মদনে বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয়ে চার ক্লাবের উদ্বোধন
শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে নতুন উদ্যোগ
মোঃ রাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:- শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে নেত্রকোণার মদন উপজেলার বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি ক্লাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। ক্লাবগুলো হলো ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব ও কালচারাল ক্লাব।
১৪ অক্টোবর সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল বারী, মদন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালাহউদ্দীন করিম এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জোসনা বেগম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শফিউল হক তালুকদার (কিরণ)। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।
সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বারোপ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন কিংবা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, যোগাযোগদক্ষতা ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যালয়ে চারটি ক্লাব চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞান অর্জন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল বারী শিক্ষার মানোন্নয়নে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভাষা, বিতর্ক, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। ক্লাবগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও যোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালাহউদ্দীন করিম শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্যতা বিকাশে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জোসনা বেগম শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু মনোভাব, সৃজনশীলতা ও বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে ক্লাবগুলোর ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।
চার ক্লাবে বিকশিত হবে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা অনুষ্ঠানের সভাপতি বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শফিউল হক তালুকদার (কিরণ) শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ক্লাবগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কালচারাল ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা, আবৃত্তি, নাচ ও নাট্যচর্চার সুযোগ পাবে। ডিবেট ক্লাব যুক্তিনির্ভর চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও শুদ্ধভাবে মত প্রকাশের সক্ষমতা বাড়াবে। ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় দক্ষতা এবং যোগাযোগের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, বিজ্ঞান ক্লাব শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও নিজেদের প্রতিভা বিকাশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, চারটি ক্লাবের কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হলে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলাফল অর্জনেই নয়, বরং সৃজনশীল, যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ক্লাবগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
মদনে বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয়ে চার ক্লাবের উদ্বোধন
শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে নতুন উদ্যোগ
মোঃ রাসেল আহমেদ মদন (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:- শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে নেত্রকোণার মদন উপজেলার বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি ক্লাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। ক্লাবগুলো হলো ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব ও কালচারাল ক্লাব।
১৪ অক্টোবর সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল বারী, মদন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালাহউদ্দীন করিম এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জোসনা বেগম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শফিউল হক তালুকদার (কিরণ)। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।
সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বারোপ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন কিংবা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, যোগাযোগদক্ষতা ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যালয়ে চারটি ক্লাব চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞান অর্জন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল বারী শিক্ষার মানোন্নয়নে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভাষা, বিতর্ক, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। ক্লাবগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও যোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালাহউদ্দীন করিম শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বিদ্যালয়ের সুনাম ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্যতা বিকাশে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জোসনা বেগম শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু মনোভাব, সৃজনশীলতা ও বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে ক্লাবগুলোর ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।
চার ক্লাবে বিকশিত হবে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা অনুষ্ঠানের সভাপতি বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শফিউল হক তালুকদার (কিরণ) শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ক্লাবগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কালচারাল ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা, আবৃত্তি, নাচ ও নাট্যচর্চার সুযোগ পাবে। ডিবেট ক্লাব যুক্তিনির্ভর চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও শুদ্ধভাবে মত প্রকাশের সক্ষমতা বাড়াবে। ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় দক্ষতা এবং যোগাযোগের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, বিজ্ঞান ক্লাব শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও নিজেদের প্রতিভা বিকাশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, চারটি ক্লাবের কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হলে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলাফল অর্জনেই নয়, বরং সৃজনশীল, যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ক্লাবগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

আপনার মতামত লিখুন