আমিনপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র ভর্তিতে ঘুষ দাবি, জালিয়াতি ও সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগ
আবুজর গিফারী, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার খাস আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্র ভর্তিতে জালিয়াতি, শিক্ষার্থী প্রতি ৩ হাজার টাকা ঘুষ দাবি, অভিভাবককে লাঞ্ছিত করা এবং বিদ্যালয়ের সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করার মত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক অভিভাবক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসের ২৯ তারিখ স্থানীয় খাস আমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম মুন্সী তার দুই ছেলে ওবায়দুল্লাহ মুন্সী (তৃতীয় শ্রেণী) এবং নাজিয়াত মুন্সীকে উক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যান। ওই সময় প্রধান শিক্ষক উপস্থিত না থাকায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফ মিয়ার নিকট সমস্ত কাগজপত্র ও ফি জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শিক্ষকরা জানান যে শিশুদের ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং শিশুরা নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে থাকে ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
ভর্তির প্রায় তিন মাস পর শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানতে পারেন, বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় বা রোল নম্বরের তালিকায় তাদের কোনো নাম নেই। এ বিষয়ে অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের নিকট জানতে চাইলে তারা নানা টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম দাবি করেন যে, সরকারি খরচ বাবদ ছাত্র প্রতি ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা দিতে হবে, অন্যথায় ভর্তি করা সম্ভব নয় এবং পূর্বের ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।
ভুক্তভোগী অভিভাবক রফিকুল ইসলাম মুন্সী বলেন, "আমি বিনামূল্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অবৈধ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর কথা বলি। এতেই প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি আমার ওপর চড়াও হন, অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার সন্তানদের স্কুল থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায় যে, কিছুদিন পূর্বে প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাকা ভবনের লোহার রেইলিং অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করে দেন, যা নিয়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। ভুক্তভোগী অভিভাবক এই সরকারি সম্পদ চুরির প্রতিবাদ ও প্রচার করায় প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তার দুই সন্তানের শিক্ষা জীবন ধ্বংস করার জন্য এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী অভিভাবক গত ২৬ মে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে উক্ত অভিযোগের অনুলিপি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক (পাবনা), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং বেড়া প্রেস ক্লাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা জানান, বর্তমান সরকারের বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের যুগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এমন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে নিরেপক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
আমিনপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র ভর্তিতে ঘুষ দাবি, জালিয়াতি ও সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এর অভিযোগ
আবুজর গিফারী, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার খাস আমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্র ভর্তিতে জালিয়াতি, শিক্ষার্থী প্রতি ৩ হাজার টাকা ঘুষ দাবি, অভিভাবককে লাঞ্ছিত করা এবং বিদ্যালয়ের সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করার মত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক অভিভাবক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসের ২৯ তারিখ স্থানীয় খাস আমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম মুন্সী তার দুই ছেলে ওবায়দুল্লাহ মুন্সী (তৃতীয় শ্রেণী) এবং নাজিয়াত মুন্সীকে উক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যান। ওই সময় প্রধান শিক্ষক উপস্থিত না থাকায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফ মিয়ার নিকট সমস্ত কাগজপত্র ও ফি জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শিক্ষকরা জানান যে শিশুদের ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং শিশুরা নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে থাকে ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
ভর্তির প্রায় তিন মাস পর শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানতে পারেন, বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় বা রোল নম্বরের তালিকায় তাদের কোনো নাম নেই। এ বিষয়ে অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের নিকট জানতে চাইলে তারা নানা টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম দাবি করেন যে, সরকারি খরচ বাবদ ছাত্র প্রতি ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা দিতে হবে, অন্যথায় ভর্তি করা সম্ভব নয় এবং পূর্বের ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।
ভুক্তভোগী অভিভাবক রফিকুল ইসলাম মুন্সী বলেন, "আমি বিনামূল্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অবৈধ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর কথা বলি। এতেই প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি আমার ওপর চড়াও হন, অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার সন্তানদের স্কুল থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায় যে, কিছুদিন পূর্বে প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাকা ভবনের লোহার রেইলিং অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করে দেন, যা নিয়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। ভুক্তভোগী অভিভাবক এই সরকারি সম্পদ চুরির প্রতিবাদ ও প্রচার করায় প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তার দুই সন্তানের শিক্ষা জীবন ধ্বংস করার জন্য এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী অভিভাবক গত ২৬ মে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে উক্ত অভিযোগের অনুলিপি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক (পাবনা), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং বেড়া প্রেস ক্লাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা জানান, বর্তমান সরকারের বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের যুগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এমন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে নিরেপক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন