বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: দুপক্ষের হট্টগোলের মধ্যেই উধাও সব ব্যালট
রিপোর্টার: মোনতাহেরুল হক আমিন : বাঁশখালী প্রতিনিধি। চট্টগ্রামের বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির (২০২৬-২৭) কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দিনভর নানা নাটকীয়তা ও দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধস্তাধস্তি এবং তিন ঘন্টা ভোট বন্ধ থাকার পর ভোটের ফলাফল স্থগিত করেছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার। একই সঙ্গে ভোট শেষে আইনজীবীদের মাঝে হট্টগোলের মধ্যেই ভোটকক্ষ থেকে ভোটের সব ব্যালট উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১২টায় বাঁশখালী কোর্টের আইনজীবী সমিতির অফিসে কার্যকরী কমিটির ১২টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ ১০টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ১০ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এ সময় ভোট চলাকালীন আইনজীবীদের একটি পক্ষ ভোট বর্জন ও আগের সব ফলাফল বাতিল চেয়ে হট্টগোল শুরু করলে ঘন্টাখানেক পর ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১২টার দিকে নির্ধারিত সময়ে সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ ভাবে শুরু হয়। পরবর্তী দুপুর ১টার সময় আইনজীবীদের একটি পক্ষ ভোট বর্জন ও আগের সব ফলাফল বাতিল চেয়ে পুনঃতফসিল চেয়ে ভোট কক্ষের সামনে হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও ভোট বর্জন করে হট্টগোল ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট তিন নির্বাচন কমিশনার ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে ভোট কক্ষের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেন এবং ভোট কক্ষে অবরুদ্ধ থাকেন। পরে আইনজীবীদের দু'পক্ষের মধ্যে কয়েকদফা হট্টগোল, ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার প্রথমে ভোট স্থগিত, নিজেদের পদত্যাগের ঘোষণা এবং সর্বশেষ নির্বাচনের ফলাফল স্থগিতের ঘোষণা দেন।
এ সময় ভোটগ্রহণ শেষের নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট পরে ভোটকক্ষ থেকে খালি হাতে বের হন সংশ্লিষ্ট তিন নির্বাচন কমিশনার। তাঁরা বের হলে আইনজীবীদের একটি পক্ষ মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে পুরো ভোটকক্ষ তল্লাশি করেও একটি ব্যালটও পাননি। এ সময় কোর্টে উপস্থিত সকলে বিস্ময় করেন। পরে উপস্থিত অনেকে জানান, ভোট গ্রহণ শেষে ব্যালটগুলো একটি ফাইল করে জানালার পাশে থাকা একজন সিনিয়র আইনজীবীর হাতে দিলে তিনি সেই ব্যালট পেপারের ফাইল নিয়ে দ্রুত ভোট কক্ষের সামনে থেকে সটকে পড়েন।
এদিকে ভোটগ্রহন বন্ধ থাকার সময় ভোটকক্ষে অবরুদ্ধ থাকা এক নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলে। পরে আইনজীবীদের দু'পক্ষের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হলে একটি পক্ষ নির্বাচন কমিশনারদের লাঞ্ছিত করলে আমরা ভোট কক্ষের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দিয়ে ভিতরে অবস্থান নিই। তাঁরা কয়েকদফা দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ভোট গ্রহণ হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষে ভোটকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় নির্বাচন কমিশনারের কাছে ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কিছু না বলে দ্রুত ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করেন তারা। পরে মুঠোফোনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীল প্রতিবেদককে বলেন, 'নির্বাচনে দুটি পদে দেড় ঘন্টা ভোটগ্রহণ হয়েছে। পরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হওয়ার কারণে আমরা ফলাফল ঘোষণা করতে পারিনি। তাই ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট তকছিমুল গণী ইমন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, মব সৃষ্টি পরিকল্পিতভাবে আমার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেট করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতার নামে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। আজকে আইনজীবীরা সেই জোরপূর্বক ভোটবর্জন করেছেন। তারা উপায় না পেয়ে ভোট বন্ধ রেখে ভোটকক্ষ থেকে চুরি করে ব্যালট পেপার নিয়ে চলে গেছে। সব আইনজীবীরা এই প্রহসনের ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমরা পুনঃতফসিল ঘোষণা করে সবাইকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে ভোটগ্রহণ শেষে আদালত ভবনের সামনে প্রধান সড়কে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মাঝে ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে পুলিশ এসে দু'পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরআগে আইনজীবীদের দু'পক্ষের হট্টগোলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আদালত ভবনের মূল ফটকে অবস্থান নেন।'

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: দুপক্ষের হট্টগোলের মধ্যেই উধাও সব ব্যালট
রিপোর্টার: মোনতাহেরুল হক আমিন : বাঁশখালী প্রতিনিধি। চট্টগ্রামের বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির (২০২৬-২৭) কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দিনভর নানা নাটকীয়তা ও দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধস্তাধস্তি এবং তিন ঘন্টা ভোট বন্ধ থাকার পর ভোটের ফলাফল স্থগিত করেছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার। একই সঙ্গে ভোট শেষে আইনজীবীদের মাঝে হট্টগোলের মধ্যেই ভোটকক্ষ থেকে ভোটের সব ব্যালট উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১২টায় বাঁশখালী কোর্টের আইনজীবী সমিতির অফিসে কার্যকরী কমিটির ১২টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ ১০টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ১০ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এ সময় ভোট চলাকালীন আইনজীবীদের একটি পক্ষ ভোট বর্জন ও আগের সব ফলাফল বাতিল চেয়ে হট্টগোল শুরু করলে ঘন্টাখানেক পর ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১২টার দিকে নির্ধারিত সময়ে সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ ভাবে শুরু হয়। পরবর্তী দুপুর ১টার সময় আইনজীবীদের একটি পক্ষ ভোট বর্জন ও আগের সব ফলাফল বাতিল চেয়ে পুনঃতফসিল চেয়ে ভোট কক্ষের সামনে হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও ভোট বর্জন করে হট্টগোল ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট তিন নির্বাচন কমিশনার ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে ভোট কক্ষের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেন এবং ভোট কক্ষে অবরুদ্ধ থাকেন। পরে আইনজীবীদের দু'পক্ষের মধ্যে কয়েকদফা হট্টগোল, ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার প্রথমে ভোট স্থগিত, নিজেদের পদত্যাগের ঘোষণা এবং সর্বশেষ নির্বাচনের ফলাফল স্থগিতের ঘোষণা দেন।
এ সময় ভোটগ্রহণ শেষের নির্ধারিত সময়ের ২০ মিনিট পরে ভোটকক্ষ থেকে খালি হাতে বের হন সংশ্লিষ্ট তিন নির্বাচন কমিশনার। তাঁরা বের হলে আইনজীবীদের একটি পক্ষ মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে পুরো ভোটকক্ষ তল্লাশি করেও একটি ব্যালটও পাননি। এ সময় কোর্টে উপস্থিত সকলে বিস্ময় করেন। পরে উপস্থিত অনেকে জানান, ভোট গ্রহণ শেষে ব্যালটগুলো একটি ফাইল করে জানালার পাশে থাকা একজন সিনিয়র আইনজীবীর হাতে দিলে তিনি সেই ব্যালট পেপারের ফাইল নিয়ে দ্রুত ভোট কক্ষের সামনে থেকে সটকে পড়েন।
এদিকে ভোটগ্রহন বন্ধ থাকার সময় ভোটকক্ষে অবরুদ্ধ থাকা এক নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলে। পরে আইনজীবীদের দু'পক্ষের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হলে একটি পক্ষ নির্বাচন কমিশনারদের লাঞ্ছিত করলে আমরা ভোট কক্ষের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দিয়ে ভিতরে অবস্থান নিই। তাঁরা কয়েকদফা দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ভোট গ্রহণ হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষে ভোটকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় নির্বাচন কমিশনারের কাছে ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কিছু না বলে দ্রুত ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করেন তারা। পরে মুঠোফোনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীল প্রতিবেদককে বলেন, 'নির্বাচনে দুটি পদে দেড় ঘন্টা ভোটগ্রহণ হয়েছে। পরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হওয়ার কারণে আমরা ফলাফল ঘোষণা করতে পারিনি। তাই ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট তকছিমুল গণী ইমন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, মব সৃষ্টি পরিকল্পিতভাবে আমার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেট করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতার নামে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। আজকে আইনজীবীরা সেই জোরপূর্বক ভোটবর্জন করেছেন। তারা উপায় না পেয়ে ভোট বন্ধ রেখে ভোটকক্ষ থেকে চুরি করে ব্যালট পেপার নিয়ে চলে গেছে। সব আইনজীবীরা এই প্রহসনের ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমরা পুনঃতফসিল ঘোষণা করে সবাইকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে ভোটগ্রহণ শেষে আদালত ভবনের সামনে প্রধান সড়কে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মাঝে ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে পুলিশ এসে দু'পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরআগে আইনজীবীদের দু'পক্ষের হট্টগোলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আদালত ভবনের মূল ফটকে অবস্থান নেন।'

আপনার মতামত লিখুন