ফুলপুরে হত্যা মামলার আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল, বাদীকে মারধরের অভিযোগ
রফিকুল ইসলাম , ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:- ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের ধনারভিটা গ্রামে একটি হত্যা মামলার আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দুধ দিয়ে গোসল করে উল্লাস প্রকাশ এবং পরে মামলার বাদীকে মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফুলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী বিল্লাল হোসেন।
লিখিত অভিযোগ ও বিল্লাল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে রাবিয়া খাতুনকে তাঁর ভাতিজা মো. হামিদুল (২৫) প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভনে ফেলে পরে বিষপান করিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় তিনি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ হামিদুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে গত ৫ জুলাই তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
বিল্লাল হোসেনের অভিযোগ, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর হামিদুল প্রকাশ্যে প্রায় ১৪ কেজি দুধ দিয়ে গোসল করে উল্লাস প্রকাশ করেন। পরে তাঁর বাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ করে বলেন, “আমাকে কী করতে পেরেছিস?” এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই হামিদুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের লোকজনকে নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।
বিল্লাল হোসেন বলেন, গত ১০ জুলাই একটি শিকল ও হাতুড়ি হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামিদুলের বাবা নুরুল ইসলাম তাঁর কাছে ওই শিকল ও হাতুড়ি দাবি করেন। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানালে হামিদুল, তাঁর বাবা নুরুল ইসলাম, ভাই আব্দুল হালিম এবং মা হালিমা খাতুন সংঘবদ্ধভাবে তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তিনি ফুলপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি বলেন, মেয়ের হত্যার ঘটনায় মামলা করার পর থেকেই তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া বিল্লাল হোসেনের অভিযোগ, তাঁর বড় ভাই নুরুল ইসলাম তাঁদের বাড়ির সামনে একটি গোয়ালঘর নির্মাণ করেছেন। সেখানকার ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে তাঁদের বসবাসে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। হত্যা মামলার আসামিরা যেন আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে না যায় এবং প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হামিদুলের বাবা নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে রাবিয়াকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেননি; বরং রাবিয়াই তাঁর ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। তাঁর দাবি, রাবিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নুরুল ইসলাম বলেন, “রাবিয়া যেদিন অসুস্থ হয়, সেদিন ছিল বুধবার। আমার ছেলে তার আগেই ঢাকা থেকে এসে সোমবার নানার বাড়িতে চলে যায়। রাবিয়া যেদিন বিষপান করেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেদিন সে এলাকায় আমার ছেলে ছিল না। রাবিয়া বিষপান করেছে কি না, সেটিও আমরা জানতাম না। পরে শুনেছি, তার পেটে ব্যথা হলে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে আমার ছেলের কোনো সম্পর্ক নেই।”

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
ফুলপুরে হত্যা মামলার আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল, বাদীকে মারধরের অভিযোগ
রফিকুল ইসলাম , ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:- ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের ধনারভিটা গ্রামে একটি হত্যা মামলার আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দুধ দিয়ে গোসল করে উল্লাস প্রকাশ এবং পরে মামলার বাদীকে মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফুলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী বিল্লাল হোসেন।
লিখিত অভিযোগ ও বিল্লাল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে রাবিয়া খাতুনকে তাঁর ভাতিজা মো. হামিদুল (২৫) প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভনে ফেলে পরে বিষপান করিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় তিনি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ হামিদুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে গত ৫ জুলাই তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
বিল্লাল হোসেনের অভিযোগ, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর হামিদুল প্রকাশ্যে প্রায় ১৪ কেজি দুধ দিয়ে গোসল করে উল্লাস প্রকাশ করেন। পরে তাঁর বাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ করে বলেন, “আমাকে কী করতে পেরেছিস?” এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই হামিদুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের লোকজনকে নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।
বিল্লাল হোসেন বলেন, গত ১০ জুলাই একটি শিকল ও হাতুড়ি হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামিদুলের বাবা নুরুল ইসলাম তাঁর কাছে ওই শিকল ও হাতুড়ি দাবি করেন। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানালে হামিদুল, তাঁর বাবা নুরুল ইসলাম, ভাই আব্দুল হালিম এবং মা হালিমা খাতুন সংঘবদ্ধভাবে তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তিনি ফুলপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি বলেন, মেয়ের হত্যার ঘটনায় মামলা করার পর থেকেই তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া বিল্লাল হোসেনের অভিযোগ, তাঁর বড় ভাই নুরুল ইসলাম তাঁদের বাড়ির সামনে একটি গোয়ালঘর নির্মাণ করেছেন। সেখানকার ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে তাঁদের বসবাসে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। হত্যা মামলার আসামিরা যেন আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে না যায় এবং প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হামিদুলের বাবা নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে রাবিয়াকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেননি; বরং রাবিয়াই তাঁর ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। তাঁর দাবি, রাবিয়ার মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নুরুল ইসলাম বলেন, “রাবিয়া যেদিন অসুস্থ হয়, সেদিন ছিল বুধবার। আমার ছেলে তার আগেই ঢাকা থেকে এসে সোমবার নানার বাড়িতে চলে যায়। রাবিয়া যেদিন বিষপান করেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেদিন সে এলাকায় আমার ছেলে ছিল না। রাবিয়া বিষপান করেছে কি না, সেটিও আমরা জানতাম না। পরে শুনেছি, তার পেটে ব্যথা হলে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে আমার ছেলের কোনো সম্পর্ক নেই।”

আপনার মতামত লিখুন