মায়ের মৃত্যুর ১৯ দিনের মাথায় বোনের লাশ বাড়িতে, সেই মুহূর্তেই চুরি জীবিকার একমাত্র ভ্যান
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই বড় বোনের মৃত্যু। সেই বোনের লাশ দাফনের জন্য বাড়িতে এনে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন ভ্যানচালক রোকনুজ্জামান রোকন (৪০)। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও মানবিক বেদনার সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্রবয়ড়া আব্দুল্লাহ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোকনুজ্জামান রোকন পেশায় একজন ভ্যানচালক। তার একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই ভ্যান। ভ্যান চালিয়েই কোনো রকমে চলছিল তার পরিবারের জীবিকা।
এরই মধ্যে মায়ের মৃত্যুতে পরিবারটি শোকে মুহ্যমান। হামিদা বেগম মারা যাওয়ার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার রাতে রোকনের বড় বোন বিউটি বেগম (৫০) তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে মারা যান।
শুক্রবার দুপুরে বোনের মরদেহ নিজ পৈতৃক বাড়িতে দাফনের উদ্দেশ্যে নিজের ভ্যানে করে নিয়ে আসেন রোকন। মরদেহ বাড়ির ভেতরে রাখার পর ভ্যানটি বাড়ির উঠানে রেখে তিনি স্বজনদের সঙ্গে দাফনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রকাশ্য দিবালোকে অজ্ঞাত চোরেরা তার একমাত্র জীবিকার অবলম্বন ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়।
ভ্যানটি না পেয়ে রোকন কান্নায় ভেঙে পড়েন। বোনের মৃত্যুর শোকের মধ্যেই জীবিকার একমাত্র সম্বল হারিয়ে তিনি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে আহাজারি করতে থাকেন। তার কান্নায় উপস্থিত স্বজন ও প্রতিবেশীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে স্থানীয় সমাজসেবক পলাশ মিয়া ফারুক ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি ভ্যানচালক রোকনের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতা করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিত্তবান মানুষের প্রতি রোকনের জন্য মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ভ্যানটি দ্রুত উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগ এবং অসহায় পরিবারটির পুনর্বাসনে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
মায়ের মৃত্যুর ১৯ দিনের মাথায় বোনের লাশ বাড়িতে, সেই মুহূর্তেই চুরি জীবিকার একমাত্র ভ্যান
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:- জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই বড় বোনের মৃত্যু। সেই বোনের লাশ দাফনের জন্য বাড়িতে এনে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন ভ্যানচালক রোকনুজ্জামান রোকন (৪০)। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও মানবিক বেদনার সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্রবয়ড়া আব্দুল্লাহ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোকনুজ্জামান রোকন পেশায় একজন ভ্যানচালক। তার একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই ভ্যান। ভ্যান চালিয়েই কোনো রকমে চলছিল তার পরিবারের জীবিকা।
এরই মধ্যে মায়ের মৃত্যুতে পরিবারটি শোকে মুহ্যমান। হামিদা বেগম মারা যাওয়ার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার রাতে রোকনের বড় বোন বিউটি বেগম (৫০) তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে মারা যান।
শুক্রবার দুপুরে বোনের মরদেহ নিজ পৈতৃক বাড়িতে দাফনের উদ্দেশ্যে নিজের ভ্যানে করে নিয়ে আসেন রোকন। মরদেহ বাড়ির ভেতরে রাখার পর ভ্যানটি বাড়ির উঠানে রেখে তিনি স্বজনদের সঙ্গে দাফনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রকাশ্য দিবালোকে অজ্ঞাত চোরেরা তার একমাত্র জীবিকার অবলম্বন ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়।
ভ্যানটি না পেয়ে রোকন কান্নায় ভেঙে পড়েন। বোনের মৃত্যুর শোকের মধ্যেই জীবিকার একমাত্র সম্বল হারিয়ে তিনি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে আহাজারি করতে থাকেন। তার কান্নায় উপস্থিত স্বজন ও প্রতিবেশীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে স্থানীয় সমাজসেবক পলাশ মিয়া ফারুক ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি ভ্যানচালক রোকনের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতা করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিত্তবান মানুষের প্রতি রোকনের জন্য মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ভ্যানটি দ্রুত উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগ এবং অসহায় পরিবারটির পুনর্বাসনে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন