ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে ৮ দলিও ফুটবল  টুর্ণামেন্টের ড্রিম ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে ৮ দলিও ফুটবল টুর্ণামেন্টের ড্রিম ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

শেরপুরে কালেমার পতাকা অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

শেরপুরে কালেমার পতাকা অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যবিধির বেহাল দশা, হাত ধোয়ার বেসিনেই মেডিকেল বর্জ্যের স্তূপ

কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যবিধির বেহাল দশা, হাত ধোয়ার বেসিনেই মেডিকেল বর্জ্যের স্তূপ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সালথায় নবজাতক পরিবারের মাঝে সুজনের গাছের চারা বিতরণ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সালথায় নবজাতক পরিবারের মাঝে সুজনের গাছের চারা বিতরণ

ভেড়ামারা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করলেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী

ভেড়ামারা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করলেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে পটুয়াখালীতে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালিত

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে পটুয়াখালীতে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালিত

জেলা পরিষদ প্রশাসকে ফুলেল শুভেচ্ছা

জেলা পরিষদ প্রশাসকে ফুলেল শুভেচ্ছা

ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ: রংপুরের আলোচিত নুপুর হত্যা মামলায় দুই মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ: রংপুরের আলোচিত নুপুর হত্যা মামলায় দুই মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক জাগরণ জরুরি: মাওলানা ছালিম আহমদ খাঁ

যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক জাগরণ জরুরি: মাওলানা ছালিম আহমদ খাঁ

যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক জাগরণ জরুরি: মাওলানা ছালিম আহমদ খাঁ

একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ প্রজন্ম। তাদের স্বপ্ন, মেধা, কর্মশক্তি ও সৃজনশীলতাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজের একটি অংশ আজ মাদকের ভয়াবহ ছোবলে আক্রান্ত। মাদক এমন একটি অভিশাপ, যা ধীরে ধীরে একজন মানুষের বিবেক, মূল্যবোধ, পরিবার এবং ভবিষ্যৎকে গ্রাস করে ফেলে। তাই মাদকবিরোধী সংগ্রাম কেবল একটি দিবসের কর্মসূচি নয়; এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

আমরা প্রায়ই মাদককে শুধু একটি আইনশৃঙ্খলা বিষয় হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবে এটি আরও গভীর একটি সমস্যা। একজন তরুণ যখন মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন তার পেছনে নানা সামাজিক ও পারিবারিক কারণ কাজ করে। অনেক সময় পারিবারিক অবহেলা, হতাশা, বেকারত্ব, খারাপ সঙ্গ কিংবা জীবনের লক্ষ্যহীনতা একজন মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যায়। ফলে মাদক প্রতিরোধের জন্য শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, এর সামাজিক কারণগুলোও চিহ্নিত করতে হবে।

আজকের দিনে প্রযুক্তির প্রসার ঘটেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে বেড়েছে নানা ধরনের সামাজিক চ্যালেঞ্জ। তরুণদের একটি অংশ সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারছে না। তাদের অনেকেই জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছাড়াই বেড়ে উঠছে। এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের টার্গেট করে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সচেতন মানুষদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

আমার বিশ্বাস, মাদক প্রতিরোধের প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ হলো পরিবার। একজন সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী ভাবছে কিংবা কোন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে— এসব বিষয়ে পরিবারের আন্তরিক নজর থাকা জরুরি। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে তারা সহজেই নিজেদের সমস্যার কথা ভাগাভাগি করতে পারে। অনেক বিপদ শুরুতেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। একজন শিক্ষার্থীকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও শিক্ষকদের রয়েছে। নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, দেশপ্রেম এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সমাজসেবামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যস্ত ও ইতিবাচক জীবনধারা তরুণদের অনেক নেতিবাচক অভ্যাস থেকে দূরে রাখে।

ধর্মীয় মূল্যবোধও মাদক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ধর্ম মানুষকে আত্মসংযম, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। যখন একজন মানুষ তার স্রষ্টার প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি ধারণ করে, তখন সে সহজে ধ্বংসের পথে পা বাড়ায় না। তাই পরিবার ও সমাজে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, অভিভাবক এবং তরুণদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ যত শক্তিশালী হবে, ততই এই অভিশাপের বিস্তার কমবে।

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়— আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন সমাজ রেখে যেতে চাই? এমন একটি সমাজ, যেখানে মাদক তরুণদের স্বপ্ন কেড়ে নেবে, নাকি এমন একটি সমাজ, যেখানে তারা শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে?

আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিই। ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্র— সর্বত্র মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলি। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সুস্থ, সুন্দর, নিরাপদ এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।


লেখকঃ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পরিচালক, হাফিজ সোসিয়াল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন

প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, ইউনাইটেড ইয়ুথ ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি চেয়ারম্যান,ইউনাইটেড ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক জাগরণ জরুরি: মাওলানা ছালিম আহমদ খাঁ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক জাগরণ জরুরি: মাওলানা ছালিম আহমদ খাঁ

একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ প্রজন্ম। তাদের স্বপ্ন, মেধা, কর্মশক্তি ও সৃজনশীলতাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজের একটি অংশ আজ মাদকের ভয়াবহ ছোবলে আক্রান্ত। মাদক এমন একটি অভিশাপ, যা ধীরে ধীরে একজন মানুষের বিবেক, মূল্যবোধ, পরিবার এবং ভবিষ্যৎকে গ্রাস করে ফেলে। তাই মাদকবিরোধী সংগ্রাম কেবল একটি দিবসের কর্মসূচি নয়; এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

আমরা প্রায়ই মাদককে শুধু একটি আইনশৃঙ্খলা বিষয় হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবে এটি আরও গভীর একটি সমস্যা। একজন তরুণ যখন মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন তার পেছনে নানা সামাজিক ও পারিবারিক কারণ কাজ করে। অনেক সময় পারিবারিক অবহেলা, হতাশা, বেকারত্ব, খারাপ সঙ্গ কিংবা জীবনের লক্ষ্যহীনতা একজন মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যায়। ফলে মাদক প্রতিরোধের জন্য শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, এর সামাজিক কারণগুলোও চিহ্নিত করতে হবে।

আজকের দিনে প্রযুক্তির প্রসার ঘটেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে বেড়েছে নানা ধরনের সামাজিক চ্যালেঞ্জ। তরুণদের একটি অংশ সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারছে না। তাদের অনেকেই জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছাড়াই বেড়ে উঠছে। এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের টার্গেট করে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সচেতন মানুষদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

আমার বিশ্বাস, মাদক প্রতিরোধের প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ হলো পরিবার। একজন সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী ভাবছে কিংবা কোন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে— এসব বিষয়ে পরিবারের আন্তরিক নজর থাকা জরুরি। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে তারা সহজেই নিজেদের সমস্যার কথা ভাগাভাগি করতে পারে। অনেক বিপদ শুরুতেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। একজন শিক্ষার্থীকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও শিক্ষকদের রয়েছে। নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, দেশপ্রেম এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সমাজসেবামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যস্ত ও ইতিবাচক জীবনধারা তরুণদের অনেক নেতিবাচক অভ্যাস থেকে দূরে রাখে।

ধর্মীয় মূল্যবোধও মাদক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ধর্ম মানুষকে আত্মসংযম, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। যখন একজন মানুষ তার স্রষ্টার প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি ধারণ করে, তখন সে সহজে ধ্বংসের পথে পা বাড়ায় না। তাই পরিবার ও সমাজে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, অভিভাবক এবং তরুণদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ যত শক্তিশালী হবে, ততই এই অভিশাপের বিস্তার কমবে।

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়— আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন সমাজ রেখে যেতে চাই? এমন একটি সমাজ, যেখানে মাদক তরুণদের স্বপ্ন কেড়ে নেবে, নাকি এমন একটি সমাজ, যেখানে তারা শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে?

আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিই। ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্র— সর্বত্র মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলি। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সুস্থ, সুন্দর, নিরাপদ এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।


লেখকঃ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পরিচালক, হাফিজ সোসিয়াল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন

প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, ইউনাইটেড ইয়ুথ ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি চেয়ারম্যান,ইউনাইটেড ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ