জেলা পুলিশের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
জাহাঙ্গীর আলমজেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) রাত ৮টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কাজীপাড়া পৌর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আব্দুর রউফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, মাদক প্রতিরোধ কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়; সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এ ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব।
তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং কিশোর অপরাধ রোধে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রতিটি মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদক কারবারিদের কোনো ধরনের আইনগত সহায়তা না দেওয়ার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সমাজে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের পেছনে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সংসদ সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি উদ্যোগে একটি আধুনিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আব্দুর রউফ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তিনি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
তিনি মাদক স্পট, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে গোপন তথ্য পুলিশকে জানাতে সবাইকে উৎসাহিত করেন এবং তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং এবং বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে অভিভাবক ও তরুণদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক নির্মূলে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত করতে তাদের বাসস্থানে লাল চিহ্ন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সমাজে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, পেশাজীবী ও সাংবাদিকরা মাদক নির্মূলে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন র্যাব-৯ সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নূরনবী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাজেদুল হাসান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মোবারক হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ জহিরুল হক খোকন,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ হাফিজুর রহমান মোল্লা (কচি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আতাউল্লাহসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
জেলা পুলিশের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
জাহাঙ্গীর আলমজেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) রাত ৮টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কাজীপাড়া পৌর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আব্দুর রউফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, মাদক প্রতিরোধ কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়; সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই এ ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব।
তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং কিশোর অপরাধ রোধে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রতিটি মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদক কারবারিদের কোনো ধরনের আইনগত সহায়তা না দেওয়ার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সমাজে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের পেছনে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সংসদ সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি উদ্যোগে একটি আধুনিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আব্দুর রউফ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তিনি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
তিনি মাদক স্পট, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে গোপন তথ্য পুলিশকে জানাতে সবাইকে উৎসাহিত করেন এবং তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং এবং বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে অভিভাবক ও তরুণদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক নির্মূলে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত করতে তাদের বাসস্থানে লাল চিহ্ন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সমাজে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, পেশাজীবী ও সাংবাদিকরা মাদক নির্মূলে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন র্যাব-৯ সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নূরনবী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাজেদুল হাসান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মোবারক হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ জহিরুল হক খোকন,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ হাফিজুর রহমান মোল্লা (কচি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আতাউল্লাহসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন