সরিষাবাড়ীতে এসএসসি-সমমানে ফল বিপর্যয় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৪৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ২২টি মাদ্রাসায় ৪১ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং ১৭টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৭৪ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ৪৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার ৯৯১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৪ জন পাস এবং ১ হাজার ৭৩৭ জন ফেল করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৭ জন। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, ২২টি মাদ্রাসা থেকে ৬০৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৫২ জন। ফেল করেছে ৩৫৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে দুইজন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে কারিগরি শিক্ষার্থীরা। উপজেলার ১৭টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৯৭ জন পাস করেছে। ফেল করেছে ১৩৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ জন। পাসের হার ৭৪ দশমিক ২১ শতাংশ।
ফলাফলে সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে তিনটি প্রতিষ্ঠানে। চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১১ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। একইভাবে চর সরিষাবাড়ী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ৯ জন এবং বড়বাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। পাটাবুগা দাখিল মাদ্রাসায় ১৪ জনের মধ্যে মাত্র একজন পাস করে। পাসের হার ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। দৌলতপুর ফাজিল মাদ্রাসায় ৪৯ জনের মধ্যে ৫ জন পাস করে। পাসের হার ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। আদ্রা আব্দুর গফুর জয়নাল আবেদীন আলিম মাদ্রাসায় ২২ জনের মধ্যে ৩ জন পাস করে। পাসের হার ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ , এবং মহিষাবাদুরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৭ জনের মধ্যে ৩ জন পাস করে । পাসের হার ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাঁশবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২ জনের মধ্যে ৭ জন পাস করে । পাসের হার ১৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। কুঠিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ জনের মধ্যে ১১ জন পাস করে। পাসের হার ১৯ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং পোগলদিঘা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ জনের মধ্যে ১১ জন পাস করে । পাসের হার ২২ শতাংশ।
সার্বিক ফলাফলে কারিগরি শিক্ষায় তুলনামূলক সাফল্য থাকলেও মাধ্যমিক ও বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষায় নিম্ন পাসের হার নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, কম পাসের হার এবং কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
সরিষাবাড়ীতে এসএসসি-সমমানে ফল বিপর্যয় তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৪৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ২২টি মাদ্রাসায় ৪১ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং ১৭টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৭৪ দশমিক ২১ শতাংশ। তবে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ৪৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার ৯৯১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৪ জন পাস এবং ১ হাজার ৭৩৭ জন ফেল করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৭ জন। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, ২২টি মাদ্রাসা থেকে ৬০৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৫২ জন। ফেল করেছে ৩৫৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে দুইজন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে কারিগরি শিক্ষার্থীরা। উপজেলার ১৭টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৯৭ জন পাস করেছে। ফেল করেছে ১৩৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ জন। পাসের হার ৭৪ দশমিক ২১ শতাংশ।
ফলাফলে সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে তিনটি প্রতিষ্ঠানে। চাপারকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১১ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। একইভাবে চর সরিষাবাড়ী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ৯ জন এবং বড়বাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। পাটাবুগা দাখিল মাদ্রাসায় ১৪ জনের মধ্যে মাত্র একজন পাস করে। পাসের হার ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। দৌলতপুর ফাজিল মাদ্রাসায় ৪৯ জনের মধ্যে ৫ জন পাস করে। পাসের হার ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। আদ্রা আব্দুর গফুর জয়নাল আবেদীন আলিম মাদ্রাসায় ২২ জনের মধ্যে ৩ জন পাস করে। পাসের হার ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ , এবং মহিষাবাদুরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৭ জনের মধ্যে ৩ জন পাস করে । পাসের হার ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাঁশবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২ জনের মধ্যে ৭ জন পাস করে । পাসের হার ১৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। কুঠিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৭ জনের মধ্যে ১১ জন পাস করে। পাসের হার ১৯ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং পোগলদিঘা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ জনের মধ্যে ১১ জন পাস করে । পাসের হার ২২ শতাংশ।
সার্বিক ফলাফলে কারিগরি শিক্ষায় তুলনামূলক সাফল্য থাকলেও মাধ্যমিক ও বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষায় নিম্ন পাসের হার নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, কম পাসের হার এবং কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন