প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কাশফুলের ধামাকা: সাভার সেনা শপিং কমপ্লেক্সে খাবারের মূল্যে বিশাল ৪০% ছাড়! ০৭ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে সিলেটে যুব সংগঠক ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত ০৭ নভেম্বর ২০২৬

শেরপুরে ‘জয় বাংলা’ স্লোমিছিলগান দিয়ে বের করার চেষ্টার প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ০৭ নভেম্বর ২০২৬

সরিষাবাড়ী-ধনবাড়ীতে দুই সহস্রাধিক গ্রাহকের ৭৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও, গ্রেপ্তার ও টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ০৭ নভেম্বর ২০২৬

ঝিনাইগাতীতে কমিটি নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় বিএনপি নেতা নিহত ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কাশফুলের ধামাকা: সাভার সেনা শপিং কমপ্লেক্সে খাবারের মূল্যে বিশাল ৪০% ছাড়!

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কাশফুলের ধামাকা: সাভার সেনা শপিং কমপ্লেক্সে খাবারের মূল্যে বিশাল ৪০% ছাড়!

জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে সিলেটে যুব সংগঠক ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে সিলেটে যুব সংগঠক ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

শেরপুরে ‘জয় বাংলা’ স্লোমিছিলগান দিয়ে বের করার চেষ্টার প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

শেরপুরে ‘জয় বাংলা’ স্লোমিছিলগান দিয়ে বের করার চেষ্টার প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

সরিষাবাড়ী-ধনবাড়ীতে দুই সহস্রাধিক গ্রাহকের ৭৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও, গ্রেপ্তার ও টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন

সরিষাবাড়ী-ধনবাড়ীতে দুই সহস্রাধিক গ্রাহকের ৭৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও, গ্রেপ্তার ও টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন

ঝিনাইগাতীতে কমিটি নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় বিএনপি নেতা নিহত

ঝিনাইগাতীতে কমিটি নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় বিএনপি নেতা নিহত

বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা

বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা

হরিরামপুরে লাউতা জামি'আ ইবনে আব্বাস (রহ.) মাদ্রাসার উদ্যোগে ১০ম বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত।

হরিরামপুরে লাউতা জামি'আ ইবনে আব্বাস (রহ.) মাদ্রাসার উদ্যোগে ১০ম বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত।

শালিখায় শিশুর যৌন হয়রানির অভিযোগে শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার

শালিখায় শিশুর যৌন হয়রানির অভিযোগে শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার

কাদা-জলে নাকাল ২ লাখ মানুষ: কটিয়াদীর জালালপুর সড়ক যেন এক মরণফাঁদ!

কাদা-জলে নাকাল ২ লাখ মানুষ: কটিয়াদীর জালালপুর সড়ক যেন এক মরণফাঁদ!

কাদা-জলে নাকাল ২ লাখ মানুষ: কটিয়াদীর জালালপুর সড়ক যেন এক মরণফাঁদ!

​এ.এস.এম হামিদ হাসান কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:- ​কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ জালালপুর-লোহাজুরী সড়কটি এখন যেন এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা এই সড়কটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত দুই লাখ মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় বড় খানাখন্দ, যা জমে থাকা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব অদৃশ্য গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। উল্টে যাচ্ছে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল।

​​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিন্নাবাইদ, চরমান্দালিয়া, গোহালবাড়িয়া ও পাইকান এলাকার মানুষের উপজেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কিন্তু বছরের পর বছর সড়কটির কোনো স্থায়ী সংস্কার করা হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ভাঙা ইট ফেলে জোড়াতালির 'দায়সারা' মেরামত করা হলেও তা কোনো কাজেই আসেনি। বরং ইটগুলো ঠিকমতো রোলিং না করায় এবং অল্প দিনেই সেগুলো সরে যাওয়ায় রাস্তাটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

​কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী প্রতিদিন এই সড়কটি ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি এখন বিশেষ করে বয়স্ক, গুরুতর অসুস্থ এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। ভাঙাচোরা এবং ঝাঁকুনির এই রাস্তায় যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় প্রসূতি মায়েরা মাঝপথেই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।

​সড়কের এই কঙ্কালসার অবস্থার কারণে এই রুটে গণপরিবহন চলাচল অর্ধেকের চেয়েও কমে গেছে। লোহাজুরী রুটের অটোরিকশা চালক জামাল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন,

​"রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে সপ্তাহে অন্তত দুইবার গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে মেরামত করতে হয়। চাকা নষ্ট হয়, বডি ভেঙে যায়। বাধ্য হয়ে একটু বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা রাগ করেন। সব মিলিয়ে আমরা চালকেরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছি।

​পরিবহন সংকটের এই সুযোগে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী বাড়তি ভাড়া দিতে না পেরে কাদা-পানি মাড়িয়ে পায়ে হেঁটেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

​​কটিয়াদী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজি বাজারটি এই সড়কের পাশেই অবস্থিত। এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহনের মূল ধমনীও এটি। অথচ রাস্তার বেহাল দশার কারণে বাজারে সময়মতো সবজি আনা যাচ্ছে না। কাদা আর জমে থাকা পানির কারণে ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বড় বড় পাইকাররা এখন আর এই সড়ক দিয়ে আসতে চাচ্ছেন না। ফলে একদিকে যেমন সবজি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পাইকার না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অর্থনৈতিকভাবে ধস নামছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে।

​​উপজেলা সদরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক, চিকিৎসাসেবা এবং প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটির কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত এই সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

​এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পথচারীরা আর কোনো 'জোড়াতালির সংস্কার' চান না। তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে সড়কটির স্থায়ী ও দ্রুত কার্পেটিংয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


কাদা-জলে নাকাল ২ লাখ মানুষ: কটিয়াদীর জালালপুর সড়ক যেন এক মরণফাঁদ!

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

কাদা-জলে নাকাল ২ লাখ মানুষ: কটিয়াদীর জালালপুর সড়ক যেন এক মরণফাঁদ!

​এ.এস.এম হামিদ হাসান কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:- ​কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ জালালপুর-লোহাজুরী সড়কটি এখন যেন এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা এই সড়কটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত দুই লাখ মানুষ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় বড় খানাখন্দ, যা জমে থাকা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব অদৃশ্য গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। উল্টে যাচ্ছে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল।

​​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিন্নাবাইদ, চরমান্দালিয়া, গোহালবাড়িয়া ও পাইকান এলাকার মানুষের উপজেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কিন্তু বছরের পর বছর সড়কটির কোনো স্থায়ী সংস্কার করা হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ভাঙা ইট ফেলে জোড়াতালির 'দায়সারা' মেরামত করা হলেও তা কোনো কাজেই আসেনি। বরং ইটগুলো ঠিকমতো রোলিং না করায় এবং অল্প দিনেই সেগুলো সরে যাওয়ায় রাস্তাটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

​কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী প্রতিদিন এই সড়কটি ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি এখন বিশেষ করে বয়স্ক, গুরুতর অসুস্থ এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম। ভাঙাচোরা এবং ঝাঁকুনির এই রাস্তায় যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক সময় প্রসূতি মায়েরা মাঝপথেই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।

​সড়কের এই কঙ্কালসার অবস্থার কারণে এই রুটে গণপরিবহন চলাচল অর্ধেকের চেয়েও কমে গেছে। লোহাজুরী রুটের অটোরিকশা চালক জামাল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন,

​"রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে সপ্তাহে অন্তত দুইবার গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে মেরামত করতে হয়। চাকা নষ্ট হয়, বডি ভেঙে যায়। বাধ্য হয়ে একটু বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা রাগ করেন। সব মিলিয়ে আমরা চালকেরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছি।

​পরিবহন সংকটের এই সুযোগে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী বাড়তি ভাড়া দিতে না পেরে কাদা-পানি মাড়িয়ে পায়ে হেঁটেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

​​কটিয়াদী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজি বাজারটি এই সড়কের পাশেই অবস্থিত। এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহনের মূল ধমনীও এটি। অথচ রাস্তার বেহাল দশার কারণে বাজারে সময়মতো সবজি আনা যাচ্ছে না। কাদা আর জমে থাকা পানির কারণে ঢাকা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বড় বড় পাইকাররা এখন আর এই সড়ক দিয়ে আসতে চাচ্ছেন না। ফলে একদিকে যেমন সবজি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পাইকার না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অর্থনৈতিকভাবে ধস নামছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে।

​​উপজেলা সদরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক, চিকিৎসাসেবা এবং প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটির কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত এই সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

​এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পথচারীরা আর কোনো 'জোড়াতালির সংস্কার' চান না। তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে সড়কটির স্থায়ী ও দ্রুত কার্পেটিংয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ