ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় হিলাল উদ্দিন শিপু

সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় হিলাল উদ্দিন শিপু

সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় হিলাল উদ্দিন শিপু

ফয়ছল আহমদ নুমান:- দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অপেক্ষায় থাকা সিলেট জেলা ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও হিলাল উদ্দিন শিপুকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর অনুসারীরা।

বর্তমানে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা শিপু ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা জানিয়েছেন। অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের রাজনৈতিক বলয়ের মাধ্যমে তাঁর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়তা শুরু হয় বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, স্কুলজীবনেই বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার কয়েকদিন আগে হামলায় তাঁর এক হাত ভেঙে যায় বলেও তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ওই অবস্থায় চিকিৎসা ও প্লাস্টার নিয়েই তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন বলে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানান।

২০১২ সালে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিপুর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন, হরতাল, অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও তাঁকে মাঠে দেখা গেছে বলে তারা দাবি করেন।

উচ্চশিক্ষার সময়ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন শিপু। মদন মোহন কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করার পর তিনি সিলেট ল’ কলেজে ভর্তি হন। সেখানে ছাত্রদলের কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা।

ল’ কলেজে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলেও তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শিপুর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

২০২৩ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও শিপু সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর অনুসারীদের দাবি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও হামলার মুখে পড়েন এবং কয়েকবার আহত হন।

৫ আগস্টের পরও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন শিপু। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচির বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার চালানোর পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া সিলেট-৪ আসনের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও শিপুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে নিজের প্রত্যাশার বিষয়ে হিলাল উদ্দিন শিপু বলেন, ব্যক্তিগত পদ-পদবির আকাঙ্ক্ষা থেকে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে আসেননি। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের নেতৃত্ব তাঁর অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা ও ত্যাগ বিবেচনা করে দায়িত্ব দিলে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে কাজ করবেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার বিষয়কে তিনি গুরুত্ব দিতে চান।

এদিকে শিপুর সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় মামলা, হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাঠে ছিলেন। এ কারণেই জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁর নাম নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত সিলেট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে কারা স্থান পাচ্ছেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—সেটি নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তের ওপর। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় হিলাল উদ্দিন শিপু

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় হিলাল উদ্দিন শিপু

ফয়ছল আহমদ নুমান:- দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অপেক্ষায় থাকা সিলেট জেলা ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও হিলাল উদ্দিন শিপুকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর অনুসারীরা।

বর্তমানে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা শিপু ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা জানিয়েছেন। অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের রাজনৈতিক বলয়ের মাধ্যমে তাঁর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়তা শুরু হয় বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, স্কুলজীবনেই বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার কয়েকদিন আগে হামলায় তাঁর এক হাত ভেঙে যায় বলেও তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ওই অবস্থায় চিকিৎসা ও প্লাস্টার নিয়েই তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন বলে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানান।

২০১২ সালে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিপুর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন, হরতাল, অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও তাঁকে মাঠে দেখা গেছে বলে তারা দাবি করেন।

উচ্চশিক্ষার সময়ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন শিপু। মদন মোহন কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করার পর তিনি সিলেট ল’ কলেজে ভর্তি হন। সেখানে ছাত্রদলের কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা।

ল’ কলেজে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলেও তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শিপুর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

২০২৩ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও শিপু সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর অনুসারীদের দাবি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও হামলার মুখে পড়েন এবং কয়েকবার আহত হন।

৫ আগস্টের পরও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন শিপু। বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচির বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার চালানোর পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া সিলেট-৪ আসনের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও শিপুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে নিজের প্রত্যাশার বিষয়ে হিলাল উদ্দিন শিপু বলেন, ব্যক্তিগত পদ-পদবির আকাঙ্ক্ষা থেকে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে আসেননি। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের নেতৃত্ব তাঁর অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা ও ত্যাগ বিবেচনা করে দায়িত্ব দিলে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে কাজ করবেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার বিষয়কে তিনি গুরুত্ব দিতে চান।

এদিকে শিপুর সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় মামলা, হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাঠে ছিলেন। এ কারণেই জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁর নাম নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত সিলেট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে কারা স্থান পাচ্ছেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—সেটি নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্তের ওপর। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ