বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী বিশেষ করে শিশু, নারী ও শিক্ষার্থীরা
মোঃ খাইরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর:- গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা এখন বেওয়ারিশ কুকুরের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পৌর এলাকার সদর বাজার, স্টেশন রোড, কলেজ গেট থেকে শুরু করে অলি-গলি পর্যন্ত সর্বত্র বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। বিশেষ করে শিশু, নারী ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন।
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, কিছুদিন আগে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এরপর থেকে পুরো পৌর এলাকায় জলাতঙ্ক নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর সদর বাজারের ডাস্টবিনের পাশে, কলেজ গেটের সামনে এবং আবাসিক এলাকার গলিতে ঝাঁকে ঝাঁকে বেওয়ারিশ কুকুর ঘুমিয়ে-বসে আছে।
রাত ৮টার পর কুকুরের দল বের হয়ে রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করে। অনেক সময় পথচারীদের তাড়া করে। কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, সন্ধ্যার কোচিং থেকে ফেরার সময় ৪-৫টা কুকুর একসাথে তাড়া করে। দৌড়ে বাসায় যেতে হয়। এভাবে আর চলা যায় না।স্থানীয় বাসিন্দা মো.রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হওয়া যায় না। বাচ্চাদের স্কুলে একা পাঠাতে কলিজা শুকিয়ে যায়।
পৌরসভা বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে।গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, গত সপ্তাহে আমার পাশের বাসার ৮ বছরের বাচ্চাকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। ৫টা করে জলাতঙ্কের ইনজেকশন দিতে হয়েছে। গরিব মানুষ এত টাকা কই পাবে?কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়,গত এক মাস আগে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে প্রায় ১৫ জন রোগী হাসপাতালে এসেছেন।
তাদের সবাইকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন,কুকুর কামড়ালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে হবে। নাহলে জলাতঙ্ক হলে বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম।কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, কালিয়াকৈর পৌরসভায় বেওয়ারিশ কুকুরের এই উপদ্রব অত্যন্ত দুঃখজনক।
আমি ইতোমধ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগকে নিয়ে জরুরি সভা করেছি।তিনি আরও বলেন, পৌর এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু হবে। বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকা দেওয়া,বন্ধ্যাকরণ এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করা হবে।নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম কাজ।ইউএনও নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন,কুকুরের কামড় খেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন। পৌরসভার হটলাইনে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালিয়াকৈর পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,জনবল ও বাজেটের অভাবে আমরা এককভাবে এই সমস্যা সমাধান করতে পারছি না। ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় এখন যৌথভাবে কাজ করা হবে।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মিজানুর রহমান বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণের একমাত্র বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো Catch-Neuter-Vaccinate-Release'। অর্থাৎ কুকুর ধরে টিকা দিয়ে বন্ধ্যাকরণ করে আবার ছেড়ে দেওয়া। এলোপাতাড়ি নিধন করলে সমস্যা বাড়বে।তিনি আরও বলেন, জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী রোগ। কুকুর কামড়ালে সাবান দিয়ে ১৫ মিনিট ক্ষতস্থান ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
পৌরবাসীর একটাই দাবি, অবিলম্বে কার্যকর অভিযান চালিয়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বন্ধ করা হোক। রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজের সামনে কুকুরমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।কালিয়াকৈর পৌরসভায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নাগরিকরা অতিষ্ঠ। পাগলা কুকুরের কামড়ে ১৫ জন আহত। ইউএনও ও প্রশাসক কিছু দিনের মধ্যে অভিযানে ঘোষণা দিয়েছেন। দ্রুত সমাধান চান পৌরবাসী।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী বিশেষ করে শিশু, নারী ও শিক্ষার্থীরা
মোঃ খাইরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর:- গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা এখন বেওয়ারিশ কুকুরের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পৌর এলাকার সদর বাজার, স্টেশন রোড, কলেজ গেট থেকে শুরু করে অলি-গলি পর্যন্ত সর্বত্র বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। বিশেষ করে শিশু, নারী ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন।
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, কিছুদিন আগে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এরপর থেকে পুরো পৌর এলাকায় জলাতঙ্ক নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর সদর বাজারের ডাস্টবিনের পাশে, কলেজ গেটের সামনে এবং আবাসিক এলাকার গলিতে ঝাঁকে ঝাঁকে বেওয়ারিশ কুকুর ঘুমিয়ে-বসে আছে।
রাত ৮টার পর কুকুরের দল বের হয়ে রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করে। অনেক সময় পথচারীদের তাড়া করে। কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, সন্ধ্যার কোচিং থেকে ফেরার সময় ৪-৫টা কুকুর একসাথে তাড়া করে। দৌড়ে বাসায় যেতে হয়। এভাবে আর চলা যায় না।স্থানীয় বাসিন্দা মো.রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হওয়া যায় না। বাচ্চাদের স্কুলে একা পাঠাতে কলিজা শুকিয়ে যায়।
পৌরসভা বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে।গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, গত সপ্তাহে আমার পাশের বাসার ৮ বছরের বাচ্চাকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। ৫টা করে জলাতঙ্কের ইনজেকশন দিতে হয়েছে। গরিব মানুষ এত টাকা কই পাবে?কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়,গত এক মাস আগে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে প্রায় ১৫ জন রোগী হাসপাতালে এসেছেন।
তাদের সবাইকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন,কুকুর কামড়ালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে হবে। নাহলে জলাতঙ্ক হলে বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম।কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, কালিয়াকৈর পৌরসভায় বেওয়ারিশ কুকুরের এই উপদ্রব অত্যন্ত দুঃখজনক।
আমি ইতোমধ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগকে নিয়ে জরুরি সভা করেছি।তিনি আরও বলেন, পৌর এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু হবে। বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকা দেওয়া,বন্ধ্যাকরণ এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করা হবে।নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম কাজ।ইউএনও নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন,কুকুরের কামড় খেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন। পৌরসভার হটলাইনে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালিয়াকৈর পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,জনবল ও বাজেটের অভাবে আমরা এককভাবে এই সমস্যা সমাধান করতে পারছি না। ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় এখন যৌথভাবে কাজ করা হবে।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মিজানুর রহমান বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণের একমাত্র বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো Catch-Neuter-Vaccinate-Release'। অর্থাৎ কুকুর ধরে টিকা দিয়ে বন্ধ্যাকরণ করে আবার ছেড়ে দেওয়া। এলোপাতাড়ি নিধন করলে সমস্যা বাড়বে।তিনি আরও বলেন, জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী রোগ। কুকুর কামড়ালে সাবান দিয়ে ১৫ মিনিট ক্ষতস্থান ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
পৌরবাসীর একটাই দাবি, অবিলম্বে কার্যকর অভিযান চালিয়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বন্ধ করা হোক। রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজের সামনে কুকুরমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।কালিয়াকৈর পৌরসভায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নাগরিকরা অতিষ্ঠ। পাগলা কুকুরের কামড়ে ১৫ জন আহত। ইউএনও ও প্রশাসক কিছু দিনের মধ্যে অভিযানে ঘোষণা দিয়েছেন। দ্রুত সমাধান চান পৌরবাসী।

আপনার মতামত লিখুন