ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সরিষাবাড়ীতে সরকারি ম্যাপভুক্ত রাস্তা বন্ধ করায় ১৭ দিন যাবৎ বৃদ্ধা ও শিশু গৃহবন্দী

সরিষাবাড়ীতে সরকারি ম্যাপভুক্ত রাস্তা বন্ধ করায় ১৭ দিন যাবৎ বৃদ্ধা ও শিশু গৃহবন্দী

সরিষাবাড়ীতে সরকারি ম্যাপভুক্ত রাস্তা বন্ধ করায় ১৭ দিন যাবৎ বৃদ্ধা ও শিশু গৃহবন্দী 

সরিষাবাড়ী (জামালপুর ) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত ম্যাপের রাস্তা বন্ধ করে এক অসহায় বৃদ্ধা ও তাঁর ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত নাতনিকে টানা ১৭ দিন ধরে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বরবাড়ীয়া কাজী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী বৃদ্ধা হলেন বড়বাড়ীয়া গ্রামের মৃত মুস্তানছির বিল্লাহ আনোয়ারী (মুস্তান কাজী)-এর স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী (৭৮)। তাঁর সঙ্গে গৃহবন্দী হয়ে রয়েছে তাঁর নাতনি হুমায়রা আনোয়ারী (১২)।

মনোয়ারা চৌধুরী জানান, প্রায় তিন বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। ছেলে-মেয়েরা উচ্চশিক্ষিত হয়ে দেশ-বিদেশে চাকরি করায় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য থাকেন না। বর্তমানে তিনি ও তাঁর নাতনি ছাড়া বাড়িতে আর কেউ থাকেন না। এ সুযোগে বাড়ির দক্ষিণ পাশের প্রতিবেশী মৃত শহিদের ছেলে সবুজ মিয়া তাঁদের বাড়ির ওপর দিয়ে নিজেদের সুবিধামতো যাতায়াতের রাস্তা দাবি করেন।

তিনি বলেন, "আমি তাদের দাবি অনুযায়ী রাস্তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সবুজ মিয়া, পূর্ব পাশের করিমের ছেলে তাজ এবং উত্তর পাশের গনি মণ্ডলের ছেলে লেবুকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সরকারি ম্যাপভুক্ত রাস্তায় টিন ও ইটের দেয়াল তুলে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আমার নাতনি স্কুলে যেতে পারছে না। বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি হাড়ের রোগে আক্রান্ত। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সংগ্রহ করতে পারছি না। আমি প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে এ অন্যায়ের বিচার এবং আমাদের উদ্ধারের আবেদন জানাচ্ছি।"

দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে স্কুলে যেতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়রা আনোয়ারী। সে জানায়, সামনে পরীক্ষা থাকলেও সে স্কুলে যেতে পারছে না। স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হলেই প্রতিবেশীরা তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। অন্য শিশুদের মতো নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানিয়েছে সে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে দুই দফা সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মিস্টার বলেন, "যা করা হচ্ছে তা অত্যন্ত অমানবিক, অসামাজিক ও অন্যায়। জোরপূর্বক কাউকে গৃহবন্দী করে বা চাপ সৃষ্টি করে কোনো দাবি আদায় করা আইনসম্মত নয়।" তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযুক্ত সবুজ মিয়া অভিযোগের বিষয়ে বলেন, "আমাদের যাতায়াতের পুরোনো রাস্তাটি চাই। তাঁকে সাময়িকভাবে চারদিক থেকে আটকে রাখা হয়েছে। রাস্তা ছেড়ে দিলেই সব খুলে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, "এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


সরিষাবাড়ীতে সরকারি ম্যাপভুক্ত রাস্তা বন্ধ করায় ১৭ দিন যাবৎ বৃদ্ধা ও শিশু গৃহবন্দী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

সরিষাবাড়ীতে সরকারি ম্যাপভুক্ত রাস্তা বন্ধ করায় ১৭ দিন যাবৎ বৃদ্ধা ও শিশু গৃহবন্দী 

সরিষাবাড়ী (জামালপুর ) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত ম্যাপের রাস্তা বন্ধ করে এক অসহায় বৃদ্ধা ও তাঁর ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত নাতনিকে টানা ১৭ দিন ধরে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের বীর বরবাড়ীয়া কাজী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী বৃদ্ধা হলেন বড়বাড়ীয়া গ্রামের মৃত মুস্তানছির বিল্লাহ আনোয়ারী (মুস্তান কাজী)-এর স্ত্রী মনোয়ারা চৌধুরী (৭৮)। তাঁর সঙ্গে গৃহবন্দী হয়ে রয়েছে তাঁর নাতনি হুমায়রা আনোয়ারী (১২)।

মনোয়ারা চৌধুরী জানান, প্রায় তিন বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। ছেলে-মেয়েরা উচ্চশিক্ষিত হয়ে দেশ-বিদেশে চাকরি করায় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য থাকেন না। বর্তমানে তিনি ও তাঁর নাতনি ছাড়া বাড়িতে আর কেউ থাকেন না। এ সুযোগে বাড়ির দক্ষিণ পাশের প্রতিবেশী মৃত শহিদের ছেলে সবুজ মিয়া তাঁদের বাড়ির ওপর দিয়ে নিজেদের সুবিধামতো যাতায়াতের রাস্তা দাবি করেন।

তিনি বলেন, "আমি তাদের দাবি অনুযায়ী রাস্তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সবুজ মিয়া, পূর্ব পাশের করিমের ছেলে তাজ এবং উত্তর পাশের গনি মণ্ডলের ছেলে লেবুকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সরকারি ম্যাপভুক্ত রাস্তায় টিন ও ইটের দেয়াল তুলে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আমার নাতনি স্কুলে যেতে পারছে না। বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি হাড়ের রোগে আক্রান্ত। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সংগ্রহ করতে পারছি না। আমি প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে এ অন্যায়ের বিচার এবং আমাদের উদ্ধারের আবেদন জানাচ্ছি।"

দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে স্কুলে যেতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়রা আনোয়ারী। সে জানায়, সামনে পরীক্ষা থাকলেও সে স্কুলে যেতে পারছে না। স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হলেই প্রতিবেশীরা তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। অন্য শিশুদের মতো নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানিয়েছে সে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে দুই দফা সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মিস্টার বলেন, "যা করা হচ্ছে তা অত্যন্ত অমানবিক, অসামাজিক ও অন্যায়। জোরপূর্বক কাউকে গৃহবন্দী করে বা চাপ সৃষ্টি করে কোনো দাবি আদায় করা আইনসম্মত নয়।" তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযুক্ত সবুজ মিয়া অভিযোগের বিষয়ে বলেন, "আমাদের যাতায়াতের পুরোনো রাস্তাটি চাই। তাঁকে সাময়িকভাবে চারদিক থেকে আটকে রাখা হয়েছে। রাস্তা ছেড়ে দিলেই সব খুলে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, "এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ