ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

নিজের বসতভিটার ভাঙন ঠেকাতে ৮০ বছরের বৃদ্ধের একার লড়াই।

নিজের বসতভিটার ভাঙন ঠেকাতে ৮০ বছরের বৃদ্ধের একার লড়াই।

নিজের বসতভিটার ভাঙন ঠেকাতে ৮০ বছরের বৃদ্ধের একার লড়াই।

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ- কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর ভাঙন থেকে নিজের শেষ আশ্রয় রক্ষায় একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ৮০ বছর বয়সী নুরুজ্জামান মিয়া। বারবার নদীভাঙনে পৈত্রিক সম্পত্তি হারিয়ে বর্তমানে সামান্য জমিতে বসবাস করলেও সেইটুকুও হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তার।

জানা যায়, তিস্তার ভাঙনে আগেই সর্বস্ব হারান নুরুজ্জামান। পরবর্তীতে মাত্র সাড়ে ৭ শতক জমিতে বসতভিটা গড়ে তুললেও গত বছরের ভাঙনে তার প্রায় ৫ শতক জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে অবশিষ্ট অল্প জমিতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

নিজ বাড়ির সামনে ছোট একটি চা-বিস্কুটের দোকানই তার একমাত্র আয়ের উৎস। আসন্ন বর্ষা ও উজানের ঢলের আশঙ্কায় আবারও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে তার বসতভিটা। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্লাস্টিকের বস্তায় বালু ভরে নদীর তীরে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। প্রতিবেশীদের সহায়তায় ইতোমধ্যে শতাধিক বস্তা বসানো হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার এলাকায় পিয়ারি দাখিল মাদ্রাসার পাশে গিয়ে দেখা যায়, নিজের হাতে বালুর বস্তা সাজিয়ে ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করছেন এই বৃদ্ধ।

নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, “তিস্তার ভাঙনে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। এ বয়সে অনেক কষ্ট হয়, তবু শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর চেষ্টা করছি। সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো বসতভিটা রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও জানান, তার ২ মেয়ে ও ৪ ছেলে থাকলেও বসতভিটা না থাকায় তারা বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছেন। তিনি ও তার স্ত্রী এখন তিস্তার পাড়েই জীবনের শেষ আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় তিস্তার ভাঙনে নুরুজ্জামানের শেষ আশ্রয়টুকুও বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


নিজের বসতভিটার ভাঙন ঠেকাতে ৮০ বছরের বৃদ্ধের একার লড়াই।

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নিজের বসতভিটার ভাঙন ঠেকাতে ৮০ বছরের বৃদ্ধের একার লড়াই।

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ- কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর ভাঙন থেকে নিজের শেষ আশ্রয় রক্ষায় একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ৮০ বছর বয়সী নুরুজ্জামান মিয়া। বারবার নদীভাঙনে পৈত্রিক সম্পত্তি হারিয়ে বর্তমানে সামান্য জমিতে বসবাস করলেও সেইটুকুও হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তার।

জানা যায়, তিস্তার ভাঙনে আগেই সর্বস্ব হারান নুরুজ্জামান। পরবর্তীতে মাত্র সাড়ে ৭ শতক জমিতে বসতভিটা গড়ে তুললেও গত বছরের ভাঙনে তার প্রায় ৫ শতক জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে অবশিষ্ট অল্প জমিতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

নিজ বাড়ির সামনে ছোট একটি চা-বিস্কুটের দোকানই তার একমাত্র আয়ের উৎস। আসন্ন বর্ষা ও উজানের ঢলের আশঙ্কায় আবারও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে তার বসতভিটা। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্লাস্টিকের বস্তায় বালু ভরে নদীর তীরে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। প্রতিবেশীদের সহায়তায় ইতোমধ্যে শতাধিক বস্তা বসানো হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার এলাকায় পিয়ারি দাখিল মাদ্রাসার পাশে গিয়ে দেখা যায়, নিজের হাতে বালুর বস্তা সাজিয়ে ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করছেন এই বৃদ্ধ।

নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, “তিস্তার ভাঙনে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। এ বয়সে অনেক কষ্ট হয়, তবু শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর চেষ্টা করছি। সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো বসতভিটা রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও জানান, তার ২ মেয়ে ও ৪ ছেলে থাকলেও বসতভিটা না থাকায় তারা বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছেন। তিনি ও তার স্ত্রী এখন তিস্তার পাড়েই জীবনের শেষ আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় তিস্তার ভাঙনে নুরুজ্জামানের শেষ আশ্রয়টুকুও বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ