কুড়িগ্রামের চার বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম:- ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে দুটি বিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। কোথাও পরীক্ষার্থী ছিল ১২ জন, কোথাও মাত্র চারজন। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাওয়াকে ফল খারাপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
বিদ্যালয়গুলো হলো রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এবার কুড়িগ্রাম জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন।
রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি জুনিয়র পর্যায় পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। পরে ২০১২ সালে নবম ও দশম শ্রেণির পাঠদান পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি। এবার প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়টি থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাঁদের কেউ পাস করতে পারেনি।
বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। আগামী এসএসসি পরীক্ষার জন্য নবম শ্রেণির প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক ও জমিদাতা অজয় কুমার সরকার বলেন, মেয়েদের বাল্যবিবাহ এবং ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। এ ছাড়া উপজেলা শহর থেকে বিদ্যালয়টি প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। ভালো শিক্ষার্থীদের অনেকে শহরের বিদ্যালয়ে চলে যায়। ফলে বিদ্যালয়ে ভালো শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম ছিল।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ২০২২ সালে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১২৫ জন এবং শিক্ষক নয়জন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের একজনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। বাকি চারজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু কেউ পাস করেনি। নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক থাকলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। আগামীতে ফল ভালো করার চেষ্টা করা হবে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। ২০১২ সালে বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৬ জন। এবার বিদ্যালয়টি থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাঁদের কেউ পাস করতে পারেনি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও এবার কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি।
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
কুড়িগ্রামের চার বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম:- ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে দুটি বিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। কোথাও পরীক্ষার্থী ছিল ১২ জন, কোথাও মাত্র চারজন। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাওয়াকে ফল খারাপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
বিদ্যালয়গুলো হলো রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এবার কুড়িগ্রাম জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন।
রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি জুনিয়র পর্যায় পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়। পরে ২০১২ সালে নবম ও দশম শ্রেণির পাঠদান পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি। এবার প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়টি থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাঁদের কেউ পাস করতে পারেনি।
বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। আগামী এসএসসি পরীক্ষার জন্য নবম শ্রেণির প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক ও জমিদাতা অজয় কুমার সরকার বলেন, মেয়েদের বাল্যবিবাহ এবং ছেলেদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। এ ছাড়া উপজেলা শহর থেকে বিদ্যালয়টি প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। ভালো শিক্ষার্থীদের অনেকে শহরের বিদ্যালয়ে চলে যায়। ফলে বিদ্যালয়ে ভালো শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম ছিল।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ২০২২ সালে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১২৫ জন এবং শিক্ষক নয়জন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের একজনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। বাকি চারজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু কেউ পাস করেনি। নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক থাকলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। আগামীতে ফল ভালো করার চেষ্টা করা হবে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। ২০১২ সালে বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৬ জন। এবার বিদ্যালয়টি থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাঁদের কেউ পাস করতে পারেনি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও এবার কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি।
কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন