ডেইলি বাংল সংবাদ
প্রকাশ : রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দোয়ারাবাজারে প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবন ও মাদকের রাজত্ব যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে,

দোয়ারাবাজারে প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবন ও মাদকের রাজত্ব যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে,

দোয়ারাবাজারে প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবন ও মাদকের রাজত্ব যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে, 

​নিজস্ব প্রতিবেদক,সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের খাইরগাঁও মাজপাড়া গ্রামে মাদকের ভয়াবহতায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। গ্রামটিতে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে ইয়াবা, মদ ও গাজার মতো সর্বনাশা মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অভিযুক্ত এক যুবকের প্রকাশ্যে মাদক সেবনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে।

​অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম রিয়াজ উদ্দিন (লোভনীয় বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত সুরুজ আলী ওরফে লম্বাগেদার ছেলে), যিনি খাইরগাঁও মাজপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

​স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যেই ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার চালিয়ে আসছে। তার এই বেপরোয়া কার্যকলাপে এলাকার উঠতি বয়সী যুবসমাজ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঝুঁকছে। মাদকাসক্ত হয়ে অনেকেই অন্ধকার জীবনের পথ বেছে নিচ্ছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা আক্ষেপ করে জানান, এই রিয়াজের কারণে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যেই ইয়াবা, মদ ও গাজা বিক্রি করে। আমরা এর প্রতিকার চেয়ে বহুবার স্থানীয় প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে তাকে আটকও করে। কিন্তু কিছুদিন জেল খেটে জামিনে বা সাজা শেষ করে সে আবার এলাকায় ফিরে আসে এবং একই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের এহেন সাময়িক পদক্ষেপে মাদকের এই শেকড় মূল উৎপাটন হচ্ছে না।

​স্থানীয়দের অভিযোগের তীর কেবল রিয়াজের দিকেই নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন। অভিযোগ উঠেছে, কুখ্যাত মাদক কারবারি ও শেল্টার দাতা হাজারি বলু'র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আশ্রয়ে রিয়াজ এই অবৈধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছে। এই শেল্টার দাতার কারণে মাদক কারবারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

​এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা আর চাই না আমাদের যুবসমাজ এভাবে ধুঁকে ধুঁকে নষ্ট হোক। অবিলম্বে এই মাদক কারবারি রিয়াজ উদ্দিন ও তার শেল্টার দাতাদের গ্রেফতার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হোক।

​এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং সে অতীতেও মাদক মামলার জেরে জেল খেটেছে। পুলিশ অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং মাদকের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

খাইরগাঁওয়ের যুবসমাজকে বাঁচাতে এই মাদক কারবারি ও তার শেল্টার দাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে—এমনটাই আশঙ্কা সচেতন মহলের

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডেইলি বাংল সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দোয়ারাবাজারে প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবন ও মাদকের রাজত্ব যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে,

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দোয়ারাবাজারে প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবন ও মাদকের রাজত্ব যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে, 

​নিজস্ব প্রতিবেদক,সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের খাইরগাঁও মাজপাড়া গ্রামে মাদকের ভয়াবহতায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। গ্রামটিতে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে ইয়াবা, মদ ও গাজার মতো সর্বনাশা মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অভিযুক্ত এক যুবকের প্রকাশ্যে মাদক সেবনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে।

​অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম রিয়াজ উদ্দিন (লোভনীয় বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত সুরুজ আলী ওরফে লম্বাগেদার ছেলে), যিনি খাইরগাঁও মাজপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

​স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যেই ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার চালিয়ে আসছে। তার এই বেপরোয়া কার্যকলাপে এলাকার উঠতি বয়সী যুবসমাজ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঝুঁকছে। মাদকাসক্ত হয়ে অনেকেই অন্ধকার জীবনের পথ বেছে নিচ্ছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা আক্ষেপ করে জানান, এই রিয়াজের কারণে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যেই ইয়াবা, মদ ও গাজা বিক্রি করে। আমরা এর প্রতিকার চেয়ে বহুবার স্থানীয় প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে তাকে আটকও করে। কিন্তু কিছুদিন জেল খেটে জামিনে বা সাজা শেষ করে সে আবার এলাকায় ফিরে আসে এবং একই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের এহেন সাময়িক পদক্ষেপে মাদকের এই শেকড় মূল উৎপাটন হচ্ছে না।

​স্থানীয়দের অভিযোগের তীর কেবল রিয়াজের দিকেই নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধন। অভিযোগ উঠেছে, কুখ্যাত মাদক কারবারি ও শেল্টার দাতা হাজারি বলু'র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আশ্রয়ে রিয়াজ এই অবৈধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছে। এই শেল্টার দাতার কারণে মাদক কারবারিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

​এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা আর চাই না আমাদের যুবসমাজ এভাবে ধুঁকে ধুঁকে নষ্ট হোক। অবিলম্বে এই মাদক কারবারি রিয়াজ উদ্দিন ও তার শেল্টার দাতাদের গ্রেফতার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হোক।

​এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং সে অতীতেও মাদক মামলার জেরে জেল খেটেছে। পুলিশ অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং মাদকের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

খাইরগাঁওয়ের যুবসমাজকে বাঁচাতে এই মাদক কারবারি ও তার শেল্টার দাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে—এমনটাই আশঙ্কা সচেতন মহলের


ডেইলি বাংল সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মনিরুল ইসলাম । নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাহবুব হাসান পাটোয়ারী


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ডেইলি সংবাদ