ক্যাটারিংয়ের আড়ালে রেলের টিকিট কালোবাজারি, অপরাধ ঢাকতে এবার সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি
বিশেষ প্রতিবেদক:- বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মান বাড়াতে বেসরকারি খাতে ক্যাটারিং ও অন-বোর্ড সার্ভিস দেওয়া হলেও, সেবার আড়ালে গড়ে উঠেছে এক বিশাল অপরাধ চক্র। রেল মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘কালনী এক্সপ্রেস’ ট্রেনে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সুরুচি ফাস্টফুড অ্যান্ড ক্যাটারারস’-এর বিরুদ্ধে উঠেছে টিকিট কালোবাজারি, আসন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ।
অনুসন্ধানে এই চক্রের অপরাধচক্রের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসায় তা ধামাচাপা দিতে এবার দৈনিক মিডিয়া বাজ পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের বিরুদ্ধে মুগদা থানায় এক মিথ্যা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খাবারের আড়ালে টিকিট বাণিজ্য: ক্যামেরায় অবৈধ লেনদেন সরকারি নিয়মানুযায়ী ক্যাটারিং সার্ভিসের কর্মীদের কাজ যাত্রীদের খাবার সরবরাহ করা হলেও কালনী এক্সপ্রেসে ঘটছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। ‘আড়ালের চোখ’ অনুসন্ধানী টিমের ক্যামেরায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর চিত্র। সুরুচি ফাস্টফুডের কর্মী সাইদুরকে ট্রেনের ভেতরে সরাসরি যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি এবং টাকা হাতিয়ে নিতে দেখা গেছে। ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে টিকিট ও ‘টিটিই (TTE) ম্যানেজ’ করার কথা বলে জনপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি আদায় করেছেন তিনি।
একজন সাধারণ ক্যাটারিং কর্মী কীভাবে টিকিট হাতে পান এবং কার শক্তিতে টিটিই ম্যানেজ করার নামে প্রকাশ্যে এই বাণিজ্য চালান—তা নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অতিরিক্ত বগিতে ডিজিটাল কারসাজি ও আসন বাণিজ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, কালনী এক্সপ্রেসের অতিরিক্ত বগির দায়িত্বে থাকা এটেন্ডেন্ট হারুন আহমেদ টিকিট ছাড়া যাত্রী তুলে মোটা অঙ্কের টাকা পকেটে পুরছেন। অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে প্রতিটি বগিতে ৮-১০ জন করে অবৈধ যাত্রী তোলার বিষয়টি তিনি অনুসন্ধানী টিমের কাছে স্বীকারও করেছেন। শুধু তা-ই নয়, এই চক্রের সদস্যরা স্মার্টফোনে আগে থেকেই ৪-৫টি টিকিট বুক করে রাখে, যা পরবর্তীতে চড়া দামে কালোবাজারি করা হয়।
হারুন ছাড়াও এই সিন্ডিকেটে সক্রিয় রয়েছে মুন্না, সাইদুর ও শাহীনসহ বেশ কয়েকজন কর্মী। এই পার্সেন্টেজ বা কমিশনের বড় একটি অংশ সুরুচি ফাস্টফুডের মালিক আব্দুর রাজ্জাকের পকেটে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চাকরি বাণিজ্য ও ‘লাইন খরচ’ নামের চাঁদাবাজি সুরুচি ফাস্টফুডের ম্যানেজার খাইরুল ইসলাম আকাশের বিরুদ্ধে রয়েছে মারাত্মক সব অভিযোগ। স্টুওয়ার্ড ও স্টাফ পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে প্রাক-প্রার্থীদের কাছ থেকে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই ‘রাজ্জাক-আকাশ’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। আর সেই ঘুষের টাকা তুলতে কর্মচারীরা ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে ‘লাইন খরচ’-এর নামে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারি নিয়ম ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’—পুরোপুরি উপেক্ষিত হচ্ছে।
অপরাধ প্রকাশ্যে আসায় সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি! অনুসন্ধানী টিম এই দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করার পর তা ধামাচাপা দিতে নানাভাবে চেষ্টা চালায় ম্যানেজার আকাশ। তবে এতে সফল না হয়ে এবং নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করে এই সিন্ডিকেট। অপরাধ ধামাচাপা দিতে ও গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে সুরুচি ফাস্টফুড চক্রটি দৈনিক মিডিয়া বাজ পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের বিরুদ্ধে মুগদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছে।
সচেতন মহলের দাবি রাষ্ট্রীয় সেবামূলক খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন চরম অনিয়ম ও হয়রানিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে রেলের মাঠ পর্যায়ের সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সচেতন মহল মনে করছেন, মিথ্যা জিডি বা চক্রান্ত করে মূল অপরাধ আড়াল করা যাবে না। তারা অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা আব্দুর রাজ্জাক, ম্যানেজার আকাশসহ পুরো চক্রের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
ক্যাটারিংয়ের আড়ালে রেলের টিকিট কালোবাজারি, অপরাধ ঢাকতে এবার সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি
বিশেষ প্রতিবেদক:- বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মান বাড়াতে বেসরকারি খাতে ক্যাটারিং ও অন-বোর্ড সার্ভিস দেওয়া হলেও, সেবার আড়ালে গড়ে উঠেছে এক বিশাল অপরাধ চক্র। রেল মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘কালনী এক্সপ্রেস’ ট্রেনে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সুরুচি ফাস্টফুড অ্যান্ড ক্যাটারারস’-এর বিরুদ্ধে উঠেছে টিকিট কালোবাজারি, আসন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ।
অনুসন্ধানে এই চক্রের অপরাধচক্রের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসায় তা ধামাচাপা দিতে এবার দৈনিক মিডিয়া বাজ পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের বিরুদ্ধে মুগদা থানায় এক মিথ্যা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খাবারের আড়ালে টিকিট বাণিজ্য: ক্যামেরায় অবৈধ লেনদেন সরকারি নিয়মানুযায়ী ক্যাটারিং সার্ভিসের কর্মীদের কাজ যাত্রীদের খাবার সরবরাহ করা হলেও কালনী এক্সপ্রেসে ঘটছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। ‘আড়ালের চোখ’ অনুসন্ধানী টিমের ক্যামেরায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর চিত্র। সুরুচি ফাস্টফুডের কর্মী সাইদুরকে ট্রেনের ভেতরে সরাসরি যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি এবং টাকা হাতিয়ে নিতে দেখা গেছে। ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে টিকিট ও ‘টিটিই (TTE) ম্যানেজ’ করার কথা বলে জনপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি আদায় করেছেন তিনি।
একজন সাধারণ ক্যাটারিং কর্মী কীভাবে টিকিট হাতে পান এবং কার শক্তিতে টিটিই ম্যানেজ করার নামে প্রকাশ্যে এই বাণিজ্য চালান—তা নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অতিরিক্ত বগিতে ডিজিটাল কারসাজি ও আসন বাণিজ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, কালনী এক্সপ্রেসের অতিরিক্ত বগির দায়িত্বে থাকা এটেন্ডেন্ট হারুন আহমেদ টিকিট ছাড়া যাত্রী তুলে মোটা অঙ্কের টাকা পকেটে পুরছেন। অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে প্রতিটি বগিতে ৮-১০ জন করে অবৈধ যাত্রী তোলার বিষয়টি তিনি অনুসন্ধানী টিমের কাছে স্বীকারও করেছেন। শুধু তা-ই নয়, এই চক্রের সদস্যরা স্মার্টফোনে আগে থেকেই ৪-৫টি টিকিট বুক করে রাখে, যা পরবর্তীতে চড়া দামে কালোবাজারি করা হয়।
হারুন ছাড়াও এই সিন্ডিকেটে সক্রিয় রয়েছে মুন্না, সাইদুর ও শাহীনসহ বেশ কয়েকজন কর্মী। এই পার্সেন্টেজ বা কমিশনের বড় একটি অংশ সুরুচি ফাস্টফুডের মালিক আব্দুর রাজ্জাকের পকেটে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চাকরি বাণিজ্য ও ‘লাইন খরচ’ নামের চাঁদাবাজি সুরুচি ফাস্টফুডের ম্যানেজার খাইরুল ইসলাম আকাশের বিরুদ্ধে রয়েছে মারাত্মক সব অভিযোগ। স্টুওয়ার্ড ও স্টাফ পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে প্রাক-প্রার্থীদের কাছ থেকে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই ‘রাজ্জাক-আকাশ’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। আর সেই ঘুষের টাকা তুলতে কর্মচারীরা ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে ‘লাইন খরচ’-এর নামে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারি নিয়ম ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’—পুরোপুরি উপেক্ষিত হচ্ছে।
অপরাধ প্রকাশ্যে আসায় সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি! অনুসন্ধানী টিম এই দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করার পর তা ধামাচাপা দিতে নানাভাবে চেষ্টা চালায় ম্যানেজার আকাশ। তবে এতে সফল না হয়ে এবং নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করে এই সিন্ডিকেট। অপরাধ ধামাচাপা দিতে ও গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে সুরুচি ফাস্টফুড চক্রটি দৈনিক মিডিয়া বাজ পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের বিরুদ্ধে মুগদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছে।
সচেতন মহলের দাবি রাষ্ট্রীয় সেবামূলক খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন চরম অনিয়ম ও হয়রানিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে রেলের মাঠ পর্যায়ের সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সচেতন মহল মনে করছেন, মিথ্যা জিডি বা চক্রান্ত করে মূল অপরাধ আড়াল করা যাবে না। তারা অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা আব্দুর রাজ্জাক, ম্যানেজার আকাশসহ পুরো চক্রের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন