পটুয়াখালীতে সফট বাইট ম্যানেজারের মরদেহ উদ্ধার: নেপথ্যে কি কেবলই অর্থ আত্মসাৎ?
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সফট বাইট’-এর শাখা ম্যানেজার ফয়সাল বাদশার মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, অন্যদিকে ম্যানেজারের মৃত্যু ও সহকারীর পলায়ন—সব মিলিয়ে জেলাজুড়ে এখন চাঞ্চল্যকর অবস্থা বিরাজ করছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে পটুয়াখালী পৌর এলাকার সবুজবাগ ১০ নং লেনের একটি ভাড়া বাসা থেকে ফয়সাল বাদশার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তার সহকারী ও রুমমেট নাইমুল ইসলাম চয়ন পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই বাসায় অস্বাভাবিক নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।
সফট বাইট প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সূত্রমতে, সবুজবাগ শাখার ম্যানেজার ফয়সাল বাদশার বিরুদ্ধে প্রায় ৮ লাখ টাকা এবং তার সহকারী নাইমুল ইসলাম চয়নের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। নিয়মিত হিসাব পর্যালোচনার সময় এই অসঙ্গতি ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে এবং আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনেই অর্থ আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মানবিক কারণে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়। তারা মালিকপক্ষের কাছে নিশ্চয়তা হিসেবে চেক ও স্ট্যাম্প জমা দিয়ে কর্মস্থলে বহাল ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে আরও জানা যায়, গত চার মাস ধরে ধাপে ধাপে টাকাগুলো সরিয়েছিলেন সহকারী ম্যানেজার চয়ন। কিস্তিতে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও হঠাৎ করেই তারা দুজনে আত্মগোপনে চলে যান। এরই মধ্যে বুধবার বিকেলে ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ঘটনার পর থেকে চয়নের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, অর্থ আত্মসাতের দায় এবং পরবর্তী আইনি জটিলতা এড়াতেই এই রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উক্ত ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের সাথে এই মৃত্যুর সরাসরি কোনো যোগসূত্র আছে কি না, নাকি এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা—তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পলাতক সহকারী চয়নকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে এই রহস্যের জট খুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পলাতক চয়নের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
পটুয়াখালীতে সফট বাইট ম্যানেজারের মরদেহ উদ্ধার: নেপথ্যে কি কেবলই অর্থ আত্মসাৎ?
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সফট বাইট’-এর শাখা ম্যানেজার ফয়সাল বাদশার মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, অন্যদিকে ম্যানেজারের মৃত্যু ও সহকারীর পলায়ন—সব মিলিয়ে জেলাজুড়ে এখন চাঞ্চল্যকর অবস্থা বিরাজ করছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে পটুয়াখালী পৌর এলাকার সবুজবাগ ১০ নং লেনের একটি ভাড়া বাসা থেকে ফয়সাল বাদশার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তার সহকারী ও রুমমেট নাইমুল ইসলাম চয়ন পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই বাসায় অস্বাভাবিক নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।
সফট বাইট প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সূত্রমতে, সবুজবাগ শাখার ম্যানেজার ফয়সাল বাদশার বিরুদ্ধে প্রায় ৮ লাখ টাকা এবং তার সহকারী নাইমুল ইসলাম চয়নের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। নিয়মিত হিসাব পর্যালোচনার সময় এই অসঙ্গতি ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে এবং আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনেই অর্থ আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মানবিক কারণে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়। তারা মালিকপক্ষের কাছে নিশ্চয়তা হিসেবে চেক ও স্ট্যাম্প জমা দিয়ে কর্মস্থলে বহাল ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে আরও জানা যায়, গত চার মাস ধরে ধাপে ধাপে টাকাগুলো সরিয়েছিলেন সহকারী ম্যানেজার চয়ন। কিস্তিতে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও হঠাৎ করেই তারা দুজনে আত্মগোপনে চলে যান। এরই মধ্যে বুধবার বিকেলে ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ঘটনার পর থেকে চয়নের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, অর্থ আত্মসাতের দায় এবং পরবর্তী আইনি জটিলতা এড়াতেই এই রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উক্ত ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের সাথে এই মৃত্যুর সরাসরি কোনো যোগসূত্র আছে কি না, নাকি এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা—তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পলাতক সহকারী চয়নকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে এই রহস্যের জট খুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পলাতক চয়নের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন