ফরিদপুরে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
মো: শাহীন হাওলাদার স্টাফ রিপোর্টার:- ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাহিরদিয়া গ্রামের বাদশা মোল্লার ছেলে এনামুল মোল্লা (২৫) ইতালিতে বৈধভাবে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাউকে ইতালিতে পাঠানো হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে অর্থ নেওয়ার পর তাদের লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের কাছে জিম্মি করে মুক্তিপণের নামে আরও অর্থ আদায় করা হয়। এ সময় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। স্বজনদের দাবি, এখনও কয়েকজনের অবস্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুরুল মোল্লা এই চক্রের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলা হয়।
ভুক্তভোগী হুসাইন সর্দার বলেন, ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের সদস্যরা অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
অপর ভুক্তভোগী ওসমান মোল্লা জানান, ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে লিবিয়ায় আটকে রেখে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত এবং মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মনজুরুল মোল্লা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গ্রাম্য বিরোধের জেরে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার ছোট ভাই এনামুলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না।"
অভিযুক্ত এনামুল মোল্লা বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, "মানবপাচারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা ও মানবপাচার রোধে এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।"

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
ফরিদপুরে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
মো: শাহীন হাওলাদার স্টাফ রিপোর্টার:- ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাহিরদিয়া গ্রামের বাদশা মোল্লার ছেলে এনামুল মোল্লা (২৫) ইতালিতে বৈধভাবে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাউকে ইতালিতে পাঠানো হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে অর্থ নেওয়ার পর তাদের লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের কাছে জিম্মি করে মুক্তিপণের নামে আরও অর্থ আদায় করা হয়। এ সময় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। স্বজনদের দাবি, এখনও কয়েকজনের অবস্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুরুল মোল্লা এই চক্রের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলা হয়।
ভুক্তভোগী হুসাইন সর্দার বলেন, ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের সদস্যরা অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
অপর ভুক্তভোগী ওসমান মোল্লা জানান, ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে লিবিয়ায় আটকে রেখে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত এবং মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মনজুরুল মোল্লা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গ্রাম্য বিরোধের জেরে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার ছোট ভাই এনামুলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না।"
অভিযুক্ত এনামুল মোল্লা বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, "মানবপাচারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা ও মানবপাচার রোধে এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন