বালাগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন হচ্ছে পশ্চিম গৌরীপুর| এই ইউনিয়নের লোকজন কে এখনও বর্ষায় নায়ে, গ্রীম্মে পায়ে যাতাযাত করতে হয়| ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম থেকে উপজেলা সদর বা সিলেট জেলা সদরে যেতে হলে এখনও নৌকা বা পায়ে হেটে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়| ভালো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারনে ইউনিয়নের মানুষের জীবন মানও অনেকটা পিছিয়ে আছে| অনেক পরিবার স্থায়ী ভাবে সিলেট, ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জে বাসা বাড়ীতে ভাড়া, ক্রয়, ˆতরী করে বসবাস করছেন| সন্তানের লেখাপড়া, বিয়ে বা চাকুরীর জন্য| যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে অনেকেই এই ইউনিয়নে শিক্ষকতা সহ অন্যান্য চাকুরী করতে আগ্রহ হারাচ্ছে|
বালাগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী, একদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা, অন্য দিকে দক্ষিন সুরমা উপজেলা নিকটবর্তী এই পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নটি বালাগঞ্জ উপজেলা অবহেলিত একটি ইউনিয়ন| এখনও নৌকা বা হেটে যেতে হয় ইউনিয়নে অনেক গ্রামে| গাড়ী চলাচলের উপযোগি হয়নি অনেক সড়ক| ইউনিয়নবাসীর মধ্যে এখন ও “গ্রীম্মে পাও আর বর্ষায় নাও” এই অবস্থার বিরাজমান| প্রায় বাড়ীতে নিজ¯^ নৌকা রয়েছে| বর্ষায় স্কুলে ছাত্র ছাত্রীর আসে নৌকা করে| আর গ্রীম্মে পয়ে হেটে|
পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের সড়ক গুলোর মধ্যে দনারাম-আতাসন-পীরের বাজার সড়ক, ওসমানীগঞ্জ বাজার হতে বাংলা বাজার সড়ক, আজিজপুর হতে বাংলা বাজার সড়ক, বাংলাবাজার হতে ˆমশাসী সড়ক, বাংলা বাজার হতে ডলারখাল হয়ে দনারাম সড়ক গুলো পাকা করন প্রয়োজন|
এই সড়ক গুলোর অনেক স্থানে বন্যায় মাঠি ও ইট সরে যাওয়ায় জন দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে| বাংলাবাজার নির্মানাধীন ব্রীজ যেন ইউনিয়ন বাসীর অন্যতম সমস্যা| এ এক আতংকের নাম| ব্রীজের পিলার ˆতরী হলেও ঢালাই না হওয়ায় সাময়িক ভাবে চালাচলের জন্য বাশ দেয়া হয়েছে| প্রায় ৩শত হাত দুরত্ব বাশ দিয়ে চলাচলের সময় পানিতে পরে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে|
বাংলা বাজার ব্রীজ দ্রুত নির্মান কাজ শেষ করন সহ উল্লেখিত সড়ক গুলো দ্রুত পাকা করনের দাবী ইউনিয়নবাসী দীর্ঘদিনের| এলাকাবাসীর পক্ষে গত ১০ জুন ২০২৬ইং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা, সভাপতি, এ এস এম আনোয়ারুল ইসলাম বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সহ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করে পুনরায় দাবী জানিয়েছেন| তিনি জানান বিভিন্ন অফিস সহ সংসদ সদস্য আব্দুল মালেক মহোদয় কে অবগত সহ তাগদা দিয়েছেন| তিনি বলেন ১৯৮৫-২০০০ সালে ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকানি সময়ে রাস্তায় মাঠির কাজ করে যাতাযাত শুরু করি| পরবর্তীতে বন্যা ও বর্ষার পানিতে রাস্তা গুলো নষ্ট হতে থাকে| বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগি এবং ঝুকিপূর্ন|
আতাশন গ্রামের শিক্ষক কাওচার আহমদ জানান আমাদের দুভোর্গের শেষ নেই| সড়কে কাজ হয়, তা দুর্ভল| অল্প সময়ে তা ভেঙ্গে যায়| ফলে ভোগান্তি বাড়ে|
শ্রীনাথপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য দুলা মিয়া জানান ঢলারখালি খালে ব্রীজ না থাকায় ১০টি গ্রামের মানুষ এখনও আধুনিক জীবন যাপন থেকে দুরে| তিনি দ্রুত ব্রীজ নির্মানের দাবী জানান|
বালাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আজমির শরীফুল ইসলাম, জানান ইউনিয়নের সড়ক গুলো নাজুক| উন্নয় কাজ চলছে| তিনি বলেন বাংলা বাজার ব্রীজ বিগত ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য তাকে বাদ দেয়া হয়েছে| নতুন করে ব্রীজ আরো ৩ ফুট উচু করে কাজ শুরুর জন্য নতুন ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে| বাজেট ৩ কোটি টাকা| আশা করা যাচ্ছে আগামী ৬ মাসের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে| আজিজপুর টু বাংলাবাজার সড়কের ৪ শত মিটার আর সি সি কাজ সমাপ্তের পথে| সড়কের বাকী অংশ টাওয়ার ঠিকাদার প্রতিষ্টান কাজ শুরু করেছে| টলারখালি ব্রীজ এবং তার সংযোগ সড়ক ৫ কিলো মিটার পাকা করন এর জন্য ২৫ কোটির টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করার প্রক্রিয়াধিন| ইউনিয়নের অন্যান্য সড়কের সংস্কার কাজ চলমান ও পাকা করনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন| তিনি আরো জানান যে সকল প্রস্তাব প্রেরন করা হয়েছে তাতে ২০২৮ সালের শেষ দিকের মধ্যে গোটা ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হবে|
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কান্তি রায় জানান, অনেক গুলো রাস্তায় মাঠি ও ইট সলিং কাজের জন্য দাবী করা হয়েছে| এ গুলো উপজেলা পরিষদ এবং মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের বরাদ্দ পেলে কাজ করা হবে|
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেরিনা দেবনাথ জানান, আমি নতুন এসেছি, যতটুকু অবগত হয়েছি তাতে মনে হচ্ছে পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়| শ্রীঘ্রই ইউনিয়নটি পরিদর্শন করে, সড়ক উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহন করবো|

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
বালাগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন হচ্ছে পশ্চিম গৌরীপুর| এই ইউনিয়নের লোকজন কে এখনও বর্ষায় নায়ে, গ্রীম্মে পায়ে যাতাযাত করতে হয়| ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম থেকে উপজেলা সদর বা সিলেট জেলা সদরে যেতে হলে এখনও নৌকা বা পায়ে হেটে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়| ভালো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারনে ইউনিয়নের মানুষের জীবন মানও অনেকটা পিছিয়ে আছে| অনেক পরিবার স্থায়ী ভাবে সিলেট, ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জে বাসা বাড়ীতে ভাড়া, ক্রয়, ˆতরী করে বসবাস করছেন| সন্তানের লেখাপড়া, বিয়ে বা চাকুরীর জন্য| যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে অনেকেই এই ইউনিয়নে শিক্ষকতা সহ অন্যান্য চাকুরী করতে আগ্রহ হারাচ্ছে|
বালাগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী, একদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা, অন্য দিকে দক্ষিন সুরমা উপজেলা নিকটবর্তী এই পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নটি বালাগঞ্জ উপজেলা অবহেলিত একটি ইউনিয়ন| এখনও নৌকা বা হেটে যেতে হয় ইউনিয়নে অনেক গ্রামে| গাড়ী চলাচলের উপযোগি হয়নি অনেক সড়ক| ইউনিয়নবাসীর মধ্যে এখন ও “গ্রীম্মে পাও আর বর্ষায় নাও” এই অবস্থার বিরাজমান| প্রায় বাড়ীতে নিজ¯^ নৌকা রয়েছে| বর্ষায় স্কুলে ছাত্র ছাত্রীর আসে নৌকা করে| আর গ্রীম্মে পয়ে হেটে|
পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের সড়ক গুলোর মধ্যে দনারাম-আতাসন-পীরের বাজার সড়ক, ওসমানীগঞ্জ বাজার হতে বাংলা বাজার সড়ক, আজিজপুর হতে বাংলা বাজার সড়ক, বাংলাবাজার হতে ˆমশাসী সড়ক, বাংলা বাজার হতে ডলারখাল হয়ে দনারাম সড়ক গুলো পাকা করন প্রয়োজন|
এই সড়ক গুলোর অনেক স্থানে বন্যায় মাঠি ও ইট সরে যাওয়ায় জন দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে| বাংলাবাজার নির্মানাধীন ব্রীজ যেন ইউনিয়ন বাসীর অন্যতম সমস্যা| এ এক আতংকের নাম| ব্রীজের পিলার ˆতরী হলেও ঢালাই না হওয়ায় সাময়িক ভাবে চালাচলের জন্য বাশ দেয়া হয়েছে| প্রায় ৩শত হাত দুরত্ব বাশ দিয়ে চলাচলের সময় পানিতে পরে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে|
বাংলা বাজার ব্রীজ দ্রুত নির্মান কাজ শেষ করন সহ উল্লেখিত সড়ক গুলো দ্রুত পাকা করনের দাবী ইউনিয়নবাসী দীর্ঘদিনের| এলাকাবাসীর পক্ষে গত ১০ জুন ২০২৬ইং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা, সভাপতি, এ এস এম আনোয়ারুল ইসলাম বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সহ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করে পুনরায় দাবী জানিয়েছেন| তিনি জানান বিভিন্ন অফিস সহ সংসদ সদস্য আব্দুল মালেক মহোদয় কে অবগত সহ তাগদা দিয়েছেন| তিনি বলেন ১৯৮৫-২০০০ সালে ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকানি সময়ে রাস্তায় মাঠির কাজ করে যাতাযাত শুরু করি| পরবর্তীতে বন্যা ও বর্ষার পানিতে রাস্তা গুলো নষ্ট হতে থাকে| বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগি এবং ঝুকিপূর্ন|
আতাশন গ্রামের শিক্ষক কাওচার আহমদ জানান আমাদের দুভোর্গের শেষ নেই| সড়কে কাজ হয়, তা দুর্ভল| অল্প সময়ে তা ভেঙ্গে যায়| ফলে ভোগান্তি বাড়ে|
শ্রীনাথপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য দুলা মিয়া জানান ঢলারখালি খালে ব্রীজ না থাকায় ১০টি গ্রামের মানুষ এখনও আধুনিক জীবন যাপন থেকে দুরে| তিনি দ্রুত ব্রীজ নির্মানের দাবী জানান|
বালাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আজমির শরীফুল ইসলাম, জানান ইউনিয়নের সড়ক গুলো নাজুক| উন্নয় কাজ চলছে| তিনি বলেন বাংলা বাজার ব্রীজ বিগত ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য তাকে বাদ দেয়া হয়েছে| নতুন করে ব্রীজ আরো ৩ ফুট উচু করে কাজ শুরুর জন্য নতুন ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে| বাজেট ৩ কোটি টাকা| আশা করা যাচ্ছে আগামী ৬ মাসের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে| আজিজপুর টু বাংলাবাজার সড়কের ৪ শত মিটার আর সি সি কাজ সমাপ্তের পথে| সড়কের বাকী অংশ টাওয়ার ঠিকাদার প্রতিষ্টান কাজ শুরু করেছে| টলারখালি ব্রীজ এবং তার সংযোগ সড়ক ৫ কিলো মিটার পাকা করন এর জন্য ২৫ কোটির টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করার প্রক্রিয়াধিন| ইউনিয়নের অন্যান্য সড়কের সংস্কার কাজ চলমান ও পাকা করনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন| তিনি আরো জানান যে সকল প্রস্তাব প্রেরন করা হয়েছে তাতে ২০২৮ সালের শেষ দিকের মধ্যে গোটা ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হবে|
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কান্তি রায় জানান, অনেক গুলো রাস্তায় মাঠি ও ইট সলিং কাজের জন্য দাবী করা হয়েছে| এ গুলো উপজেলা পরিষদ এবং মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের বরাদ্দ পেলে কাজ করা হবে|
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেরিনা দেবনাথ জানান, আমি নতুন এসেছি, যতটুকু অবগত হয়েছি তাতে মনে হচ্ছে পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়| শ্রীঘ্রই ইউনিয়নটি পরিদর্শন করে, সড়ক উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহন করবো|

আপনার মতামত লিখুন