দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টাকা নেওয়া ও চিকিৎসক ছাড়াই প্রেসক্রিপশনের অভিযোগ
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ:- পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে এক রোগীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে না দেখিয়েই প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় এক ওয়ার্ডবয়ের নামও অভিযোগে এসেছে।
জানা যায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে সেলাই মেশিনের একটি সুঁই হাতে ঢুকে আহত হন মমতাজ নামে এক নারী। পরে তার স্বামী মানিক তাকে নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান।
ভুক্তভোগী মানিকের অভিযোগ, কর্তব্যরত নার্স দিপু দাস ওয়ার্ডবয় শামসুজ্জামান নাহিদকে দিয়ে তার স্ত্রীর হাত থেকে সুঁইটি বের করান। পরে নার্স দাবি করেন, এক্স-রে করে সুঁই বের করতে গেলে প্রায় এক হাজার টাকা লাগত। যেহেতু সরাসরি সুঁই বের করা হয়েছে, তাই ৫০০ টাকা দিতে হবে। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে তিনি ৩০০ টাকা পরিশোধ করেন। এতে প্রেসক্রিপশনে লেখা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার মতো অর্থও তার কাছে অবশিষ্ট ছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানিক আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসককে না দেখিয়ে নার্স নিজেই অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রেসক্রিপশন লিখে দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্স দিপু দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে ব্যক্তিগতভাবে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো টাকা নেননি; টাকা নিয়েছেন ওয়ার্ডবয়।
অন্যদিকে ওয়ার্ডবয় শামসুজ্জামান নাহিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি শুধু সুঁই বের করার কাজে সহায়তা করেছেন। টাকা নেওয়ার বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. বিমল দেবনাথ হাসপাতালে ভর্তি অন্য এক গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দেখতে দ্বিতীয় তলায় ছিলেন বলে জানা গেছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবু নোমান মো. ইফতেখারুল তৌহিদ জানান, অভিযুক্তকে শোকজ করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. আফরোজ রিনা বলেন, অর্থ গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরিবর্তে প্রেসক্রিপশন লেখা—দুইটিই অনিয়ম। বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টাকা নেওয়া ও চিকিৎসক ছাড়াই প্রেসক্রিপশনের অভিযোগ
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ:- পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে এক রোগীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে না দেখিয়েই প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় এক ওয়ার্ডবয়ের নামও অভিযোগে এসেছে।
জানা যায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে সেলাই মেশিনের একটি সুঁই হাতে ঢুকে আহত হন মমতাজ নামে এক নারী। পরে তার স্বামী মানিক তাকে নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান।
ভুক্তভোগী মানিকের অভিযোগ, কর্তব্যরত নার্স দিপু দাস ওয়ার্ডবয় শামসুজ্জামান নাহিদকে দিয়ে তার স্ত্রীর হাত থেকে সুঁইটি বের করান। পরে নার্স দাবি করেন, এক্স-রে করে সুঁই বের করতে গেলে প্রায় এক হাজার টাকা লাগত। যেহেতু সরাসরি সুঁই বের করা হয়েছে, তাই ৫০০ টাকা দিতে হবে। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে তিনি ৩০০ টাকা পরিশোধ করেন। এতে প্রেসক্রিপশনে লেখা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার মতো অর্থও তার কাছে অবশিষ্ট ছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানিক আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসককে না দেখিয়ে নার্স নিজেই অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রেসক্রিপশন লিখে দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্স দিপু দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে ব্যক্তিগতভাবে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো টাকা নেননি; টাকা নিয়েছেন ওয়ার্ডবয়।
অন্যদিকে ওয়ার্ডবয় শামসুজ্জামান নাহিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি শুধু সুঁই বের করার কাজে সহায়তা করেছেন। টাকা নেওয়ার বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. বিমল দেবনাথ হাসপাতালে ভর্তি অন্য এক গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দেখতে দ্বিতীয় তলায় ছিলেন বলে জানা গেছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আবু নোমান মো. ইফতেখারুল তৌহিদ জানান, অভিযুক্তকে শোকজ করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. আফরোজ রিনা বলেন, অর্থ গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরিবর্তে প্রেসক্রিপশন লেখা—দুইটিই অনিয়ম। বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন