ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর আয়োজিত, হর ঘর তিরঙ্গা শোভাযাত্রা ও তিরঙ্গা উৎসব পালিত হল।

উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর আয়োজিত, হর ঘর তিরঙ্গা শোভাযাত্রা ও তিরঙ্গা উৎসব পালিত হল।

মোল্লাহাটে ৪ দলিয় মিলু মিয়া স্মৃতি ফুটবল খেলায় রুপসা নৈহাটি একাডেমী চেম্পিয়ান

মোল্লাহাটে ৪ দলিয় মিলু মিয়া স্মৃতি ফুটবল খেলায় রুপসা নৈহাটি একাডেমী চেম্পিয়ান

নবাবগঞ্জে ফুটবল উন্মাদনা: চ্যাম্পিয়ন ফ্রেন্ডস ক্লাব মদনখালী

নবাবগঞ্জে ফুটবল উন্মাদনা: চ্যাম্পিয়ন ফ্রেন্ডস ক্লাব মদনখালী

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছেন --যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছেন --যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

পঞ্চগড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

পঞ্চগড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

৮০তম স্বাধীনতা দিবসের  প্রস্তুতি এবং পরিদর্শনে কলকাতা পুলিশ কমিশনার ও বোম স্কোয়াড কুকুর।

৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি এবং পরিদর্শনে কলকাতা পুলিশ কমিশনার ও বোম স্কোয়াড কুকুর।

দোকান দখল করে সরিষাবাড়িতে বিএনপির ওয়ার্ড কার্যালয়! এলাকায় উত্তেজনা

দোকান দখল করে সরিষাবাড়িতে বিএনপির ওয়ার্ড কার্যালয়! এলাকায় উত্তেজনা

অন্য প্রতিষ্ঠানের প্যাকেট ব্যবহার করার অভিযোগে জামান এগ্রো ফার্মকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

অন্য প্রতিষ্ঠানের প্যাকেট ব্যবহার করার অভিযোগে জামান এগ্রো ফার্মকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

মুন্ডুমালায় খাবার পানির সমস্যা ১১৭বাড়ির মানুষের

মুন্ডুমালায় খাবার পানির সমস্যা ১১৭বাড়ির মানুষের

মুন্ডুমালায় খাবার পানির সমস্যা ১১৭বাড়ির মানুষের 

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:- রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা পৌরসভার একটি মহল্লায় ভরা বর্ষায় দেখা দিয়েছে চৈত্রের খরা। প্রায় ২০ দিন যাবত মহল্লার নাগরিকগণ খাবার পানি বঞ্চিত  পানির সরবরাহ নেই। 

এলাকায় তেমন কোনো পুকুর না থাকায় গোসলসহ গৃহস্থালির অন্যান্য কাজের পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় লোকজন মহল্লার দুটি ব্যক্তিমালিকানাধীন সাবমার্সিবল পাম্প (মটর) থেকে পানি কিনে ব্যবহার করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তানোর সরকার ঘোষিত পানি সংকটাপন্ন এলাকা। উপজেলার মুণ্ডুমালা পৌর এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে হস্তচালিত সব নলকূপ অচল হয়ে গেছে বহু আগে। 

সব গভীর নলকূপেও জলধারক স্তর পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় ২০১৭ সালের পর মুন্ডুমালা পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নলকূপ থেকে সাদিপুর মহল্লায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ১১৭টি বাড়িতে ট্যাপের লাইন করে দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভা সূত্র জানায়, একটি ট্যাপের জন্য মাসে ১৫০ টাকা এবং যাঁরা ট্যাংকে পানি ধরে রাখেন তাঁদের থেকে ২৫০ টাকা নেওয়া হয়। তবে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ থেকে আর পানি উঠছে না। এতে প্রায় ২০ দিন ধরে বিএমডিএর নলকূপ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে মহল্লার লোকজনকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টাকার পানি কিনতে হচ্ছে।

মহল্লার একটি বেসরকারি সংস্থার স্বেচ্ছাসেবক জেসমিন খাতুন বলেন, জুলাইয়ের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত পানি ছিল না। মাঝখানে তিন দিন ছিল। এর পর থেকে আর পানি নেই। তিনি বলেন, মহল্লায় কোনো পুকুর না থাকার কারণে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।

 যাঁদের ব্যক্তিগত মোটর আছে তাঁদের কাছ থেকে পানি কিনে আনতে হচ্ছে। পাঁচ মিনিট মোটর চালু করলেই তাঁদের ৫০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে পানি ধরে নিতে হচ্ছে। এভাবে তো আর জীবন চলতে পারে না!পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ থেকে আর পানি উঠছে না। ২০ দিন ধরে বিএমডিএর নলকূপ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। 

কোনো কোনো পরিবারকে এরই মধ্যে দুই হাজার টাকার পানি কিনতে হয়েছে। মহল্লার আবদুর রাজ্জাকের পরিবারকে চলতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকার পানি কিনতে হয়েছে। আর সাবানা বেগম নামের এক নারী জানালেন, তাঁর পরিবারের দুই হাজার টাকার পানি কেনা হয়ে গেছে।

পানির সংকটে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মহল্লার লোকজন। পর্যাপ্ত পানি দিতে না পেরে গরু বিক্রিও করে দিয়েছেন অনেক। রনি ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তাঁর একটি গাভি দেখিয়ে বলেন, 'এটা পোয়াতি গরু। এত দিন ঠিকমতো পানি দিতে পারিনি। তাই গরুটাকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে পোয়াতি। 

এখন যদি কিছু হয়ে যায়, আমার মতো গরিব মানুষের কী হবে কন তো ?' গরুর জন্য পানির ব্যবস্থা করতে না পেরে দুটি গরু বিক্রি করে দিয়েছেন মহল্লার মটরি বেগম। তিনি বলেন, 'আমি গরু পুষতাম। পানির খুব কষ্ট। পানির অভাবে ১০ দিন হচ্ছে লোকসানে গরু দুইটা বিক্রি করে দিয়েছি। মানুষই পানি খাইতে পাচ্ছে না। গরু-বকরিকে কী করে পানি খাওয়াব?' মহল্লার পানির বিল আদায় করতেন আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বহুদিন ধরে পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপে আর পানি উঠছে না। আর বিএমডিএর গভীর নলকূপটাও ঘন ঘন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 মুণ্ডুমালা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান। তিনি বলেন, 'নলকূপ নষ্ট থাকার বিষয়টি দুদিন আগেই বিএমডিএর প্রকৌশলীকে বলেছিলাম। তিনি ঠিক করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তারপরে আর আপডেট নেওয়া হয়নি।' তাঁর সঙ্গে কথা বলে একটু পরেই ফোন করে তিনি বলেন, 'মেশিন ঠিক হয়েছে। এখন স্থানীয় সমিতির সঙ্গে একটু কাজ বাকি আছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


মুন্ডুমালায় খাবার পানির সমস্যা ১১৭বাড়ির মানুষের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

মুন্ডুমালায় খাবার পানির সমস্যা ১১৭বাড়ির মানুষের 

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:- রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা পৌরসভার একটি মহল্লায় ভরা বর্ষায় দেখা দিয়েছে চৈত্রের খরা। প্রায় ২০ দিন যাবত মহল্লার নাগরিকগণ খাবার পানি বঞ্চিত  পানির সরবরাহ নেই। 

এলাকায় তেমন কোনো পুকুর না থাকায় গোসলসহ গৃহস্থালির অন্যান্য কাজের পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় লোকজন মহল্লার দুটি ব্যক্তিমালিকানাধীন সাবমার্সিবল পাম্প (মটর) থেকে পানি কিনে ব্যবহার করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তানোর সরকার ঘোষিত পানি সংকটাপন্ন এলাকা। উপজেলার মুণ্ডুমালা পৌর এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে হস্তচালিত সব নলকূপ অচল হয়ে গেছে বহু আগে। 

সব গভীর নলকূপেও জলধারক স্তর পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় ২০১৭ সালের পর মুন্ডুমালা পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নলকূপ থেকে সাদিপুর মহল্লায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ১১৭টি বাড়িতে ট্যাপের লাইন করে দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভা সূত্র জানায়, একটি ট্যাপের জন্য মাসে ১৫০ টাকা এবং যাঁরা ট্যাংকে পানি ধরে রাখেন তাঁদের থেকে ২৫০ টাকা নেওয়া হয়। তবে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ থেকে আর পানি উঠছে না। এতে প্রায় ২০ দিন ধরে বিএমডিএর নলকূপ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে মহল্লার লোকজনকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টাকার পানি কিনতে হচ্ছে।

মহল্লার একটি বেসরকারি সংস্থার স্বেচ্ছাসেবক জেসমিন খাতুন বলেন, জুলাইয়ের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত পানি ছিল না। মাঝখানে তিন দিন ছিল। এর পর থেকে আর পানি নেই। তিনি বলেন, মহল্লায় কোনো পুকুর না থাকার কারণে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।

 যাঁদের ব্যক্তিগত মোটর আছে তাঁদের কাছ থেকে পানি কিনে আনতে হচ্ছে। পাঁচ মিনিট মোটর চালু করলেই তাঁদের ৫০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে পানি ধরে নিতে হচ্ছে। এভাবে তো আর জীবন চলতে পারে না!পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ থেকে আর পানি উঠছে না। ২০ দিন ধরে বিএমডিএর নলকূপ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। 

কোনো কোনো পরিবারকে এরই মধ্যে দুই হাজার টাকার পানি কিনতে হয়েছে। মহল্লার আবদুর রাজ্জাকের পরিবারকে চলতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকার পানি কিনতে হয়েছে। আর সাবানা বেগম নামের এক নারী জানালেন, তাঁর পরিবারের দুই হাজার টাকার পানি কেনা হয়ে গেছে।

পানির সংকটে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মহল্লার লোকজন। পর্যাপ্ত পানি দিতে না পেরে গরু বিক্রিও করে দিয়েছেন অনেক। রনি ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তাঁর একটি গাভি দেখিয়ে বলেন, 'এটা পোয়াতি গরু। এত দিন ঠিকমতো পানি দিতে পারিনি। তাই গরুটাকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে পোয়াতি। 

এখন যদি কিছু হয়ে যায়, আমার মতো গরিব মানুষের কী হবে কন তো ?' গরুর জন্য পানির ব্যবস্থা করতে না পেরে দুটি গরু বিক্রি করে দিয়েছেন মহল্লার মটরি বেগম। তিনি বলেন, 'আমি গরু পুষতাম। পানির খুব কষ্ট। পানির অভাবে ১০ দিন হচ্ছে লোকসানে গরু দুইটা বিক্রি করে দিয়েছি। মানুষই পানি খাইতে পাচ্ছে না। গরু-বকরিকে কী করে পানি খাওয়াব?' মহল্লার পানির বিল আদায় করতেন আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বহুদিন ধরে পৌরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপে আর পানি উঠছে না। আর বিএমডিএর গভীর নলকূপটাও ঘন ঘন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 মুণ্ডুমালা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান। তিনি বলেন, 'নলকূপ নষ্ট থাকার বিষয়টি দুদিন আগেই বিএমডিএর প্রকৌশলীকে বলেছিলাম। তিনি ঠিক করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তারপরে আর আপডেট নেওয়া হয়নি।' তাঁর সঙ্গে কথা বলে একটু পরেই ফোন করে তিনি বলেন, 'মেশিন ঠিক হয়েছে। এখন স্থানীয় সমিতির সঙ্গে একটু কাজ বাকি আছে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ