্জনের আহ্বান জানান।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তামাকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যকর ও তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন