ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পাথালিয়ায় দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতা আমিনুর রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

পাথালিয়ায় দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতা আমিনুর রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

দিনাজপুর বীরগঞ্জে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী হতে চান শারমিন মাহবুব, মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয়।

দিনাজপুর বীরগঞ্জে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী হতে চান শারমিন মাহবুব, মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয়।

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের পাশে এমপি এস এম জাহাঙ্গীর

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের পাশে এমপি এস এম জাহাঙ্গীর

কুমিল্লায় শচীন দেব বর্মনের স্মরণে ইউসুফ স্কুল থেকে শচীন মেলা পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‍্যালি

কুমিল্লায় শচীন দেব বর্মনের স্মরণে ইউসুফ স্কুল থেকে শচীন মেলা পর্যন্ত বর্ণাঢ্য র‍্যালি

হরিরামপুরে নিজ অর্থায়নে স্বেচ্ছায় রাস্তা সংস্কার করলেন মেম্বার পদপ্রার্থী বিল্টু খন্দকার।

হরিরামপুরে নিজ অর্থায়নে স্বেচ্ছায় রাস্তা সংস্কার করলেন মেম্বার পদপ্রার্থী বিল্টু খন্দকার।

জামপুরে জনসংযোগে ব্যস্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন, দিলেন স্বচ্ছতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি

জামপুরে জনসংযোগে ব্যস্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন, দিলেন স্বচ্ছতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি

চবির হীরকজয়ন্তী উদযাপনে  প্রথম রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করলেন সাবেক চবিয়ান এমপি আসলাম চৌধুরী

চবির হীরকজয়ন্তী উদযাপনে প্রথম রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করলেন সাবেক চবিয়ান এমপি আসলাম চৌধুরী

পীরগাছায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজনকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ,৩ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ!

পীরগাছায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ চারজনকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ,৩ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ!

সিজারের চুক্তিতে অদক্ষ নার্স দিয়ে ডেলিভারি শ্রীপুরে মা ও শিশুর জীবন এখন সংকটাপন্ন

সিজারের চুক্তিতে অদক্ষ নার্স দিয়ে ডেলিভারি শ্রীপুরে মা ও শিশুর জীবন এখন সংকটাপন্ন

সিজারের চুক্তিতে অদক্ষ নার্স দিয়ে ডেলিভারি শ্রীপুরে মা ও শিশুর জীবন এখন সংকটাপন্ন

মোঃ খাইরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর:- একটি কোল আলো করে আসা শিশুর প্রথম কান্নার আওয়াজ হওয়ার কথা ছিল একটি পরিবারের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। নতুন খিলখিল হাসিতে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল কাওরাইদ ইউনিয়নের বিদাই গ্রামের একটি সাধারণ ঘর। কিন্তু জৈনা বাজারের ''আনোয়ারা হাসপাতাল'' নামের এক ক্লিনিকের চরম অবহেলা আর ভুল চিকিৎসা সেই আনন্দকে বদলে দিয়েছে বুকফাটা আর্তনাদে। গত ১৪টি দিন ধরে জীবনের শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন প্রসূতি মা সাথী আক্তার, আর তার গর্ভের ধন নিস্পাপ নবজাতকটি এখন হাসপাতালের আইসিইউর যান্ত্রিক চাদরে ঢাকা পড়ে গুনছে মৃত্যুর প্রহর।

​দিনটি ছিল গত ৫ জুলাই। প্রসব বেদনা নিয়ে যখন সাথী আক্তারকে আনোয়ারা হাসপাতালে আনা হয়, তখন পরিবারের চোখে ছিল নতুন অতিথিকে বরণ করার স্বপ্ন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে নিরাপদে সিজারিয়ান অপারেশনের আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম টাকা পকেটে পুরে নেয়। কিন্তু টাকার পেছনে অন্ধ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে ভেতরে ভেতরে এক নির্মম ফাঁদ পেতে রেখেছিল, তা কে জানত!

​অভিযোগ উঠেছে, কোনো বিশেষজ্ঞ সার্জন ছাড়াই, গভীর রাতে কিছু অদক্ষ নার্স আর স্টাফ মিলে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারি করানোর এক পৈশাচিক চেষ্টা চালায়। সেই অদক্ষ হাতের টানাটানিতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় মায়ের প্রসবের রাস্তা। ফিনকি দিয়ে ছুটে আসে রক্ত। আর প্রসবকালীন নির্মম টানাহেঁচড়ার শিকার হয়ে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারাত্মক জখম হয় নিষ্পাপ শিশুটির মাথা ও ঘাড়।

​যখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়, রক্তে ভেসে যায় হাসপাতালের মেঝে, তখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে মুমূর্ষু মা ও শিশুকে তাড়াহুড়ো করে বের করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

​বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা শিশুটি যেন এক নীরব প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে এই সমাজের দিকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শিশুর মাথায় ও ঘাড়ে লাগা আঘাত এতটাই গুরুতর যে, তাদের ফিরিয়ে আনা এখন অলৌকিক কিছু ঘটার মতোই।

​অথচ, যে জাহাঙ্গীর আলমের আনোয়ারা হাসপাতালে এই নির্মমতার জন্ম হলো, তিনি বুক ফুলিয়ে ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন! তার দাবি, এমন কোনো রোগীই নাকি সেখানে যায়নি। একটি লিখিত অভিযোগ হাতে নিয়ে শ্রীপুর মডেল থানার বারান্দায় বারান্দায় ঘুরছেন ভুক্তভোগী প্রসূতির ভাই শাকিল আহমেদ। কিন্তু ১৪ দিন পার হয়ে গেলেও মেলেনি কোনো প্রতিকার, বুক চাপড়ে কাঁদা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছে না এই অসহায় পরিবারটি।

​এলাকাবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এই নামসর্বস্ব ক্লিনিকগুলো আর কত মায়ের কোল খালি করবে।  আর কত শিশুর স্বপ্নকে আইসিইউর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ঠেলে দেবে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন আর শুধু চিকিৎসার খরচ চায় না, তারা চায় এই নির্মমতার দৃষ্টান্তমূলক বিচার যেন আর কোনো মাকে এভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সন্তানের জন্য নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিতে না হয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


সিজারের চুক্তিতে অদক্ষ নার্স দিয়ে ডেলিভারি শ্রীপুরে মা ও শিশুর জীবন এখন সংকটাপন্ন

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

সিজারের চুক্তিতে অদক্ষ নার্স দিয়ে ডেলিভারি শ্রীপুরে মা ও শিশুর জীবন এখন সংকটাপন্ন

মোঃ খাইরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর:- একটি কোল আলো করে আসা শিশুর প্রথম কান্নার আওয়াজ হওয়ার কথা ছিল একটি পরিবারের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। নতুন খিলখিল হাসিতে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল কাওরাইদ ইউনিয়নের বিদাই গ্রামের একটি সাধারণ ঘর। কিন্তু জৈনা বাজারের ''আনোয়ারা হাসপাতাল'' নামের এক ক্লিনিকের চরম অবহেলা আর ভুল চিকিৎসা সেই আনন্দকে বদলে দিয়েছে বুকফাটা আর্তনাদে। গত ১৪টি দিন ধরে জীবনের শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন প্রসূতি মা সাথী আক্তার, আর তার গর্ভের ধন নিস্পাপ নবজাতকটি এখন হাসপাতালের আইসিইউর যান্ত্রিক চাদরে ঢাকা পড়ে গুনছে মৃত্যুর প্রহর।

​দিনটি ছিল গত ৫ জুলাই। প্রসব বেদনা নিয়ে যখন সাথী আক্তারকে আনোয়ারা হাসপাতালে আনা হয়, তখন পরিবারের চোখে ছিল নতুন অতিথিকে বরণ করার স্বপ্ন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে নিরাপদে সিজারিয়ান অপারেশনের আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম টাকা পকেটে পুরে নেয়। কিন্তু টাকার পেছনে অন্ধ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে ভেতরে ভেতরে এক নির্মম ফাঁদ পেতে রেখেছিল, তা কে জানত!

​অভিযোগ উঠেছে, কোনো বিশেষজ্ঞ সার্জন ছাড়াই, গভীর রাতে কিছু অদক্ষ নার্স আর স্টাফ মিলে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারি করানোর এক পৈশাচিক চেষ্টা চালায়। সেই অদক্ষ হাতের টানাটানিতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় মায়ের প্রসবের রাস্তা। ফিনকি দিয়ে ছুটে আসে রক্ত। আর প্রসবকালীন নির্মম টানাহেঁচড়ার শিকার হয়ে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারাত্মক জখম হয় নিষ্পাপ শিশুটির মাথা ও ঘাড়।

​যখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়, রক্তে ভেসে যায় হাসপাতালের মেঝে, তখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে মুমূর্ষু মা ও শিশুকে তাড়াহুড়ো করে বের করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

​বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা শিশুটি যেন এক নীরব প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে এই সমাজের দিকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শিশুর মাথায় ও ঘাড়ে লাগা আঘাত এতটাই গুরুতর যে, তাদের ফিরিয়ে আনা এখন অলৌকিক কিছু ঘটার মতোই।

​অথচ, যে জাহাঙ্গীর আলমের আনোয়ারা হাসপাতালে এই নির্মমতার জন্ম হলো, তিনি বুক ফুলিয়ে ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন! তার দাবি, এমন কোনো রোগীই নাকি সেখানে যায়নি। একটি লিখিত অভিযোগ হাতে নিয়ে শ্রীপুর মডেল থানার বারান্দায় বারান্দায় ঘুরছেন ভুক্তভোগী প্রসূতির ভাই শাকিল আহমেদ। কিন্তু ১৪ দিন পার হয়ে গেলেও মেলেনি কোনো প্রতিকার, বুক চাপড়ে কাঁদা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছে না এই অসহায় পরিবারটি।

​এলাকাবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এই নামসর্বস্ব ক্লিনিকগুলো আর কত মায়ের কোল খালি করবে।  আর কত শিশুর স্বপ্নকে আইসিইউর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ঠেলে দেবে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন আর শুধু চিকিৎসার খরচ চায় না, তারা চায় এই নির্মমতার দৃষ্টান্তমূলক বিচার যেন আর কোনো মাকে এভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সন্তানের জন্য নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিতে না হয়।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ