এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষককে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে
মোঃ খাইরুল ইসলাম শ্রীপুর উপজেলার প্রতিনিধি গাজীপুর:- গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ধামলই মুন্সি বাড়ি এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষককে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত বিরোধ, সামাজিক প্রতিহিংসা এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
অভিযুক্ত শিক্ষক উজ্জ্বল হোসেন ধামলই উচ্চ বিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি সম্প্রতি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রায় তিন মাস আগে বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেন। তিনি ওই এলাকার প্রবাসী জামাল মুন্সির মেয়েকে ব্যক্তিগতভাবে পড়াতে যেতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রবাসী জামাল মুন্সির বাড়িতে উজ্জ্বল হোসেনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়। এরপর তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। শনিবার সকালে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ বাড়ির সামনে ভিড় করেন।
তবে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন অভিযুক্ত নারী। তিনি দাবি করেন, তাকে ও শিক্ষককে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তার ভাষ্য, পারিবারিক ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা সাজানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী জামাল মুন্সির পরিবারের সঙ্গে তার স্বজনদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিরোধের জের ধরেই ঘটনার রাতে বাড়ির বাইরে থেকে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করা কয়েকজন যুবক বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে বাড়ির ভেতরে দেখতে পান। তাদের দাবি, ঘটনাটি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে তারা যে ভিডিও ধারণ করেছেন, সেটি কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযোগ করেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক উজ্জ্বল হোসেনের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথমে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পাদিত বলে দাবি করেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি। তবে এ বিষয়ে তার পূর্ণাঙ্গ লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধামলই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। প্রাথমিকভাবে শুনেছি, তিনি ওই বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে পড়াতে যেতেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে পরকীয়ার অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত বিরোধ, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষককে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে
মোঃ খাইরুল ইসলাম শ্রীপুর উপজেলার প্রতিনিধি গাজীপুর:- গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ধামলই মুন্সি বাড়ি এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষককে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে পরকীয়ার অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত বিরোধ, সামাজিক প্রতিহিংসা এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
অভিযুক্ত শিক্ষক উজ্জ্বল হোসেন ধামলই উচ্চ বিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি সম্প্রতি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রায় তিন মাস আগে বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেন। তিনি ওই এলাকার প্রবাসী জামাল মুন্সির মেয়েকে ব্যক্তিগতভাবে পড়াতে যেতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রবাসী জামাল মুন্সির বাড়িতে উজ্জ্বল হোসেনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়। এরপর তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। শনিবার সকালে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ বাড়ির সামনে ভিড় করেন।
তবে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন অভিযুক্ত নারী। তিনি দাবি করেন, তাকে ও শিক্ষককে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তার ভাষ্য, পারিবারিক ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা সাজানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী জামাল মুন্সির পরিবারের সঙ্গে তার স্বজনদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিরোধের জের ধরেই ঘটনার রাতে বাড়ির বাইরে থেকে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করা কয়েকজন যুবক বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে বাড়ির ভেতরে দেখতে পান। তাদের দাবি, ঘটনাটি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে তারা যে ভিডিও ধারণ করেছেন, সেটি কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযোগ করেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক উজ্জ্বল হোসেনের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথমে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পাদিত বলে দাবি করেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি। তবে এ বিষয়ে তার পূর্ণাঙ্গ লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধামলই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। প্রাথমিকভাবে শুনেছি, তিনি ওই বাড়িতে ব্যক্তিগতভাবে পড়াতে যেতেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে পরকীয়ার অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত বিরোধ, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন